হায়া সোফিয়া মসজিদের প্রাচীনতম ইতিহাস

বায়তুল্লাহ বা কাবা ঘর এক সময় মুর্তিতে ভরা ছিল। তার আগে এক দম শুরুতে  তখন মুর্তি ছিল না।কালের বিবর্তনে মানুষ আস্তে আস্তে কাবা ঘরের এলাকার লোকজন মুর্তির দিকে ‍ঝুকে পড়ে।আবার ইসলামের  আগমে ঐ এলাকার লোকজন  ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়াতে তা আবার কাবা ঘর সৃষ্টির শুরুর পর্যায়ে চলে আসে।
বর্তমানে ফ্রান্সে শত শত গীর্জা বিক্রি হচ্ছে, আর তা মুসলমান ধর্মের অনুসারীরা কিনে নিয়ে  ইবাদত খানা বা মসজিদ রুপান্তর করছে।হায়া সোফিয়া ঠিক তাই।
হায়া সোফিয়া মসজিদের প্রাচীনতম ইতিহাস
“হায়া সোফিয়া তো প্রথমে গীর্জা ছিল! খ্রিষ্টানদের চেয়ে মুসলমানদের কাছে এটি তুলনামূলক কম সময়ই ছিল, তাহলে কেন? কোন বিচারে একে মসজিদে রূপান্তর করা হলো? কামাল পাশা একে জাদুঘরে রূপান্তর করেছেন এতে ভুল কি হলো? এটা কি বেয়াইনি নয়?” অন্যান্য ধর্মের প্রতি আদালতের শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত ছিল। ইত্যাদি নানান অভিযোগ ছুঁড়ে নামধামী সুশীল সমাজ আর বিকৃত ইসলামী বিদ্বেষী মিডিয়াগুলো , তারা কষ্টে জ্বলে-পুরে ছাড়খার। তাদের সব প্রশ্নের জবাব এই মসজিদের ইতিহাস ছোট্ট করে তুলে ধরছি।
পত্রপত্রিকায় আয়া সোফিয়ার ঘটনা পড়ে কিছু দ্বিধা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তরের গ্রাউন্ড কী? বলা হচ্ছে, আগে এটি মসজিদ ছিল। কিন্তু তারও আগে ছিল গির্জা। ইনফ্যাক্ট, এটার নির্মান হয়েছিল খ্রিষ্টীয় ধর্মের স্থাপনা হিসেবে। তাহলে মসজিদে থেমে যাওয়া কি এরদোয়ানের সুলতানি অভিলাষের রাষ্ট্রীয় দখলদারিত্ব? এটা যদি নায্য হয়, তবে অন্য কেউ ক্ষমতা পেলে তার আদর্শিক স্থাপনায় রূপান্তর করা কি একইরকম যুক্তিযুক্ত মনে হবে?
প্রথমত, ৫৩৭ সালে আয়া সোফিয়া গির্জা হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন উপভাগের অধীনে এটার কর্তৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে
দ্বিতীয়ত, অটোমান সাম্রাজ্যের ইস্তানবুল বিজয়ের পরে ফাতিহ সুলতান মেহমেদ স্থাপনাটি খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে নিজের টাকায় কিনে নেন। যুদ্ধজয়ী বীর মেহমেদ চাইলে বিজিত স্থাপনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় দখলে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি এটাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ক্রয় করেন। খ্রিষ্টান উপাসকরা এটি বিক্রি করার মাধ্যমে সমস্ত দাবি ছেড়ে দিয়েছেন। তুরস্কের অন্যান্য গির্জা খ্রিষ্টানদের প্রার্থনাগার হিসেবে চালু ছিল
তৃতীয়ত, ১৪৫৩ সালে ফাতিহ সুলতান মেহমেদ তার এই ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে মসজিদে রূপান্তর করেন। ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষতিসাধন না করে নামাজের উপযোগী করতে মূর্তিগুলো সাদা কাপড়ে ঢেকে দেন‍‍। পরবর্তীতে আরও সংস্কার সাধন করেন এবং ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে উইল করেন। ওয়াকফ বোর্ড, সরকার বা অন্য কারও পক্ষে এটার হস্তান্তর, বিক্রয় ও পরিবর্তন নিষিদ্ধ করেন
চতুর্থত, ১৯৩৫ সালে কামাল আতাতুর্ক এখতিয়ারবহির্ভূত কর্তৃত্বে আয়া সোফিয়া মসজিদকে জাদুঘরে রূপান্তর করেন। ব্যক্তিগত ওয়াকফ সম্পত্তিকে রাষ্ট্রীয় দখলদারিত্বে পরিবর্তন করা ছিল আতাতুর্কের সেক্যুলার গুন্ডামি। সে প্রকৃত মুসলমান ছিল না । সে ছিল এজিদী মুসলমান।তার ব্যক্তি ও রাষ্ট্রী জীবনে ধর্ম কর্ম কিছু ছিল না।আসলে সে তুস্কর এর জনক না বরং তুরস্ক এর ধবংসকারী।
 পঞ্চমত, ২০২০ সালে তুরস্কের আদালত কামাল আতাতুর্কের ওই পদক্ষেপকে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করেছে
ষষ্ঠত, আয়া সোফিয়ার উপরে গির্জার কোনো দাবিই নেই। ওটার মিউচুয়াল মিমাংসা হয়ে গেছে বহু আগে। আর জাদুঘর বনাম মসজিদ বিতর্কেও আদালতের এসেছে। তুর্কি জনগণের প্রতি অন্যায়ের বিচার হয়েছে, তাদের অধিকার কায়েম হয়েছে
এখন ইস্রাঈল, চীন ও ভারতে কি হচ্ছে, সেখানে হাজার হাজার মসজিদকে গীর্জা, মন্দির ও ইহুদীর প্রাথর্নার স্থান রুপান্তর করে নিচ্ছে।আসলে সেখানে এক সময় মুসলমান ছিল, বর্তমানও আছে,তারপরও।   ঘর গুলো মসজিদ ছিল, সরকার ও রাষ্ট্রী নীতিমালা তৈরী করে রাস্ট্রীভাবে মসজিদ থেকে মন্দি বা অন্য ধর্মীয় স্থান রুপান্তর করা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ব তা নিয়ে এক দম চুপ।
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *