সাদ্দাম হুসাইন (তিকরীত)


সাদ্দাম হোসেন আবদুল মাজিদ আল তিকরিতি (আরবি): صدام حسين التكريتي Ṣaddām Ḥusayn ʿAbd al-Majīd al-Tikrītī (২৮ এপ্রিল ১৯৩৭- ৩০ ডিসেম্বর ২০০৬) ছিলেন ইরাকের সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৬ জুলাই ১৯৭৯ থেকে ৯ এপ্রিল ২০০৩ সাল পর্যন্ত ইরাকের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। প্রথমে সাদ্দাম হোসেন জেনারেল আহমেদ হাসান আল বকরের উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সেই সময় সাদ্দাম দৃঃঢ় ভাবে সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যকার বিরোধের অবসান ঘটান। এই উদ্দেশ্যে তিনি নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করেন। ইরাকের রাষ্ট্রপতি ও বাথ পার্টির প্রধান হিসেবে সাদ্দাম হোসেন আরব জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্ম নিরপেক্ষ ও আধুনিক ইরাক গড়ে তুলতে প্রয়াস নেন। সাদ্দাম এক দলীয় শাসন কায়েম করেন। এসময়ই সাদ্দাম ইরানের সাথে ৯ বছরের যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন (১৯৮০-১৯৮৮)।
ইরাক-ইরান যুদ্ধের পরে ১৯৯১-এ সাদ্দাম উপসাগরীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন। সাদ্দাম তার মতে ইরাকের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধের সকল পক্ষকে নির্মুল করার উদ্যোগ নেন। এই বিরুদ্ধ পক্ষে ছিল উপজাতীয় ও ধর্মীয় গোত্র গুলো যারা স্বাধীনতা দাবি করছিল। যেমন, ইরাকি শিয়া মুসলমান, কুর্দি, ইরাকি তুর্কি জনগন। ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে কতিপয় আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করে। তারা এই যুক্তি দেখিয়ে আক্রমণ করে যে, সাদ্দাম ব্যাপক ধ্বংসাত্বক জীবানু অস্ত্র তৈরি করছেন (যদিও যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এমন কোন অস্ত্রের হদিস পাওয়া যায় নাই)। ১৩ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন আমেরিকান সেনাদের কাছে ধরা পড়েন। পরবর্তিতে আমেরিকা ইরাকি সরকারের হাতে সাদ্দাম হোসেনের বিচার করে। সাদ্দামের বিরুদ্ধে ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ২০০৬ সালের ০ ডিসেম্বর ইরাকি সময় সকাল ৬.০৬ মিনিটে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকর হয়।
প্রারম্ভিক জীবন
সাদ্দাম আব্দ আল মাজিদ আল তিকরিতি ইরাকি শহর তিকরিত থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আল-আওজা শহরে আল-বেগাত নামে একটি মেষপালক গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। আল-বেগাত গোত্রটি আল-বু নাসির (البو ناصر) গোত্রের অন্তর্গত। তাঁর মা, সুবহা তুলফা আল মুসসালাত তাঁর নবজাতক পুত্রের নাম রাখেন সাদ্দাম, যার আরবি মানে “যিনি মোকাবেলা করেন”। তিনি সর্বদা এই ব্যক্তিগত নাম, যা গোত্রনাম এবং অন্যান্য উপাদান দ্বারা অনুসরণ করা যেতে পারে দ্বারা উল্লেখ করা হয়. যখন তিনি তার পিতাকে হুসাইনের ‘আব্দ আল মজিদ, ছয় মাস অদৃশ্য আগে সাদ্দাম জন্মগ্রহণ জানতাম না. এর অল্প কিছুদিন পরে, সাদ্দামের 13 বছর বয়সী ভাই ক্যান্সারে মারা যান. শিশু সাদ্দাম তার মাতুল কাইরাল্লাহ তুলফা পর্যন্ত তিনি তিনটি ছিল পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছিল.
তার মা আরেকটি বিয়ে, এবং সাদ্দাম এই বিয়ের মাধ্যমে তিন সতভাই অর্জন. তাঁর সৎ বাবা, ইব্রাহিম আল-হাসান, রূঢ়ভাবে ফেরার পর সাদ্দাম চিকিত্সা. 10 বছর বয়সে, সাদ্দাম পরিবার পালিয়ে যান এবং তার চাচা কাইরাল্লাহ তুলফা সঙ্গে বাগদাদের বাস ফিরে আসেন. তুলফা , সাদ্দাম ভবিষ্যত স্ত্রীর পিতা, একজন ধর্মপ্রাণ সুন্নি মুসলমান এবং ইরাকি জাতীয়তাবাদী এবং যুক্তরাজ্য, যা এ অঞ্চলের একটি প্রধান ঔপনিবেশিক ক্ষমতা রয়ে মধ্যে 1941 ইঙ্গ-ইরাকি যুদ্ধের একটি ঘুঘু ছিল.
তার নেটিভ তিকরিত থেকে তার জীবন আত্মীয় পরবর্তীতে তার নিকটতম উপদেষ্টাদের এবং কয়েকজন সমর্থককে ওঠে. তার চাচা নির্দেশের অধীনে তিনি বাগদাদে একটি জাতীয়তাবাদী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন. মাধ্যমিক বিদ্যালয় সাদ্দাম ইরাকের আইন স্কুলে পড়াশোনা করার পর তিন বছর ধরে, 20 বছর বয়সে 1957 সালে ড্রপ আউট বিপ্লবী প্যান-আরব বাথ পার্টি, যা তার চাচা সমর্থক ছিলেন যোগদানের জন্য. এই সময়, সাদ্দাম দৃশ্যত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে নিজেকে সমর্থিত.
সাদ্দাম হোসেন ও বাথ পার্টির ছাত্র সেল, কায়রো, সময়ের 1959-1963 মধ্যে
বিপ্লবী মনোবৃত্তি ইরাকে এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুগের বৈশিষ্ট ছিল. ইরাকে প্রগতিশীলদের এবং সমাজতন্ত্রীদের ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক অভিজাত (ঔপনিবেশিক যুগ আমলা ও জমির মালিক, ধনী বণিক ও উপজাতীয় প্রধানরা এবং monarchists) assailed. তাছাড়া, মিশরে গামাল আবদেল নাসেরের প্যান-আরব জাতীয়তাবাদ অঘোরে সাদ্দাম মত তরুণ Ba’athists প্রভাবিত. নাসের উত্থানের ইরাক, মিশর, লিবিয়া ও রাজতন্ত্রের পতন সঙ্গে 1950 ও 1960-এর দশকে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র বিপ্লবের ঢেউ পূর্বাভাস,. নাসের, 1956 সালের সুয়েজ সংকট চলাকালে ব্রিটিশ এবং ফরাসি যুদ্ধ মিশর আধুনিকায়ন, এবং রাজনৈতিকভাবে আরব বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র জাতীয়তাবাদীদের অনুপ্রাণিত।
1958 সালে, একটি বছর সাদ্দাম পর বাথ পার্টি যোগদান করেন, সেনা অফিসারদের সাধারণ আব্দ আল করিম কাসেমের নেতৃত্বে ইরাকে দ্বিতীয় ফয়সাল 14 জুলাই বিপ্লবে ধ্বংস করে দিলেন.
ক্ষমতায় আরোহন
কাসিম এর মন্ত্রিসভা 16 সদস্যের মধ্যে 12 বাথ পার্টির সদস্য ছিলেন; তবে দল গামাল আবদেল নাসেরের ইউনাইটেড আরব রিপাবলিক যোগদানের জন্য তার অস্বীকৃতির কারণে কাসিম বিরুদ্ধে পরিণত। সরকারের মধ্যে তার নিজের অবস্থান মজবুত করার জন্য, কাসিম ইরাকী কমিউনিস্ট পার্টি, যা আরবীয় একাত্মতা কোন ধারণা ছিল বিরোধিতা সঙ্গে একটি জোট তৈরি করা। সেই বছর, বাথ পার্টির নেতৃত্বে কাসেম হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল. সাদ্দাম অপারেশন একটি নেতৃস্থানীয় সদস্য ছিলেন. সময়ে, বাথ পার্টির একটি শক্তিশালী সরকার বিরোধী যুদ্ধ মেশিন আর একটি মতাদর্শগত পরীক্ষা বেশি ছিল. তার সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ পারেন শিক্ষিত পেশাদার বা ছাত্র-ছাত্রী ও সাদ্দাম বিল মাপসই করা হবে. সাদ্দামের পছন্দ ছিল ঐতিহাসিক কন Coughlin অনুযায়ী, “কষ্টসহকারে বিস্ময়কর”. কাসিম হত্যার ধারণা হয়তো আছে নাসেরের, এবং ফটকা যারা অপারেশনে অংশ নেয়া কিছু দামাস্কাস, যা পরে UAR অংশ ছিল এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নেই.
