সত্যের সন্ধানে

ইসলামী শরীয়ত ও ওলামায়ে কেরাম এর মতে ইবাদত ২ প্রকার,যথা ইবাদতে বদনী যাকে আমরা শারীরিক ইবাদত বলি। অপর টা ইবাদত এ মালি ,যাকে আমরা আর্থিক ইবাদত বলি। এই সব ইবাদত সাধারণত দুই এর সমন্বয়ে হয়। তা হলো আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল আনুষ্ঠানিকতা শুধু একবার প্রাতিষ্ঠানিক হয়। কিন্তু সকল প্রাতিষ্ঠানিকতা বার বার, হাজার বার আনুষ্ঠানিক হয়। এই জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোন কিছু আনুষ্ঠানিক থেকে অনেক শক্তিশালী। যেমন দরুন উন্মুক্ত স্থানে মিলাদ মাহফিল একদিনের অনুষ্ঠান এক রাতের হালকা সাময়িক প্রতিষ্ঠান। সকালেই প্রতিষ্ঠান শেষ। কিন্তু মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় এই গুলো হচ্ছে প্রতিষ্ঠান , এতে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় হাজার বার। কিন্তু শেষ হয় না।

যে এলাকায় যে প্রতিষ্ঠান যত শক্তিশালী সে এলাকায় প্রতিষ্ঠানের মতাদর্শ তত শক্তিশালী। যেমন- জামিয়া মাদ্রাসা । এই বিষয়টি বুঝতে আর বাকি নাই যে, প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে বাতীলরা আমাদের সাধারণ মুসলমানদেরকে ঘায়েল করতে চায়।

সন্নীয়তের দৃষ্টি তে গ্ৰন্থ ও গ্রন্থাগারের কথা বলি , বাংলাদেশের বই বাজার নীল খেত ও আন্দরকিল্লা সব চেয়ে বড়।যা ঢাকা চট্টগ্রামে, এই দুই জায়গায় সুন্নী মতাদর্শ লাইব্রেরী কয়টি আছে? উত্তর দিতে আমরা সবাই লজ্জায় হেড। হায় সুন্নী! আপনার একটি নিজস্ব লাইব্রেরীও নাই। কেন? একটি কথাটি উপমা স্বরুপ মাথায় আসে, তা হলো মোহনা। মোহনা কোথায় সৃষ্টি হয়? সাগর -নদীর মিলন স্থলে। যেখানে মানব সভ্যতা গড়ে উঠে। পৃথিবীতে যত নামী -দামী শহর -বন্দর আছে , প্রায় সবগুলো মোহনার ধারে।  মোহনা এত মূল্যবান কিভাবে হলো? এর পিছনে কার  হাত আছে ? নিশ্চয় নদীর। নদী কোথায় থেকে ? ঝর্না থেকে। ঝর্না কোথায় থেকে ? বৃষ্টি থেকে। বৃষ্টি কোথায় থেকে ? মেঘ থেকে। মেঘ কোথায় থেকে ? জলবায়ু,বাষ্প, ধুঁয়া ইত্যাদি। ঠিক তেমনি লাইব্রেরী, বই, লেখক ও পাঠক ইত্যাদি একইভাবে একটি অপরটির সাথে লিংক। এতে চাহিদা ও যোগানের সমর্পক রয়েছে। যেমন মোহনা ও নদীর। লাইব্রেরী হল লেখক ,বই,পাঠক সব গুলোর মোহনা। মোহনা দামী হয়। পূতাশ্রয় এর কারণেই। ঠিক লাইব্রেরী দামী হয় ভাল মানের প্রেস বা ছাপাখানা এর কারণেই। দূরভাগ্যজনক হলেও সত্য, ইসলামী ছাপাখানা এই দেশে খুব কম। যার দরুন আমরা অনেক পিছিয়ে। ছাপাখানার অভাবে অনেক সুন্নী মতের লেখকরা ভাল মানের বই বের করতে হ- য -ব -রল অবস্থায়। এই বৃত্ত থেকে আমরা কখনো বের হব না? বেশী সুন্নীর বই বাজারে থাকলে ,জনগণ বেশী বেশী পড়ে উপকৃত হবে সঠিক আকিদা সম্পর্কে জানবে। এটি আমরা না সবার  বিশ্বাস করি।সুন্নীদের একটি বড় দোষ,তা হল বই না পড়া,পাঠক ও লেখক এর বড়ই অভাব আমাদের সুন্নীদের , লেখক থাকলে ছাপা খানার অভাব,আবার বই বের হলে পাঠকের অভাব।এই জায়গায় টা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এবার প্রতিষ্ঠানের কথায় আসি,দেশের ভেতরে বাতিলদের দখলে মসজিদ, মাদ্রাসা, ফোরকানিয়া,মক্তব,হেফজ ও এতিমখানা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ক্লিনিক,ডায়গানষ্টিক সেন্টার, এমনকি দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য জোর করে ছিনিয়ে নেয়া কিছু মাজারও বর্তমান তাদের দখলে, তারা শুধু আনুষ্ঠানিক না , প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অনেক শক্তিশালী, অপর দিকে আন্তর্জাতিক ভাবে আমরা সুন্নীরা শক্তিশালী হলেও , দেশের ভেতরে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হলেও, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কম শক্তিশালী। সুন্নিদের দখলে আছে প্রচুর মসজিদ, মাদ্রাসা,মক্তব, ফোরকানিয়া , মাজার, কে জি স্কুল ও হাই স্কূলসহ সামান্য কলেজ । কোন বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের মতো প্রতিষ্টান দখলে নাই। আজও অপূর্ণনীয়। এখন যুগের চাহিদা ও সময়ের দাবী। আপাতত সারা বাংলাদেশের সুন্নীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা ও স্বাস্থ্য বীমা পলিসি গ্ৰহণ করে যুগোপযুগী নেতৃত্বে ও ধনীদের মধ্যে থেকে উদ্যোক্তা শ্রেনীর প্রথম কয়েক জন এগিয়ে আসলে ২/৪/১০ বছরের মাথায় তা সম্ভব মনে করি। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে  শক্তিশালী না হলে শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে শক্তিশালী হলে যে কোনো সময় অপ শক্তি হানা দিতে পারে। তখন  অবস্থা খুব খারাপ এর দিকে যাবে।  সেবা মূলক খাতে সুন্নীয়তের ভীত মজবুত করতে হবে।

ইসলামী সঠিক আকিদা পোষনকারী সব সংগঠন কে সব বিষয় না হলেও অন্তত কিছু বিষয়ে উপর ঐক্য মত হতে হবে। বতর্মান তাই বলে। এই বিষয়ে নেতৃত্বশ্রেনীদের অগ্ৰণী ভূমিকা দরকার। ঘুমিয়ে আর কতদিন থাকবেন। এখনো জাগ্ৰত হবেন না? দ্বিদ্বা- বীভক্ত ,দ্বম্ভ, অহংকার, একলা চলো নীতি থেকে সরে আসুন, নিজের ও সাধারণ জনগণের কথা মাথায় রেখে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করি সবাই। তা না হলে অস্তিত্ব এর সংকটে পড়তে হবে।  সুন্নী আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র এখন সময়ের দাবী

টার্গেট করে পলিসি ম্যাকার গঠন করতে হবে। মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের কে দলে আনতে সবাইকে একটু সময় দিতে হবে , মেধাবী ছাত্র না থাকলে প্রতিষ্ঠান চলবে কি ভাবে। কিছু দিন পরে বাতিলরা উড়ে এসে জোড়ে বসবে। এই জন্য এই কাজ সবাই কে করতে হবে, এটা নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব মনে করতে হবে। সুন্নী ছেলেরা গ্ৰামে যে রকম তৎপর বাহিরেও এর অভ্যাস ঠিক রাখতেই হবে। দেশে ও আন্তর্জাতিক ভাবে মর্যাদা শীল পেশায় হাঁটি হাঁটি পা পা করে জায়গা করে নিতে হবে।

বাতের ফেরকা কাদিয়ানীদের আমেরিকাতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আছে।  মাছ রাঙা টিভি বিধর্মী দের টিভি। সঠিক আকিদায় মতবাদ প্রচার ও প্রসার করতে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দরকার।একটু বিবেচনায় আনতে পারলে তথ্য প্রযুক্তির এই মুহূর্তে আমরা অনেক অনেক উপকার আসবে  ইনশাআল্লাহ। আমাদের নামধারী সুন্নীরা প্রকৃত আসল সুন্নীকে ঘায়েল করতে সুযোগ সন্ধানী ভুমিক পালন করে।

নারী শিক্ষা কে প্রধান্য দিতে গিয়ে পর্দার তোয়াক্কা না করে মাঠে ময়দানে নামাযে ওয়াজে, মিছিলে মিটিং এ সামনের কাতারে নিয়ে এসে ইসলাম তথা সুন্নীর অবর্ননীয় ক্ষতি সাধন করেছে। আসলে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত । তারা বুঝেও না বুঝার ভান ধরে। অপরদিকে আসল সুন্নীরা পুরুষ শিক্ষার গুরুত্ব দিতে গিয়ে নারীদেরকে ইসলাম তথা সুন্নী মতাদর্শ  শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। যার কারণে আমরা ৩০ বছর পিছিয়ে গেছি। ইদানিং একটু একটু বোধ উদয় হতে উঠেছে। হিজবুল তাওহীদসহ অন্যান্য বাতেলদের কথা কী বলবো, তারা অনেক এগিয়ে। কিন্তু সুন্নিদের অবস্থান কোথায়? নিজের মেয়ে,বোন, মা ও বউকে তো সুন্নী নারী কর্মী বানাব দূরের কথা,সুন্নীয়তের কোন বই তাদের হাতে তুলে দিছি না। পর্দা ও ইজ্জত আব্রু ইত্যাদি নিয়ে উপদেশ মূলক আলোচনা করছি না। ইসলামী কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাতে চেষ্টা করছি না। অন্যান্যরা কি করছে তাও তো দেখছি না।সুন্নী কয়জন মেয়ে আছে, দাঁড়ি ওয়ালা স্বামী পছন্দ করে। এর বেশী প্রমাণ প্রয়োজন নাই। তার আগে আমাদের কে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, তোমরা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। সত্য এক দিন কামিয়াব হব ইনশাল্লাহ।

Share on Facebook

2 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *