হায়াতুন্নবী” বা জিন্দা নবী না মানলে প্রকৃত মুমিন না।

(মানা ফরজ না মানা শাফায়াত মানা)

হায়াতুন নাবী (ﷺ) | সমস্ত নবী (আঃ) কবরে জিবীত আস্সালামু আলাইকুমবিসমিল্লাহির রহমানির রহিম প্রীয় পাঠক আজ আকিদা বিষয়ক একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা হল,”হায়াতুন নবী (ﷺ)” বা ”জিন্দা নাবী (ﷺ)” আমরা সকলে জানি আমাদের নবী হজরত মোহাম্মাদ (ﷺ) ও সমস্ত নবী (আঃ) ইন্তেকাল করেছেন । তবে সমস্ত নবীগণ (আঃ) কবরে জিন্দা ও আমাদের নবীকে ”হায়াতুন নবী (ﷺ)” কেন বলা হয় এই বিষয়টি সঠিক ভাবে জানব । ”হায়াতুন নবী (ﷺ)” সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা জানতে নিম্নের সম্পূর্ণ পোষ্টটি পড়ুন । নিম্নের সম্পূর্ণ পোষ্টটি পড়ার পর  ”হায়াতুন নবী (ﷺ)” সম্পর্কে আপনার ধারনা পরিস্কার হবে । ইন শা অল্লাহ । আমরা সকলে জানি যাহারা আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যু বরণ করেন তাদের শহিদ বলা হয় । তাদের শাহাদাতের পর জানাজা পড়ে দাফন করা হয় । পরিবারের মানুষ ও সঙ্গী সাথীরা বলেন সে মৃত্যু বরণ করেছেন বা শাহাদত বরন করেছেন বা সে আর জীবিত নেই । মানুষ তাদের মৃত্যু বলে । অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন “ আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার না।” (সুরা আল-বাকারাহ-আয়াত ১৫৪)  আল্লাহ তায়ালা সম্পূর্ণ রূপে শহিদগণকে মৃত বলতে বারণ করেছেন । তাহারা মৃত্যু বরণ করেছেন, তবে আল্লাহ তায়ালা কেন তাদের জীবিত বলছেন?  তাহারা কি রূপ জীবিত সেটা আমরা জনব । শহিদগণের চেয়ে আমাদের নবী (ﷺ) এ মরযদা অনেক বেশি তাহলে আমাদের  নবী (ﷺ) কেন জীবিত হবেন না ?  আমাদের নবী (ﷺ) কবরে জীবিত ,তিনি ইন্তেকালের পর কি রূপ জীবিত সেটা দলীল দ্বারা জানব, ইন শা আল্লাহ । নিম্নে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হল আমাদের নবী (ﷺ) ও সমস্ত নবী (আঃ) কবরে জীবিত তার কিছু দলীলদলীল নাম্বর ১ :-  عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ – يَعْنِي بَلِيتَ – ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ ‏”‏ ‏.‏ হজরত হাস্সাদ বিন আওস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত ,তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম দিন হলো জুমাআহর দিন। এ দিন আদম (আলাইহিস সালাম) -কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং তাতে বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার উপর প্রচুর পরিমানে দুরূদ পাঠ করো। তোমাদের দুরূদ অবশ্যই আমার নিকট পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কিভাবে আমাদের দুরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো অচিরেই মাটির সাথে একাকার হয়ে যাবেন? তিনি বলেন, আল্লাহ ,নবীগণের দেহ ভক্ষণ মাটির জন্য হারাম করেছেন।  (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৮৫) দলীল নম্বর ২ :- وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «أَكْثِرُوا الصَّلَاةَ عَلَيَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَإِنَّه مَشْهُودٌ تَشْهَدُهُ الْمَلَائِكَةُ وَإِنَّ أَحَدًا لَنْ يُصَلِّىْ عَلَيَّ إِلَّا عُرِضَتْ عَلَيَّ صَلَاتُه حَتّى يَفْرُغَ مِنْهَا» قَالَ: قُلْتُ: وَبَعْدَ الْمَوْتِ؟ قَالَ: «إِنَّ اللّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ فَنَبِيُّ اللّهِ حَيٌّ يُرْزَقُ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ হজরত আবুদ্ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা জুমু’আর দিন আমার প্রতি বেশী পরিমাণ করে দরূদ পড়ো। কেননা এ দিনটি হাজিরার দিন। এ দিনে মালায়িকাহ্ (ফেরেশ্‌তাগণ) হাজির হয়ে থাকেন। যে ব্যক্তি আমার ওপর দরূদ পাঠ করে তার দরূদ আমার কাছে পেশ করা হতে থাকে, যে পর্যন্ত সে এর থেকে অবসর না হয়। আবূদ্ দারদা বলেন, আমি বললাম, মৃত্যুর পরও কি? তিনি (ﷺ)  বললেন: আল্লাহ তা’আলা নাবীদের শরীর ভক্ষণ করা মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন। অতএব নাবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) ক্ববরে জীবিত এবং তিনাদেরকে  রিজিক দেওয়া হয়। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৩৬৬) উপরে হাদিসে (১ নং দলীল এ) আরমা জেনেছিলাম নবী (আলাইহিমুস সালাম) কবরে জিবীত কিন্তু ২য় হাদিসে আর একটু বেসি কিছু জানতে পারলাম তা হল,নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম)  কবরে আল্লাহর পক্ষ থেতে রিজিকও পেয়ে থাকেন । দলীল নম্বর ৩ :- হজরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (ﷺ)  বলেন, الانبياء احياءٌ فى قبورهم و يصلون ” নবীগণ নিজ নিজ কবরে জিবীত এবং নামাজ আদায় করে “ ৷ ( বাইহাকী,খাসাইসুল কুবরা) আমরা উপরে তিনটি হাদিস দ্বারা স্পস্ট জানতে পারলাম নবীগণ  (আলাইহিমুস সালাম) কবরে জিবীত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যে খাবার আসে তা তিনারা খেয়ে থাকেন এবং তিনারা কবরে নামাজ পড়েন । আল্লাহ তায়ালা তিনাদের এমন ক্ষমতা প্রদান  করেছেন ।  এবার সামনে একটু আলোচনা আগে বাড়ায় – দলীল নম্বর ৪ :- হজরত আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ) থেকে বর্ণিত – أن النبي ﷺ قال: ما من أحد يسلم علي إلا رد الله علي روحي حتى أرد عليه السلام ”নবী (ﷺ)  বলেন, কোনো মুসলমান আমাকে সালাম দিলে আল্লাহ তায়ালা আমার রূহ ফিরিয়ে দেবেন এবং আমি তার সালামের উত্তর দেব” (আবু দাউদ-সহি সানাদে বর্ণনা করেছেন ) নবী (ﷺ) কে কোনো মুসলমান যদি সালাম দেন তাহলে আল্লাহ তায়ালা নবী (ﷺ) এর রূহ মোবারক শরীরের মধ্যে ফিরিয়ে দেন এবং নবী (ﷺ) সালামের উত্তর দেন । একটু চিন্তা করুন পৃথিবীতে বর্তমান কত মানুষ নবী (ﷺ) কে সালাম দেয় । সত্য কথা হল এমন কোন মূহুর্ত নেয় যে নবী (ﷺ) কে কেও সালাম দেয়না ,সর্বদা কেওনা কেও সালাম দিতেই আছে ,ফলে নবী (ﷺ) কবরে সর্বদা  জিবীত ,আমরা উপরে সবগুলি হাদিস দ্বারা স্পস্ট জানতে পারলাম নবীগণ  (আলাইহিমুস সালাম) কবরে জিবীত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যে খাবার আসে তা তিনারা খেয়ে থাকেন এবং তিনারা কবরে নামাজ পড়েন এবং কেও সালাম করলে তার উত্তর দেন । আল্লাহ তায়ালা তিনাদের এমন ক্ষমতা প্রদান  করেছেন । দলীল নম্বর ৫ :- আসাস ইবনু মালিক  (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ) রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘(ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি মক্কায় থাকা অবস্থায় আমার গৃহের ছাদ উন্মুক্ত করা হ’ল। অতঃপর জিব্‌রীল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হয়ে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করলেন। অতঃপর হিকমাত ও ঈমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বুকের মধ্যে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে চললেন। পরে যখন দুনিয়ার আকাশে আসলাম জিব্‌রীল (আলাইহিস সালাম) আসমানের রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। আসমানের রক্ষক বললেনঃ কে আপনি? জিব্‌রীল (‘আঃ) বললেনঃ আমি জিব্‌রীল (আলাইহিস সালাম)। (আকাশের রক্ষক) বললেনঃ আপনার সঙ্গে কেউ রয়েছেন কি? জিব্‌রীল বললেনঃ হাঁ মুহাম্মাদ (ﷺ) রয়েছেন। অতঃপর রক্ষক বললেনঃ তাকে কি ডাকা হয়েছে? জিব্‌রীল বললেনঃ হাঁ। অতঃপর যখন আমাদের জন্য দুনিয়ার আসমানকে খুলে দেয়া হল আর আমরা দুনিয়ার আসমানে প্রবেশ করলাম তখন দেখি সেখানে এমন এক ব্যক্তি উপবিষ্ট রয়েছেন যার ডান পাশে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি রয়েছে আর বাম পাশে রয়েছে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন হেসে উঠছেন আর যখন বাম দিকে তাকাচ্ছেন কাঁদছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ স্বাগতম ওহে সৎ নবী ও সৎ সন্তান। আমি (রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) জিব্‌রীল (আলাইহিস সালাম)-কে বললামঃ কে এই ব্যক্তি? তিনি জবাব দিলেনঃ ইনি হচ্ছেন আদম (আলাইহিমুস সালাম)। আর তাঁর ডানে বামে রয়েছে তাঁর সন্তানদের রূহ। তার মধ্যে ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বাম দিকের লোকেরা জাহান্নামী। ফলে তিনি যখন ডান দিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। অতঃপর জিব্‌রীল (আলাইহিস সালাম) আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। অতঃপর তার রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। তখন এর রক্ষক প্রথম রক্ষকের মতই প্রশ্ন করলেন। পরে দরজা খুলে দেয়া হল। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ্‌ (ﷺ) আসমানসমূহে আদম, ইদরীস, মূসা, ‘ঈসা এবং ইব্‌রাহীম (‘আলাইহিমুস সালাম)-কে পান। কিন্তু আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাদের স্থানসমূহ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আদম (‘আঃ)-কে দুনিয়ার আকাশে এবং ইব্‌রাহীম (‘আঃ)-কে ষষ্ঠ আসমানে পান।
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, জিব্‌রীল (আলাইহিমুস সালাম) যখন নবী (ﷺ) কে নিয়ে ইদরীস (আলাইহিমুস সালাম) নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন তখন ইদরীস (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ মারহাবা ওহে সৎ ভাই ও পুণ্যবান নবী। আমি (রসূলুল্লাহ্‌ – ﷺ) বললামঃ ইনি কে? জিব্‌রীল বললেন, ইনি হচ্ছেন ইদরীস (আলাইহিমুস সালাম)। অতঃপর আমি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেন, মারহাবা হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিব্‌রীল বললেন, ইনি মূসা (আলাইহিস সালাম)। অতঃপর আমি ‘ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেন, মারহাবা হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললাম, ইনি কে? জিব্‌রীল (আলাইহিস সালাম) বললেন, ইনি হচ্ছেন ‘ঈসা (আলাইহিস সালাম)। অতঃপর আমি ইব্‌রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বলেন, মারহাবা হে পুণ্যবান নবী ও নেক সন্তান। আমি বললামঃ ইনি কে? জিব্‌রীল (আলাইহিস সালাম) বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইব্‌রাহীম (আলাইহিমুস সালাম)। ইব্‌নু শিহাব বলেন, ইব্‌নু হায্‌ম (রহঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইব্‌নু ‘আব্বাস ও আবূ হাব্বা আল-আনসারী উভয়ে বলতেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অতঃপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হল অতঃপর এমন এক সমতল স্থানে এসে আমি উপনীত হই যেখানে আমি লেখার শব্দ শুনতে পাই। ইব্‌নু হায্‌ম ও আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেনঃ অতঃপর আল্লাহ আমার উম্মাতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করে দেন। অতঃপর তা নিয়ে আমি ফিরে আসি। অবশেষে যখন মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করি তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা আপনার উম্মাতের উপর কি ফরয করেছেন? আমি বললামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তিনি বললেন, আপনি আপনার পালনকর্তার নিকট ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মাত তা পালন করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ তা’আলা কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর নিকট পুনরায় গেলাম আর বললামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার রবের নিকট ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মাত এটিও আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেয়া হল। আবারো মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট গেলাম, এবারো তিনি বললেন, আপনি পুনরায় আপনার প্রতিপালকের নিকট যান। কারণ আপনার উম্মত এটিও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি পুনরায় গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাঁচই (নেকির দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (বলে গণ্য হবে)। আমার কথার কোন রদবদল হয় না। আমি পুনরায় মূসা (‘আঃ)-এর নিকট আসলে তিনি আমাকে আবারও বললেন, আপনার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় যান। আমি বললাম, পুনরায় আমার প্রতিপালকের নিকট যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। অতঃপর জিব্‌রীল (আলাইহিস সালাম) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে আবৃত ছিল, যার তাৎপর্য আমি অবগত ছিলাম না। অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলে আমি দেখতে পেলাম যে, তাতে রয়েছে মুক্তোমালা আর তার মাটি হচ্ছে কস্তুরী। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪৯)


নবীগণ ইন্তেকালের পর কবরে জিবীত রয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা তিনাদের জিবীত রেখেছেন,এবং তিনারা যখন যেখানে ইচ্ছা যেতে পারেন ,উপরের হাদিসগুলি দ্বারা তা স্পস্ট প্রমানিত হয়েছে, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনাদের এই ক্ষমতা দান করেছেন ।  
★★কোরআন-হাদিসের আলোকে “হায়াতুন্নবী” বা জিন্দা নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রমাণ:★★ ফেসবুকে অনেক ভাই-বোনদের ভ্রান্ত আক্বিদা দেখে অভাক হই,তাই চেষ্টা করি কোরঅান-হাদিসের আলোকে সমাধান দিতে।এক ভাই তার স্ট্যাটাসের মধ্যে কিছু কোরআনের আয়াত দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হায়াতুন্নবী নবী,জিন্দা নবী অস্বীকার করেছে, মৃত নবী বলে নবীপাকের শানে বিয়াদবী করেছে।এ জন্যই এই পোস্টটি করার মূল উদ্দেশ্য।পোস্টটি একটু লম্বা হয়ে গেছে,দয়া করে একটু কষ্ট করে পুরো পোস্টটি পড়বেন। “প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।”
(সুরা আলে ইমরান,আয়াত ১৮৫) নবী – রাসুলগণ (আলাইহিস সালাম) এর মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আবার আল্লাহ তায়ালা বলেন:– ﻭَﻻَ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻟِﻤَﻦْ ﻳُﻘْﺘَﻞُ ﻓِﻲ ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻣْﻮَﺍﺕٌ ﺑَﻞْ ﺃَﺣْﻴَﺎﺀ
ﻭَﻟَﻜِﻦ ﻻَّ ﺗَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ 154 – ) আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না।বরং তারা জীবিত।তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না।
{সূরা বাকারা-১৫৪} উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে,শহীদগণ কবরে জীবিত। নোট: দেখুন শহীদগণ মৃত্যুর পরেও তারা জীবিত,সুতরাং এইখানে মৃত্যু হচ্ছে ইহকাল থেকে পরকালে যাবার
একটি সেতু ,শহীদগনের অনেক উর্দ্ধে নবীদের স্থান! আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ব্যাপারে আসছে: ﻛَﻴْﻒَ ﺇِﺫَﺍ ﺟِﺌْﻨَﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺃﻣَّﺔٍ ﺑِﺸَﻬِﻴﺪٍ ﻭَﺟِﺌْﻨَﺎ ﺑِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻫَـﺆُﻻﺀ
ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ “তবে কেমন হবে যখন আমি (আল্লাহ) প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো, এবং হে মাহবুব! আপনাকে তাদের সবার ব্যাপারে সাক্ষী ও পর্যবেক্ষণকারীস্বরূপ উপস্থিত করবো?” (৪:৪১) মহানবী,( ﷺ ) যা জানেন না বা দেখেননি সে সম্পর্কে তো তাঁকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে বলা হবে না। ﻭَﺍﻋْﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ “এবং জেনে রেখো,তোমাদের মধ্যে
আল্লাহর রাসূল,
( ﷺ)
রয়েছেন” (৪৯:৭)। ْ ﻭَﺳَﻴَﺮَﻯ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻋَﻤَﻠَﻜُﻢْ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ , “অতঃপর তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল,( ﷺ)” [৯:৯৪] ﻭَﻗُﻞِ ﺍﻋْﻤَﻠُﻮﺍْ ﻓَﺴَﻴَﺮَﻯ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻋَﻤَﻠَﻜُﻢْ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ
ﻭَﺳَﺘُﺮَﺩُّﻭﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺎﻟِﻢِ ﺍﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬَﺎﺩَﺓِ ﻓَﻴُﻨَﺒِّﺌُﻜُﻢ ﺑِﻤَﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ( 105 এবং “আপনি বলুন: আমল করে যাও; অতঃপর তোমাদের আমল প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল,
( ﷺ ) এবং মো’মেন
মুসলমানবৃন্দ” (৯:১০৫) নোট: সুতরাং যিনি মৃত্যুুর পরেও উম্মতের আমলনামা প্রত্যক্ষ করবেন! ইবনুল কায়্যিম:- লিখেন যে- “যদিও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক হযরত আম্বীয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর রূহের সাথে রফীকে আলায় এ রয়েছেন,কিন্তু এতদ্বসত্বেও তাঁর রূহ মোবারক তাঁর শরীর মোবারকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে,যে কারণে তিনি সালাম দাতার উত্তর দিয়ে থাকেন
(যাদুল মা’আদ খন্ড:- ২, পৃঃ ৪৯) “সহীহ হাদিসের আলোকে“ হায়াতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম) ও অন্যান্য আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম)-বৃন্দ তাঁদের মাযার-রওজায় জীবিতাবস্থায় বর্তমান। ★দলিল:-০১ হযরত আনাস বিন মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস, যিনি বলেন: “আমি আগমন করি”; আর হযরত হাদ্দিব(রাদ্বিয়াল্লাহু অানহু)-এর বর্ণনায় হাদীসের কথাগুলো ছিলো এ রকম– “মে’রাজ রজনীতে ভ্রমণের সময় আমি লাল টিলার সন্নিকটে হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে অতিক্রমকালে তাঁকে তাঁর রওযা শরীফে নামায আদায়রত অবস্থায় দেখতে পাই।
[সহীহ মুসলিম,বই নং ৩০, হাদীস নং–৫৮৫৮] ★দলিল:-০২ হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছিলাম।আমি দেখলাম,আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো সাথে মুসাফাহা করলেন,অথচ আমি কাউকে দেখলামনা।
আমরা বললাম,হে আল্লাহর রাসুল,
আপনি কারো সাথে মুসাফাহা করলেন,অথচ আমরা তাঁকে দেখলামনা।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,“উনি হচ্ছেন আমার ভাই ঈসা ইবনু মারইয়াম।আমি তাঁর
তাওয়াফ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিলাম,অতঃপর(তাওয়াফ শেষ হলে) আমি তাঁকে সালাম দিলাম।
রেফারেন্সঃ
(তাফসীরে রুহুল মা’আনী-১১/২১৮) বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম
কাস্তাল্লানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
“এ কথা প্রমাণিত যে,আম্বিয়ায়ে কেরাম হজ্জ করেন এবং তালবিয়াহ পাঠ করেন”।
রেফারেন্সঃ
(যারকানী ‘আলাল মাওয়াহিবঃ৭/৩৬৫, ১১/৩৬৭) ★দলিল:- ০৩ অতঃপর আমি মসজিদটির কিবলার দিকে এলাম।তারপর তিনি ওখানে বুরাকটি বাঁধলেন।তারপর আমি বাইতুল মুকাদ্দাসের মুসজিদে-আকসায় ঢুকলাম।অতঃপর আমার সামনে নবীদের জমায়েত করা হল।তারপর জিবরীল আমাকে এগিয়ে দিলেন। পরিশেষে আমি তাঁদের ইমামতি করলাম।
(তফসীর ইবনে কাসীর,৩য় খণ্ড,৭মপৃষ্ঠা) ★দলিল:- ০৪ বাইহাকীর বর্ণনায় আছে, পৃথিবীর অতি নিকটবর্তী ফেরেশতার নাম ইসমাঈল।তার সামনে আছে সত্তর হাজার ফেরেশতা।তাঁর প্রত্যেক ফেরেশতার সাথে একলাখ ফেরেশতার বাহিনী আছে।
তিনি বলেন, অতঃপর জিবরীল আকাশটির দরজা খোলার প্রার্থনা করলেন।বলা হলো, কে? তিনি বললেন,জিবরীল।
আবার বলা হলো,আপনার সাথে কে? তিনি বললেন,মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
বলা হয়, তাঁর কাছে লোক পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর আদম (আলাইহিস সালাম) কে সেই আকৃতিতে দেখা গেলো যে-আকৃতিতে আল্লাহ তাকে প্রথম দিনে সৃষ্টি করেছিলেন।
(তাফসীর ইবনে কাসীর ৩য় খন্ড,১৩পৃষ্ঠা)। ★দলিল:- ০৫ তারপর আমাদের ২য় আসমানে চড়ানো হলো।অতঃপর জিবরাঈল দরজা খোলার প্রার্থনা করলেন।তখন বলা হল,আপনি কে? তিনি বললেন জিবরীল।বলা হল, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।বলা হলো, তার কাছে (দূত) পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, পাঠানো হয়েছে।
অতঃপর আমাদের জন্য দরজা খোলা হলো।হঠাৎ আমি দুই খালাতো ভাইকে পেলাম।তারা হলেন,ঈসা ইবনে মারয়্যাম
এবং ইয়াহ্ইয়া ইবনে যাকারিয়্যা।তারা দু’জন আমাকে স্বাগতম জানালেন এবং আমার ভালোর জন্য দুআ দিলেন।
(মুসলিম,১ম খন্ড,৯১ পৃষ্ঠা)। ★দলিল:- ০৬ তারপর একে একে চতুর্থ আকাশে হযরত ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম),পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন (আলাইহিস সালাম), ষষ্ঠ আকাশে হযরত মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন।তারপর সপ্তম আসমানে হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে—জিবরীল
(আলাইহিস সালাম) বললেন,ইনি আপনার বংশ পিতা,তাঁকে সালাম করুন।তাই আমি তাকে সালাম দিলাম।তিনিও সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন সত্য পুত্র ও সত্য নবীকে স্বাগতম।
তারপর আমাকে সিদ্রাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত তোলা হল।অত:পর হঠাৎ দেখলাম, ওর ফলগুলো বড় বড় কলসির মত এবং ওর পাতাগুলো হাতীর কানের মত।তিনি বললেন,এটা সিদ্রাতুল মুন্তাহা।ওখানে ৪টি নদী আছে।দুটি নদী ভেতরমুখী এবং দুটি নদী বাহিরমুখী।আমি বললাম,এ দুটি কি? হে জিবরায়ীল! তিনি বললেন,ভেতরমুখী দুটো জান্নাতের মধ্যকার নদী।আর বাহিরমুখী দু’টি (মিসরের) নীল এবং (ইরাকের) ফোরাত নদী। তারপর আমার জন্য বাইতুল মা’মূরকে তোলা হলো।তারপর আমার কাছে কতিপয় পাত্র আনা হল- মদের পাত্র ও দুধের পাত্র এবং মধুর পাত্র।আমি দুধটাকে গ্রহণ করলাম। জিবরীল বললেন,এটাই তো প্রকৃত স্বভাব যার উপরে আপনি আছেন এবং আপনার উম্মতও আছেন
(বুখারী ও মুসলিম,মিশকাত, ৫২৭পৃষ্ঠা) ★দলিল:- ০৭ আমি আসমানে বাইতুল মামুরে পিট ঠেকিয়ে সুন্দরতম পুরুষের বেশে আমাদের বংশ পিতা হযরত
ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে দেখলাম।তার সঙ্গে কিছু লোকও
ছিলো।অতঃপর আমি তাঁকে সালাম দিলাম।তিনিও আমাকে সালাম দিলেন।অতঃপর আমি আমার উম্মতকে দু’টি দলে দেখলাম।
একটি ভাগ এমন যাদের দেহে সাদা কাপড় রয়েছে।তারা যেন
কাগজের মত।আর একটি ভাগ এমন যাদের দেহে ছাইরং কাপড়
রয়েছে।অত:পর আমি বাইতুল মামূরে প্রবেশ করলাম।
(বাইহাকীর দালা-য়িলুন নুবুওঅহ্, ২য় খন্ড- ১৩৯ পৃষ্ঠা) ★দলিল:- ০৮ সুনানে বাগজারে সহিহ সনদে বর্ণিত হাদিস আল্লাহর হাবিব হুজুরপাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এরশাদ করেন উনার সাহাবিদেরকে,আমার ওফাতের পর তোমরা বিলাপ করে কেঁদোনা। কেননা আমি রাসুল সবার মতো মারা যাবোনা।আমি রাসুল রওজা শরীফ হতে তোমাদের আমল দেখতে পাবো।যখন দেখবো তোমরা ভালো কাজ করছো তখন আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবো আর যখন দেখবো তোমরা খারাপ কাজ করছো তখন আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবো হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন নবীরা কবরে জীবিত।আর তারা সেখানে নামায পড়েন।
{মুসনাদুল বাজ্জার,হাদীস নং- ৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা,হাদীস নং-৩৪২৫,
সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ,হাদীস} মুসলমানদের আকিদা হচ্ছে-রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলমে বরযখে নিজ কবর মুবারকে সশরীরে জীবিত আছেন।তাইতো কোনো মুসলমান দূর থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ……..করলে সেই ব্যক্তির পক্ষ
থেকে তা ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট পৌঁছানো হয়
এবং তিনি তা গ্রহণ করেন।এছাড়া কেউ রওজা মুবারকের নিকট এসে সালাত ও সালাম পাঠ করলে তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সরাসরি গ্রহণ করেন। হায়াতুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর আকিদা ইসলামের দলিল দিয়ে প্রমাণিত। [তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম,২য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৭৮/সুনানু বাইহাকি, হাদিস:১৫৮৩/সুনানু দারিমি, হাদিস: ২৭ নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার
দলীল। ★দলিল:- ০৯ হযরত আবূ হোরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণিত; মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এরশাদ ফরমান: “আমি নিজেকে ’হিজর’-এর মধ্যে পেলাম এবং কোরাইশ গোত্র আমাকে মে’রাজের রাতের ভ্রমণ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিল। আমাকে বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়, যা আমার স্মৃতিতে রক্ষিত ছিল না।এতে আমি পেরেশানগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম; এমন পর্যায়ের পেরেশানির মুখোমুখি ইতিপূর্বে কখনো-ই হইনি।অতঃপর আল্লাহ পাক এটিকে (বায়তুল মাকদিসকে) আমার চোখের
সামনে মেলে ধরেন। আমি তখন এর
দিকে তাকিয়ে তারা (কুরাইশবর্গ) যা যা প্রশ্ন করছিলো সবগুলোরই উত্তর দেই।আমি ওই সময় আম্বিয়া
(আলাইহিস সালাম)-বৃন্দের জমায়েতে নিজেকে দেখতে পাই। আমি হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে নামায পড়তে দেখি।তিনি দেখতে সুদর্শন
(সুঠাম দেহের অধিকারী) ছিলেন,যেন শানু’য়া গোত্রের কোনো পুরুষ।
আমি মরিয়ম তনয় ঈসা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখি নামায আদায় করতে; সকল মানবের মাঝে তাঁর (চেহারার)সবচেয়ে বেশি সাযুজ্য হলো উরওয়া ইবনে
মাস’উদ আস সাকাফী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে। আমি হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)কেও
সালাত আদায় করতে দেখি; মানুষের মাঝে তাঁর (চেহারার)
সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য হলো তোমাদের সাথী (মহানবী স্বয়ং)-এর সাথে।নামাযের সময় হলে পরে আমি তাতে ইমামতি করি।নামায শেষে কেউ একজন
বল্লেন, ‘এই হলেন মালেক (ফেরেশতা),জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণকারী; তাঁকে সালাম জানান।’আমি তাঁর দিকে ফিরতেই তিনি আমার আগে (আমাকে) সালাম জানান।”
[সহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড, হাদীস নং- ৩২৮; ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রহ:)-ও এটিকে নিজ ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৮৩ পৃষ্ঠায় সমর্থন দিয়েছেন]. ★দলিল:- ১০ ইবরাহীম ইবনে শায়বান বলেন: আমি কোনো এক বছর হজ্জ্বে গেলে মদীনা মোনাওয়ারায় মহানবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রওযা শরীফেও যেয়ারত উদ্দেশ্যে যাই।তাঁকে সালাম জানানোর পরে ’হুজরাহ আস্সাআদা’র ভেতর থেকে জবাব শুনতে পাই: ‘ওয়া আলাইকুম আস-সালাম’।
এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন মোহাম্মদ ইবনে হিব্বান (রহ:)-এর সূত্রে আবূ নু’য়াইম তাঁর কৃত ‘আত্তারগিব’ (পৃষ্টা-১০২) পুস্তকে; ইবনে আন্নাজ্জার নিজ ‘আখবার আল-মদীনা’ গ্রন্থে(১৪৬ পৃষ্ঠা)।ইবনে জাওযী স্বরচিত ‘মুতির আল-গারাম’ বইয়ে (৪৮৬-৪৯৮ পৃষ্ঠা) এটি উদ্ধৃত করেন; আল-ফায়রোযাবাদী এ রেওয়ায়েত তার ‘আল-সিলাত ওয়াল্বুশর’ পুস্তকে (৫৪ পৃষ্ঠা) এবং ইবনে তাইমিয়া নিজ ‘এয়াতেদা’ আল-সীরাত আল-মুস্তাকীম’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩৭৩-৩৭৪) এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে। ★দলিল:- ১১ হযরত সাইয়্যেদাহ আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন:
“যে ঘরে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আমার পিতা (আবূ বকর–রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে দাফন করা হয়,সেখানে যখন-ই আমি প্রবেশ করেছি,তখন আমার মাথা থেকে পর্দা সরিয়ে ফেলেছি এই ভেবে যে আমি যাঁদের জেয়ারতে এসেছি তাঁদের একজন আমার পিতা ও অপরজন আমার স্বামী।কিন্তু আল্লাহর নামে শপথ! যখন হযরত উমর ফারূক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) ওই ঘরে দাফন হলেন,তখন থেকে আমি আর কখনোই ওখানে পর্দা না করে প্রবেশ করিনি; আমি হযরত উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি লজ্জার কারণেই এ রকম করতাম।” [মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল,৬ষ্ঠ
খণ্ড,২০২পৃষ্ঠা,হাদীস- ২৫৭০১] ★দলিল:- ১২ হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর কবরের জীবন হুবহু জিবীত থাকা সত্য ও হক্ব।ইমাম বায়হাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয় বস্তুর উপর একটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন।হাফেজ ইবনে হাজার (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ফতহুল বারী ৬:৩৫২ এবং হাফেজ সাখাবী আলাকওলুল বদী’-১১৬-এ উক্ত হাদিস্কে বিশুদ্ধ সনদ বিশিষ্ট বলেছেন।
এছাড়া আল্লামা সাখাবী(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) লিখেন যে- আমরা ঈমান রাখি সত্ত্যায়ন করি যে,হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে জীবিত এবং তাঁকে রিযিক
দেয়া হয় এবং তাঁর শরীর মোবারক কে মাটি খায়না অর্থাৎ নষ্ট করে না।আর এর উপর উম্মতের ইজমা এবং ইত্তেফাক।
(আলকওলুল বদী’- ১২৫) ★দলিল:- ১৩ হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সংগী সাথীরা যখন ফিরে আসতে থাকে,সাথীরা জুতার আওয়াজ শোনা যায় এমন দূরত্বে চলে আসে এমন সময় দুজন ফেরেশতা তার কবরে আগমন করে।উক্ত ব্যক্তিকে বসিয়ে হযরত মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারনা কি।যদি লোকটি ঈমানদার হয় তখন সে বলবে,আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।এ কথা বলার পর ফেরেশতাদ্বয় তখন তাকে বলে,হে বান্দা তুমি তোমার দোযখের ঠিকানাটা দেখে নাও।
তোমার এ সাক্ষীর কারণে মহান আল্লাহ পাক তোমার দোযখের ঠিকানাটাকে বেহেশতের ঠিকানায় পরিণত করে দিয়েছেন।তখন সে ব্যক্তি উভয় ঠিকানাই দেখেতে পাবে।তার কবরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে।আর মৃত্যু ব্যক্তি যদি মুনাফিক অথবা কাফের হয়।তখন তাকে হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখিয়ে বলা হবে এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি। উত্তরে তখন সে বলবে,আমিতো তার সম্পর্কে কিছুই জানি না লোকেরা তার সম্পর্কে যা সব বলতো আমিও তাই বলতাম।তখন উক্তি ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলবে তুমি তাকে জানতেও চাও নাই অথবা পড়েও দেখ নাই।অতঃপর লোহার হাতুড়ী দ্বারা তাকে এমন ভাবে প্রহার করা হবে যে,প্রহারের আঘাতে সে এমন ভাবে চিৎকার করতে থাকবে।জ্বিন ও মানুষ ছাড়া এই চিতকার সবাই শুনতে পারে।
[সহিহ বোখারী,হাদিস নং-১২৫৭ ই.ফা]
★দলিল:- ১৪ হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত –
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন:- যে
ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখলো,সেই আমাকে অচিরেই জাগ্রত অবস্থাতে দেখতে পাবে,শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারেন না। [সহীহ বোখারী শরীফ -হাদিস নং- ৬৫৯২] ★দলিল:- ১৫ হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন-
নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন।
{মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী
ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ,
হাদীস নং-২২} তবে সেটা বারযাখী জীবন,যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে ঐ সালাত দুনিয়াবী সালাতের সাথে তুলনীয়
নয়। ★দলিল:- ১৬ হযরত আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়।নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষী থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়।আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে?
উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!,কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীগণদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
{ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭,
১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯,আল
মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস
নং-১৫৭২,মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫,মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯} ★দলিল:- ১৭ আবূ ইয়ালার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে ও ইমাম বায়হাকী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ‘হায়াত আল-আম্বিয়া’ পুস্তকে হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)
থেকে বর্ণিত আছে যে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এরশাদ ফরমান:
’আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম) তাঁদের মাযার-রওযায় জীবিত আছেন
এবং তাঁরা (সেখানে) সালাত আদায় করেন’।”
[ইমাম সূয়ুতী কৃত ‘আল-হাওয়ী লিল্ফাতাউইয়ী’,২য় খণ্ড,২৬৪ পৃষ্ঠা] ইমাম হায়তামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ওপরে বর্ণিত সর্বশেষ হাদীস সম্পর্কে বলেন, “আবূ ইয়ালা ও বাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবূ ইয়ালার এসনাদে সকল বর্ণনাকারী-ই আস্থাভাজন।”
ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-ও এই রেওয়ায়াতকে সমর্থন দিয়েছেন নিজ ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৮৩ পৃষ্ঠায়। [কাদিমী কুতুবখানা সংস্করণের ৬০২-৬০৩ পৃষ্ঠায়] উপরে উল্লেখিত কোরঅানের আয়াত ও সহিহ হাদিসের দলিল এবং মেরাজের ঘটনা মাধ্যমে প্রমানিত হয় নবী-রাসূল আলাইহিস সালামগণ তাদের নিজ নিজ রওজাতে জিন্দা অবস্থায় রয়েছেন। সুতরাং কোরআন এবং সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে নবীগণ জীবিত, অস্বীকারকারীরা মুসলমানদের মধ্যে
অন্তর্ভুক্ত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
Facebook
Twitter
Instagram