হত্যাকারীরা 7 অক্টোবর 1959 আল-রশিদ স্ট্রিটে কাসিম থেকে আক্রমন করার পরিকল্পনা: এক ব্যক্তি, বাকি সামনে ঐ হত্যা গাড়ির পিছে বসে সেই হত্যা করা. অতর্কিত হামলায় সময় এটা দাবি করা হয় যে সাদ্দাম শুটিং শুরু অকালে, যা পুরো অপারেশন বিশৃঙ্খল. কাসিমের শোফার হত্যা করা হয়, এবং কাশিম হাত ও কাঁধে আঘাত করা হয়েছে. হত্যাকারীরা বিশ্বাস তারা তাকে হত্যা করেছে এবং দ্রুত তাদের সদর দপ্তর থেকে পশ্চাত্পদ, কিন্তু কাশিম বেঁচে. হামলা বাথ পার্টির তুলনায় কম 1,000 সদস্য সংখ্যা ছিল এর সময়ে.
ষড়যন্ত্রকারীদের কিছু দ্রুত সিরিয়া, Ba’athist মতাদর্শের আধ্যাত্মিক বাড়ির জন্য দেশ ছেড়ে পরিচালিত. সেখানে সাদ্দাম মিশেল Aflaq দ্বারা পার্টি পুরো সদস্যপদ দেয়া হয়। অপারেশন কিছু সদস্য গ্রেফতার এবং ইরাকি সরকারের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল. প্রদর্শনী বিচারের সময়ে, আসামীদের ছয় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল; অজ্ঞাত কারণে বাক্য আউট বাহিত হয় নি. Aflaq, Ba’athist আন্দোলনের নেতা, যেমন ফুয়াদ আল Rikabi হিসাবে নেতৃস্থানীয় ইরাকি Ba’athist সদস্য, বিতাড়ন সংগঠিত ভিত্তিতে যে দল কাসিমের জীবন চেষ্টা শুরু করেছি না করা উচিত. একই সময়ে, Aflaq, তার সমর্থকদের জন্য ইরাকের বাথ নেতৃত্বের আসন অভেদ্য এক তাদের সাদ্দাম হচ্ছে পরিচালিত। সাদ্দাম 1959 সালে মিশর থেকে পালিয়ে, এবং তিনি 1963 সাল পর্যন্ত সেখানে বাস করতে লাগলেন.
বাথ পার্টির বন্ধন সঙ্গে আর্মি অফিসার 1963 Ba’athist নেতাদের রমজান বিপ্লব অভ্যুত্থানে কাসিম উল্টে মন্ত্রিসভা নিয়োগ করা হয় এবং আবদুল সালাম আরিফ সভাপতি নির্বাচিত হন. আরিফ নভেম্বর 1963 ইরাকি অভ্যুত্থান সালে বরখাস্ত এবং পরে যে বছর Ba’athist নেতাদের গ্রেফতার করা হয়.
আরিফ 1966 সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন, কি ইরাকি সামরিক Ba’athist উপাদান দ্বারা নাশকতার হয়েছে পারে. [24] আব্দ রাহমানের আল-বাজাজ তিনদিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন, এবং প্রেসিডেন্ট একটি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ঘটেছে. প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রথম সভা ও একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার জন্য মন্ত্রিসভায় আল-বাজাজ প্রেসিডেন্সি জয় করার একটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন. আল-বাজাজ অসফল ছিল, এবং আব্দুর রহমান আরিফ সভাপতি নির্বাচিত হন. তিনি দুর্বল এবং তার ভাইয়ের চেয়ে নিপূণভাবে সহজ হিসাবে সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা দেখা হয়.
সাদ্দামের ইরাক ফিরে আসেন, কিন্তু 1964 সালে কারারুদ্ধ করা হয় 1966 সালে, আহমেদ হাসান আল-বকর তাঁকে আঞ্চলিক কমান্ডের ডেপুটি সেক্রেটারি নিযুক্ত. সাদ্দাম 1967 সাদ্দাম, একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে প্রমাণিত হবে সালে কারাগার থেকে পালিয়ে, দল পুনরুজ্জীবিত. তিনি আঞ্চলিক কমান্ড সদস্য নির্বাচিত হন, যেমন গল্পের Aflaq Ba’athist প্রতিষ্ঠাতা চিন্তা Michel থেকে সাহায্যে, যায়।
1968 সালে সাদ্দাম আহমেদ হাসান আল-বকর নেতৃত্বে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে আব্দুর রহমান আরিফ উল্টে অংশগ্রহণ করেন. সাদ্দাম ও সালাহ ওমর আল আলী সামরিক Ba’athists সাথে যোগাযোগ করেন এবং মাটিতে তাদের নেতৃত্ব সাহায্য করেছে। আরিফ লন্ডন ইস্তানবুল এবং তারপর আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আল-বকর সভাপতি নামে নামকরণ করা হয় এবং সাদ্দাম তার ডেপুটি নামে নামকরণ করা হয়, এবং Ba’athist বিপ্লবী কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান. জীবনীকারদের মতে, সাদ্দাম কখনই প্রথম Ba’athist সরকারের মধ্যে উত্তেজনা, যা তার ব্যবস্থা বাথ পার্টি ঐক্য উন্নীত করা এবং সেইসাথে তার সংকল্পকে ক্ষমতা বজায় রাখা এবং প্রোগ্রাম সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য ভিত্তি ভুলে গেছি. যদিও সাদ্দাম আল-বকর ডেপুটি ছিলেন, তিনি একটি শক্তিশালী চিত্রগ্রহনের পার্টি রাজনীতিবিদ ছিলেন. আল-বকর ছিল পুরোনো এবং দুই এর অধিক সম্মানজনক, কিন্তু 1969 দ্বারা সাদ্দাম পরিষ্কারভাবে পার্টি পিছনে চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে।ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসির সময়ে কেঁদেছিলেন যে আমেরিকান সৈন্যরা

প্রহরীদের মাঝে ইরাকের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেন
২০০৪ সালের জুন মাসে সাদ্দাম হোসেনকে ইরাকি অন্তবর্তী সরকারের কাছে তুলে দেয়া হয় বিচারের জন্য। এর আগের বছর ডিসেম্বর মাসে মার্কিন বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাকে পাহারা দিয়েছিলেন ১২ জন মার্কিন সৈন্য। বিবিসি হিন্দি’র জন্য সেই সময়ের দিকে ফিরে তাকিয়েছেন রেহান ফজল:
গ্রেফতার হওয়ার আগে তাঁরা যে সাদ্দাম হোসেনের ‘বন্ধু’ ছিলেন, সেটা মোটেই নয়।
কিন্তু ওই ১২ জন আমেরিকান সৈন্য সাদ্দামের শেষ সময়ের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই শেষ মুহূর্ত অবধি তাঁরাই ছিলেন সাদ্দামের সঙ্গে।
মার্কিন ৫৫১ নম্বর মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির ওই ১২ জন সেনাসদস্যকে ‘সুপার টুয়েলভ’ বলে ডাকা হতো।
তাঁদেরই একজন, উইল বার্ডেনওয়ার্পার একটি বই লিখেছেন, ‘দা প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস, হিজ অ্যামেরিকান গার্ডস, অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লেফট আনসেইড’ নামে। বাংলা করলে বইটির নাম হতে পারে ‘নিজের প্রাসাদেই এক বন্দী, তাঁর আমেরিকান প্রহরী – ইতিহাস যে কথা বলেনি’।
বইটি জুড়ে রয়েছে সাদ্দাম হোসেনকে তাঁর শেষ সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা।
মি. বার্ডেনওয়ার্পার স্বীকার করেছেন যে তাঁরা যখন সাদ্দাম হোসেনকে জল্লাদদের হাতে তুলে দিলেন ফাঁসির জন্য, তখন তাঁদের ১২ জনেরই চোখে পানি এসে গিয়েছিল।
দাদুর মতো দেখতে লাগত সাদ্দামকে
বার্ডেনওয়ার্পার তাঁরই এক সেনা-সঙ্গী রজারসনকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, “আমরা কখনও সাদ্দামকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হত্যাকারী হিসাবে দেখিনি। তাঁর দিকে তাকালে নিজের দাদুর মতো লাগত অনেক সময়ে।”
ইরাকের জেলে জীবনের শেষ সময়টুকু কাটানোর সময়ে সাদ্দাম হোসেন আমেরিকান গায়িকা মেরি জে ব্লাইজার গান শুনতেন নিয়মিত।

captionসাদ্দাম হোসেনকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য মোতায়েন করা সুপার টুয়েলভ দলের একজন ছিলেন উইল বার্ডেনওয়ার্পার
নিজের এক্সারসাইজ বাইকে চড়তে পছন্দ করতেন সাদ্দাম। ওটার নাম দিয়েছিলেন ‘পনি’।
মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসতেন। মাঝেমধ্যেই মাফিন খেতে চাইতেন।
বার্ডেনওয়ার্পার লিখেছেন, নিজের জীবনের শেষ দিনগুলোতে সাদ্দাম তাঁদের সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করতেন। ওই ব্যবহার দেখে বোঝাই যেত না যে সাদ্দাম হোসেন কোনও এক সময়ে একজন অত্যন্ত নিষ্ঠুর শাসক ছিলেন।
কাস্ত্রো তাঁকে সিগার খেতে শিখিয়েছিলেন
সাদ্দামের ‘কোহিবা’ সিগার খাওয়ার খুব নেশা ছিল। মনে করা হয় কিউবার সিগারের মধ্যে এই ‘কোহিবা’ সবার চেয়ে সেরা সিগারগুলোর অন্যতম।
ভেজা ওয়াইপে জড়িয়ে একটা বাক্সের মধ্যে রাখা থাকত সিগারগুলো।
সাদ্দাম নিজেই বলেছিলেন যে বহু বছর আগে ফিদেল কাস্ত্রো তাকে সিগার খাওয়া শিখিয়েছিলেন।

 
captionফিদেল কাস্ত্রো ও সাদ্দাম হোসেন
সিগার ছাড়াও বাগান করা আরেকটা শখ ছিল সাদ্দাম হোসেনের।
জেলের ভেতরে অযত্নে ফুটে থাকা জংলী ঝোপঝাড়গুলোকেও তিনি একটা সুন্দর ফুলের মতো মনে করতেন।
খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল ছিলেন সাদ্দাম
সকালের নাস্তাটা তিনি কয়েকটা ভাগে খেতেন – প্রথমে অমলেট, তারপর মাফিন আর শেষে তাজা ফল।
ভুল করেও যদি তাঁর অমলেটটা টুকরো হয়ে যেত, সেটা তিনি খেতে অস্বীকার করতেন।
বার্ডেনওয়ার্পার স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে লিখেছেন: একবার সাদ্দাম তার ছেলে উদয় কতটা নিষ্ঠুর ছিল, সেটা বোঝাতে গিয়ে বীভৎস একটা ঘটনার কথা বলেছিলেন। ওই ব্যাপারটায় সাদ্দাম প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন।
উদয় কোনও একটা পার্টিতে গিয়ে গুলি চালিয়ে দিয়েছিল – তাতে বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছিলেন। গুলিতে আহত হয়েছিলেন আরও কয়েকজন।

  captionসাদ্দাম হোসেন কখনও কখনও খুব রেগে যেতেন: ফাইল ছবি
সাদ্দাম ব্যাপারটা জানতে পেরে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে উদয়ের সবক’টা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিতে। ওই ঘটনাটা বলতে গিয়ে সেনা প্রহরীদের সাদ্দাম ভীষণ রেগে গিয়ে শুনিয়েছিলেন যে উদয়ের দামী রোলস রয়েস, ফেরারি, পোর্শা গাড়িগুলোতে তিনি আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ
সাদ্দাম হোসেনের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত আমেরিকান সেনারাই তাঁকে একদিন জানিয়েছিলেন যে তাঁর ভাই মারা গেছেন। যে সেনাসদস্য খবরটা দিয়েছিলেন, সাদ্দাম তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, “আজ থেকে তুমিই আমার ভাই।”
আরেকজন প্রহরীকে বলেছিলেন, “যদি আমার সম্পত্তি ব্যবহার করার অনুমতি পাই, তাহলে তোমার ছেলের কলেজে পড়তে যা খরচ লাগবে, সব আমি দিতে রাজী।”
এক রাতে বছর কুড়ি বয়সের সেনা প্রহরী ডসন বাজে মাপে কাটা একটা স্যুট পড়ে ঘুরছিল। জানা গেল যে ডসনকে ওই স্যুটটা সাদ্দাম উপহার হিসাবে দিয়েছেন।
বার্ডেনওয়ার্পারের কথায়, “বেশ কয়েকদিন আমরা সবাই ডসনকে নিয়ে হাসাহাসি করছিলাম ওই স্যুটটার জন্য। ওটা পড়ে ও এমন ভাবে হাঁটাচলা করত, যেন মনে হতো কোনও ফ্যাশন শো’য়ে ক্যাটওয়াক করছে ডসন।”
সাদ্দাম আর তাঁর প্রহরীদের মধ্যে বন্ধুত্ব বেশ ঘন হয়ে উঠছিল, যদিও তাদের ওপরে কড়া নির্দেশ ছিল যে সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টাও যেন কেউ না করে।
সাদ্দাম হোসেনকে মামলা চলা চলার সময় দুটো জেলে রাখা হয়েছিল।

captionসাদ্দাম হোসেন: ফাইল ছবি
এক জেল ছিল আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কয়েদখানা, আর অন্যটা উত্তর বাগদাদের সাদ্দামেরই একটা প্রাসাদে।
ওই প্রাসাদটা ছিল একটা দ্বীপে। একটা সেতু পেরিয়ে ওই দ্বীপে যেতে হতো।
“আমরা অবশ্য সাদ্দামকে এমন কিছু দিইনি, যেটা তিনি পাওয়ার অধিকারী ছিলেন না। কিন্তু ওঁর অহংবোধে কখনও আঘাত করতাম না আমরা,” লিখছেন বার্ডেনওয়ার্পার।
স্টিভ হাচিনসন, ক্রিস টাস্করের মতো কয়েকজন প্রহরী ওই প্রাসাদেরই একটা স্টোর রুমে সাদ্দামের দপ্তর তৈরি করে দিয়েছিল।
সাদ্দামের দরবার
সাদ্দাম হোসেনকে একটা চমক দেওয়ার ইচ্ছা ছিল সবার।
পুরনো, ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র থেকে একটা ছোট টেবিল আর চামড়ার ঢাকনা দেওয়া একটা চেয়ার নিয়ে আসা হয়েছিল। টেবিলের ওপরে ইরাকের একটা ছোট পতাকাও রাখা হয়েছিল।
“আমরা চেষ্টা করেছিলাম জেলের ভেতরেই সাদ্দামের জন্য শাসনকাজ পরিচালনার মতো একটা অফিস তৈরি করতে। যখন সাদ্দাম ওই ঘরটায় প্রথমবার গিয়েছিলেন, একজন সেনা সদস্য হঠাৎই খেয়াল করে যে টেবিলের ওপরে ধুলো জমে আছে। সে ধুলো ঝাড়তে শুরু করেছিল,” লিখছেন বার্ডেনওয়ার্পার।
ওই আচরণটা সাদ্দামের নজর এড়ায়নি। চেয়ারে বসতে বসতে তিনি মুচকি হেসেছিলেন।

  captionসাদ্দাম হোসেন বিশ্বাস করতেন শেষ পর্যন্ত তাঁর ফাঁসি হবে না
তারপর থেকে তিনি রোজ ওই চেয়ারে এসে বসতেন। তাঁর নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত সেনাপ্রহরীরা সবাই সামনের চেয়ারগুলোতে বসতেন। যেন সাদ্দাম নিজের দরবারে বসেছেন।
নিরাপত্তা রক্ষীরা চেষ্টা করত সাদ্দামকে খুশী রাখতে। তার বদলে সাদ্দামও সকলের সঙ্গে হাসি-মস্করা করতেন।
কয়েকজন রক্ষী পরে বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন যে তারা বিশ্বাস করতেন ‘যদি তাদের কোনও ঝামেলায় পড়তে হয়, তাহলে সাদ্দাম তাদের বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনও বাজি রেখে দিতে পারেন’।
যখনই সময়-সুযোগ পেতেন, তখনই সাদ্দাম হোসেন পাহারার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের পরিবারের খোঁজখবর নিতেন।
বার্ডেনওয়ার্পারের বইটাতে সবথেকে আশ্চর্যজনক যে বিষয়টার উল্লেখ রয়েছে, সেটা হল সাদ্দামের মৃত্যুর পরে তাঁর প্রহরীরা রীতিমতো শোক পালন করেছিলেন, যদিও তিনি আমেরিকার কট্টর শত্রু ছিলেন।
প্রহরীদেরই একজন, অ্যাডাম রজারসন উইল বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, “সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরে আমার মনে হচ্ছে আমরা ওর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। নিজেদেরই এখন তার হত্যাকারী বলে মনে হচ্ছে। এমন একজনকে মেরে ফেললাম আমরা, তিনি যেন আমাদের খুব আপনজন ছিলেন।”

 
captionএকটি বাংকার থেকে আমেরিকান সৈন্যরা সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করে
সাদ্দামের ফাঁসির পরে যখন তাঁর মরদেহ বাইরে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন সেখানে জমা হওয়া লোকজন মৃতদেহের ওপরে থুতু ছিটিয়েছিল।
ওই ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল আমেরিকান সেনারা
বার্ডেনওয়ার্পার লিখছেন, ওই নোংরামি দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তারা সকলে, বিশেষ করে যে ১২ জন তাঁর শেষ সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
তাদেরই মধ্যে একজন ওখানে জমা হওয়া লোকজনের কাছে হাত জোড় করে তাদের থামাতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দলের বাকিরা তাকে টেনে সরিয়ে নেয়।
ওই ১২ জনের অন্যতম, স্টিভ হাচিনসন সাদ্দামের ফাঁসির পরেই আমেরিকার সেনাবাহিনী থেকে ইস্তফা দেন।
হাচিনসন এখন জর্জিয়ায় বন্দুক চালনা আর ট্যাকটিক্যাল ট্রেনিং দেওয়ার কাজ করেন। তাঁর মনে এখনও ক্ষোভ রয়েছে, কারণ সেদিন যেসব ইরাকী সাদ্দামের মৃতদেহকে অপমান করছিল, তাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে না পড়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের।
সাদ্দাম হোসেন কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত আশা করতেন যে তাঁর ফাঁসি হবে না।
একজন রক্ষী, অ্যাডাম রোজারসন বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, কোনও নারীর সঙ্গে প্রেম করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাদ্দাম। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে আবারও বিয়ে করার ইচ্ছাও হয়েছিল তাঁর।

 
caption২০০৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর ঈদুল আযহার দিনে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়
২০০৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর তিনটে নাগাদ ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়েছিল।
তাঁকে জানানো হয়েছিল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাঁসি দেওয়া হবে। এই কথাটা শোনার পরে সাদ্দামের ভেতরের সব বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়েছিল। তিনি চুপচাপ গোসল করে ফাঁসির জন্য তৈরি হয়ে নিয়েছিলেন।
সেই সময়েও তাঁর একটা ভাবনা ছিল। জানতে চেয়েছিলেন, ‘সুপার টুয়েলভের সদস্যরাও কি ঘুমোচ্ছে?’
ফাঁসির কয়েক মিনিট আগে স্টিভ হাচিনসনকে কারাকক্ষের বাইরে ডেকে পাঠান সাদ্দাম হোসেন। লোহার শিকগুলোর মধ্যে দিয়ে হাতটা বের করে নিজের রেমন্ড ওয়েইল হাতঘড়িটা দিয়ে দেন স্টিভকে।
হাচিনসন আপত্তি করেছিলেন। তবে সাদ্দাম কিছুটা জোর করেই ঘড়িটা স্টিভের হাতে পরিয়ে দেন।
জর্জিয়ায় হাচিনসনের বাড়ির একটা সিন্দুকে রাখা ঘড়িটা এখনও টিক টিক করে চলেছে।
ইতিহাসের সাক্ষী: সাদ্দাম হোসেনের বিচার
সাদ্দাম হোসেন
২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ন’মাসব্যাপি বিচারের পর মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত শাসক সাদ্দাম হোসেন।
ইরাকে ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের সময় ক্ষমতাচুত হন সাদ্দাম হোসেন, আর তিনি মার্কিন সৈন্যদের হাতে ধরা পড়েছিলেন তারও প্রায় আট মাস পর।
বাগদাদের এক আদালতে অনুষ্ঠিত হয় তার বিচার । এই বিচারের সাদ্দাম হোসেনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যে আইনী দল দেয়া হয়েছিল – তার অংশ ছিলেন আমেরিকান র‍্যামজি ক্লার্ক।
র‍্যামজি ক্লার্ক বলতেন, তিনি সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে কোন মৃত্যুভয় দেখতে পান নি। সাদ্দাম হোসেন মনে করতেন, এই বিচারের একটাই মাত্র পরিণতি হতে পারে – আর তা হলো, তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং তার মৃত্যুদন্ড হবে।
র‍্যামজি ক্লার্কের সাথে সাদ্দাম হোসেনএর প্রথম পরিচয় হয়োছিল ইরাকে ১৯৯০ সালে।
সেটা ছিল ইরাকের কুয়েত দখলকে কেন্দ্র করে যে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ হয়েছিল – তার ঠিক আগে। তার পর থেকেই দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এর পর ২০০৩ সাল্রে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের পর সে বছর ডিসেম্বর মাসে যখন সাদ্দাম হোসেন মার্কিন বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেন এবং তার বিচার শুরু হলো – তখন সাবেক মার্কিন এটর্নি জেনারেল মি. ক্লার্ককে অনুরোধ করা হলো আসামীপক্ষের আইনজীবী হতে। সাদ্দাম হোসেন ধরা পড়ার পর
সাদ্দামের আইনজীবী হবার ঝুঁকি কম ছিল না। তাদের বেশ কয়বার হুমকি দেয়া হয়েছিল এবং দুজনকে হত্যাও করা হয়।
এই মামলা শোনার জন্য একজন নিরপেক্ষ বিচারক পাওয়াটাও ছিল কঠিন ব্যাপার।
সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয় শিয়া-প্রধান শহর দুজাইলের এক হত্যাকান্ডের জন্য – যাতে নিহত হয়েছিলেন ১৪৮ জন লোক। ১৯৮২ সালে সাদ্দাম হোসেনকে হত্যার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর এই ঘটনা ঘটেছিল।
এই মামলা চলার সময় প্রায়ই আদালতকক্ষে গোলমাল হতো। সাদ্দাম হোসেন অনেক সময় শুনানী চলার সময় ক্রুদ্ধভাবে বিভিন্ন মন্তব্য করে বাধার সৃষ্টি করতেন।
তবে সা্ক্ষ্যপ্রমাণ শোনা সম্পন্ন হয়েছিল, এবং এই নয় মাসের বিচার প্রক্রিয়ার সময় র‍্যামজি ক্লার্ক তার মক্কেলকে ভালোভাবেই জানার ও বোঝার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ক্লার্ক বলছিলেন, “সাদ্দাম হোসেনের আচার আচরণ সবসময়ই ছিল মার্জিত। তিনি আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন লোক ছিলেন। একজন চিন্তাশীল ব্যক্তি ছিলেন। তার সময়কার পৃথিবী এবং ইতিহাস সম্পর্কে তার মূল্যায়ন ছিল এই রকম যে – শক্তি প্রয়োগের মধ্যে দিয়েই চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হওয়া যায়। শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলেও শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।”
র‍্যামজি ক্লাকের আরো মনে আছে, সাদ্দাম হোসেন সব সময়ই একটি জিনিস তার সাথে রাখতেন, সেটা হচ্ছে একটি কোরান।
যখন তিনি আদালতকক্ষে ঢুকতেন তখন তা তার সঙ্গে থাকতো, আর মামলা চলার সময় থাকতো তার সামনে ডেস্কের ওপর। আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাবার সময় তিনি আবার তা সাথে করে নিয়ে যেতেন।
পুরো বিচারের সময়টা জুড়ে র‍্যামজি ক্লার্ক যখন যেভাবে চেয়েছেন – সাদ্দাম হোসেনের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। দন্ডাদেশ ঘোষণার আগে পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই তাদের দেখা হতো।

 
captionদুই ছেলে উদে আর কুসে-র সাথে সাদ্দাম
তবে দন্ডাদেশ ঘোষণার সময় তাকে আদালতে থাকতে দেয়া হয় নি। অবশ্য দন্ডাদেশ নিয়ে বিস্মিত হবার কিছু ছিল না। ২০০৬ সালের ৫ই নভেম্বর সাদ্দাম হোসেনকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
তাকে আপীলের অধিকার দেয়া হয়েছিল কিন্তু সে আপীল প্রত্যাখ্যাত হয়, মৃত্যুদন্ড বহাল থাকে। মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয় ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ।
পিছন ফিরে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখন র‍্যামজি ক্লার্কের মনে হয়, যেসব স্বৈরশাসক বা রাষ্ট্রনায়ক তাদের দেশকে হিংসার পথে নিয়ে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এরকমটাই হয়েছে।
তবে তিনি মনে করেন, এখানে বিচার প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হয়েছিল।
“তখনকার ক্ষমতাসীনদের কাছে এটি ছাড়া আর কোন পরিণামই গ্রহণযোগ্য হতো না। গোটা ব্যাপারটাকেই এমন একটা চেহারা দেবার চেষ্টা ছিল – যেন মনে হয় যে সবকিছু ন্যায়সংগতভাবেই হয়েছে, অথচ আসলে তা হবার উপায় ছিল না।”
র‍্যামজি ক্লার্কের সাথে কথা বলেছেন বিবিসির ফারহানা হায়দার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
Facebook
Twitter
Instagram