ফরায়েজ

আজকের বিষয় ফরায়েজ

হযরত মুহম্মদ (সাঃ) আজ থেকে ১৪শত বছর আগেই বলে গিয়েছেন, “উত্তরাধিকার আইন নিজে জানো ও অপরকে শেখাও, সকল জ্ঞানের অর্ধেক হল এই জ্ঞান”। মুসলিম হাওয়া সত্ত্বেও আমাদের অনেকেরই উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই।
বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) আজ থেকে ১৪শত বছর আগেই বলে গিয়েছেন, “উত্তরাধিকার আইন নিজে জানো ও অপরকে শেখাও, সকল জ্ঞানের অর্ধেক হল এই জ্ঞান”। মুসলিম হাওয়া সত্ত্বেও আমাদের অনেকেরই উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই।

কিন্তু এটা প্রত্যেক মুসলিমের জানা প্রয়োজন। মুসলিম আইনে কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার ওপর ভিত্তি করে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়ে থাকে। এভাবে বণ্টন করাকে ফারায়েজ বলা হয়।

এই সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা নিসাতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে। তাই এই বিষয়ে জানা উচিত। এতে কোন মুসলমান পুরুষ বা নারী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী তাঁর ভাগে কতটুকু সম্পত্তি পাবেন সেই সম্পর্কে জানতে পারবে।

এখানে শুধু আমরা স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও পুত্র-কন্যার উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অংশ নিয়ে আলোচনা করব।

তবে কোন মুসলমান মারা গেলে তার সম্পত্তি বণ্টনের আগে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। চলুন আগে জেনে নেই কী সেই সব আনুষ্ঠানিকতা।

১. মৃত ব্যক্তির পর্যাপ্ত সম্পত্তি থাকলে সেখান থেকে তার দাফন কাফনের যাবতীয় খরচ মেটাতে হবে।
২. তিনি যদি জীবিত থাকা অবস্থায় কোন ধার-দেনা করে থাকেন তবে তাও রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করে দিতে হবে।
৩. তাঁর স্ত্রী বা স্ত্রীদের দেনমোহর পরিশোধিত না হয়ে থাকলে বা আংশিক অপরিশোধিত থাকলে তা পরিশোধ করে দিতে হবে। মোট কথা স্ত্রীর সম্পূর্ণ দেনমোহর স্বামী মৃত অথবা জীবিত যাই থাকুক না কেন তা স্বামীর সম্পত্তি থেকে আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ পরিশোধ করে দিতে হবে।
৪. মৃত ব্যক্তি কোন দান কিংবা উইল করে গেলে তা প্রাপককে দিয়ে দিতে হবে।

উপরের সব কাজ সম্পন্ন করার পরে মৃত ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পত্তি ফারায়েজ আইন অনুযায়ী তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে হবে।

এবার জেনে নিই কি অনুপাতে বা কীভাবে এই সম্পত্তি বণ্টন হবে।

১. স্বামীর অংশ : স্বামী ২ ভাবে মৃত স্ত্রীর সম্পত্তির ভাগ পেয়ে থাকে। স্বামী কখনো তাঁর মৃত স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে না। মৃত স্ত্রীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। মৃত স্ত্রীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান কেউই না থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।

২. স্ত্রীর অংশ : স্ত্রীও ২ ভাবে তাঁর মৃত স্বামীর সম্পত্তি পেয়ে থাকে। বিধবা স্ত্রী কোন ভাবে তাঁর স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে না। মৃত স্বামীর কোন সন্তান বা তাঁদের পুত্রের সন্তান থাকলে স্ত্রী, স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে। যদি মৃত স্বামীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান কেউই না থাকলে তবে স্ত্রী, স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। স্ত্রী একাধিক হলেও সবাই মিলে ১/৪ অংশ সমান ভাগেই পাবে।

৩. বাবার অংশ : বাবা তাঁর মৃত সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ৩ ভাবে হয়ে থাকে। যদি মৃত সন্তানের পুত্র, পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্রের পুত্র এভাবে যতই নিচের হোক না কেন যদি থাকে, তবে মৃত সন্তানের পিতা পাবেন সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ।

যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন।

এই ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই বাবা পাবেন।

তবে মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান ও বাবা কেউ না থাকলে তাঁর সম্পত্তি তাঁর জীবিত ভাই বা ভাইরা পাবে। আবার ভাই না থাকলে তাঁর ভাইয়ের সন্তানরা পাবে।

৪. মায়ের অংশ : মা তাঁর মৃত সন্তানের সম্পত্তি পেয়ে ৩ ভাবে পেয়ে থাকে। – মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি যত নিম্নেরই হোক থাকলে অথবা যদি মৃত ব্যক্তির আপন, পূর্ণ বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাইবোন থাকলে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন।

মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি যত নিম্নের হোক না থাকলে এবং মৃত ব্যক্তির যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পাবেন। কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি যত নিম্নের হোক না থাকলে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকলে এবং যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীর অংশ বাদ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তার তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) মাতা পাবেন। মৃত ব্যক্তির এক ভাই থাকলেও মাতা ১/৩ অংশ পাবেন।

৫. পুত্র সন্তানের অংশ : মৃত ব্যক্তির ছেলে বা ছেলেরা সকল ক্ষেত্রেই সম্পত্তি পায়। যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে রয়েছে সেই ক্ষেত্রে ছেলে বা ছেলেরা, মেয়ে বা মেয়েদের চেয়ে দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে মাতাপিতা ও স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে বা ছেলেরাই পাবে।

৬. কন্যা সন্তানের অংশ : উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যারা তিনভাবে মাতাপিতার সম্পত্তি পেতে পারে। একমাত্র কন্যা হলে তিনি রেখে যাওয়া সম্পত্তির দুই ভাগের এক ভাগ বা (১/২) অংশ পাবে। একাধিক মেয়ে হলে সবাই মিলে সমানভাগে তিন ভাগের দুই ভাগ বা (২/৩) অংশ পাবে। যদি পুত্র থাকে তবে পুত্র ও কন্যার সম্পত্তির অনুপাত হবে ২:১ অর্থাৎ এক মেয়ে এক ছেলের অর্ধেক অংশ পাবে। যাহোক কন্যা কখনো মাতাপিতার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয় না।

পিতা মারা গেলে তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় যে সম্পত্তি পেতেন তা তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর উত্তরাধিকারীরা পাবে।

১৯৬১ সালের আগে এই নিয়ম ছিল না। পরে একটি আইন পাস করে এই নিয়ম চালু করা হয়। কারণ এতিমরা যাতে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হয় সেই সম্পর্কেও ইসলামে নির্দেশ দেয়া আছে। আবার মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কোন সন্তানকে ত্যাজ্য বলে ধরা হয় না। ফলে সম্পত্তি থেকে তাকেও বঞ্চিত করা যায় না। তবে কোন ব্যক্তি রেজিস্ট্রিকৃতভাবে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করে গেলে এবং সন্তানকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে সন্তানের অংশ উল্লেখ না করে গেলে ঐ সন্তান আর সম্পত্তি পাবে না। সৎ ছেলে-মেয়ে, সৎ বাবা বা সৎ মায়ের সম্পত্তি পায় না।

একই ভাবে সৎ বাবা বা সৎ মা, সৎ ছেলে-মেয়ের সম্পত্তি পায় না। কেউ কাউকে হত্যা করলে হত্যাকারী তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। জীবিত থাকা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে কেউ কারো সম্পত্তি পাবে না। জারজ সন্তান তার মা ও মায়ের আত্নীয়দের থেকে সম্পত্তি সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পাবে (মুসলিম হানাফী আইন অনুসারে)।

মৃত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকার না থাকলে এবং তা তিনি জীবিতকালে কাউকে না দেয়ার ব্যবস্থা করে গেলে সরকার তার সম্পত্তির ওয়ারিশ হবে। উত্তরাধিকার সম্পর্কে উপরোক্ত সাধারণ কয়েকটি বিষয় মনে রাখলে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের জটিলতা দূর হবে। 

ফারায়েজ আইন

পিতা ঃ
    সন্তান/পুত্র/পুত্রের পুত্র/নিু- থাকলে, ছয়ের এক অংশ পাবে।
    কোন সন্তান না থাকলে, অন্যান্য অংশীদারদের দেওয়ার পর অবশিষ্টাংশ পিতা পাবে / পিতা আসাবা হবে।
    পুত্র সন্তান না থেকে এক বা একাধিক কন্যা সন্তান থাকলে, কন্যাদের দেওয়ার পর অবশিষ্টাংশ পিতা পাবে।
    পুত্র সন্তান না থেকে এক বা একাধিক কন্যা সন্তান / নিু থাকলে পিতা ছয়ের এক অংশ পাবে এবং আসাবা সম্পত্তি পাবে।মাতা ঃ
    সন্তান/সন্তানের পুত্র/নিু/(ভাই/বোন এর দুজনই) থাকলে ছয়ের এক অংশ পাবে উক্ত কেহ না থাকলে তিনের এক অংশ পাবে।
    সন্তান/সন্তানের পুত্র/নিু/(ভাই/বোন এর দুজনই) না থেকে এক ভাই-বোন থাকলে মাতা তিনে এক অংশ পাবে।
    পিতা এবং স্বামী/স্ত্রী বর্তমান থাকলে, স্বামী বা স্ত্রীকে দেওয়ার পর মাতা পাবে বাকী সম্পত্তির তিনের এক অংশ পাবে।
    পিতা না থেকে দাদা বর্তমান থাকলে মাতা তিনের এক অংশ পাবে।
    মৃতের সন্তান ও ভাই বোন না থাকলে মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে স্ত্রীকে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তির তিনের এক অংশ এবং স্ত্রী হলে স্বামীকে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ছয়ের এক অংশ মাতা পাবে।স্বামী ঃ
    সন্তান বা নিুের কেহ থাকলে চারের এক এবং না থাকলে দুয়ের এক অংশ পাবে।স্ত্রী ঃ
    সন্তান বা নিুের কেহ থাকলে আটের এক এবং না থাকলে চারের এক অংশ পাবে।কন্যা ঃ
    কন্যা একজন হলে অর্ধেক এবং একাধিক হলে তিন ভাগের দুই ভাগ সবাই সমান ভাগে নিবে।
    পুত্র ও কন্য দুজনই থাকলে পুত্র কন্যার দ্বিগুন পাবে সেই ক্ষেত্রে কন্যা হবে আসাবা।পুত্রের কন্যা (মৃত পুত্রের অবর্তমানে পুত্রের কন্যা সমান অংশই পাবে-১৯৬১পারিবারিক আইন)ঃ
    পুত্র/কন্যা,  পুত্রের পুত্র/কন্যা না থাকলে পুত্রের কন্যা একজন হলে দুয়ের এক অংশ এবং একাধিক হলে তিনের দুই অংশ পাবে।
    এক কন্যা থাকলে পুত্রের কন্যা ছয়ের এক অংশ পাবে।
    পুত্র বা একাধিক কন্যা থাকলে পুত্রের কন্যা অংশচ্যুত হবে।
    পুত্রের পুত্র ও কন্যা দুজনই থাকলে পুত্রের পুত্র-পুত্রের কন্যার দ্বিগুন পাবে।আপন বোন / সহোদর বোন ঃ
    নিজের সন্তান / সন্তানের পুত্র / পিতা / দাদা / ভাই না থাকলে একজন হলে দুইয়ের এক অংশ, একাধিক হলে একত্রে তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে।
    মৃত ব্যক্তির পুত্রের কন্যা ও নিজের কন্যা থাকলে তারা অংশীদার হওয়ার পর অবশিষ্টাংশ তাদের বোন পাবে।
    বোন আপন ভাইয়ের অর্ধেক পাবে।
    মৃতের পুত্র / পুত্রের পুত্র / পিতা / দাদা থাকলে বোন কোন অংশ পাবে না।দাদা ঃ
    দাদা পিতার ন্যায় সম্পত্তির অংশ পাবে তবে পিতা জীবিত থাকলে দাদা কোন সম্পত্তি পাবে না।
    পিতা থাকলে দাদী অংশ পাবে না কিন্তু পিতা না থাকলে এবং দাদা থাকলে দাদার সঙ্গে দাদী অংশ পাবে।
    মাতা, পিতা এবং স্বামী/স্ত্রী রেখে কেহ মারা গেলে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর বাকী সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ এবং তিন ভাগের দুই ভাগ আসাবা হিসেবে পিতা পাবে।দাদী বা নানী ঃ
    পিতা / মাতা না থাকলে দাদী / নানী ছয়ের এক অংশ পাবে।
    পিতা বর্তমান থাকলে – দাদী এবং মাতা বর্তমান থাকলে দাদী ও নানী একত্রে বঞ্চিত হবে।বৈপিত্রেয় ভাই ঃ
    সন্তান / সন্তানের সন্তান, পিতা / দাদা না থাকলে, বৈপিত্রেয় ভাই একজন হলে ছয়ের এক অংশ, একাধিক হলে সবাই মিলে একত্রে তিনের এক অংশ পাবে।
    মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র, পিতা ও দাদা যে কেউ বর্তমান থাকলে বৈপিত্রিয় ভাই বঞ্চিত হবে।বৈপিত্রেয় বোন ঃ
     বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ন্যায় পাবে।বৈমাত্রেয় বোন ঃ
    সন্তান / সন্তানের পুত্র / পিতা / দাদা / ভাই-বোন /  বৈমাত্রেয় ভাই না থাকলে দুইয়ের এক অংশ, একাধিক বৈমাত্রেয় বোন হলে পাবে তিন ভাগের দুই ভাগ।
    বৈমাত্রেয় ভাই থাকলে বৈমাত্রেয় বোন তার সঙ্গে আসাবা হবে।
    একজন সহোদর বোন থাকলে বৈমাত্রেয় বোন তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে কিন্তু একাধিক সহোদর বোন থাকলে বৈমাত্রেয় বোন পাবে না।
    মৃতের কন্যা / পুত্রের কন্যা থাকলে বৈমাত্রেয় বোন আসাবা হবে এবং অংশ পাবে।

কোরানিক অংশীদারঃ (১২ জন)

১.    পিতা
২.    মাতা
৩.    স্বামী
৪.    স্ত্রী
৫.    দাদা/নানা
৬.    দাদী/নানী
৭.    বৈপিত্রিয়-ভাই
৮.    বৈপিত্রিয়-বোন
৯.    বৈমাত্রিয়-বোন
১০.    নিজের-বোন
১১.    কন্যা
১২.    পুত্রের কন্যা।
   ১৮ জন (আসাবা / অবশিষ্টভোগী)১.    পুত্র
২.    পুত্রের পুত্র
৩.    পিতা
৪.    দাদা
৫.    সহোদর ভাই
৬.    সহোদর বোন
৭.    বৈমাত্রিয় ভাই
৮.    বৈমাত্রিয় বোন
৯.    সহোদর ভাইয়ের পুত্র
১০.    বৈমাত্রিয় ভাইয়ের পুত্র
১১.    সহোদর ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
১২.    বৈমাত্রিয় ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
১৩.    সহোদর চাচা
১৪.    বৈমাত্রিয় চাচা
১৫.    সহোদর চাচার পুত্র
১৬.    বৈমাত্রিয় চাচার পুত্র
১৭.    সহোদর চাচার পুত্রের পুত্র
১৮.    বৈমাত্রিয় চাচার পুত্রের পুত্র।

মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুসারে সম্পত্তি বন্টন


নিজস্ব প্রতিনিধি

 আপডেট সময়: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ৪:৪৩ পিএম:

মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুসারে সম্পত্তি বন্টন

মুসলিম ফারায়েজ নীতি অনুসরণে নিচে দেওয়া হল ১। স্ত্রীর দুই অবস্থাঃ
(ক) মৃত্যু ব্যাক্তির সন্তান না থাকলে ১/৪,
( খ) আর থাকলে ১/৮ অংশ পাইবে।২। স্বামীর দুই অবস্থাঃ
(ক) স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তান না থাকলে ১/২,
( খ) আর থাকলে ১/৪ অংশ পাইবে।৩। কন্যার তিন অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র কন্যা থাকলে ১/২ ,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) পুত্র কন্যা একসাথে থাকলে ২:১ অনুপাতে পাইবে।৪। পিতার তিন অবস্থাঃ
(ক) মৃত্যু ব্যাক্তির পুত্র বা পৌত্র বা পুরুষ শ্রেনী
বর্তমানে থাকলে ১/৬ অংশ পাইবে,
(খ) পুরুষ শ্রেনি না থাকলে এবং কন্যা বা পৌত্রী বা
মহিলা শ্রেনী বর্তমানে থাকলে( ১/৬+অবশিষ্ট) অংশ
পাইবে,
(গ)পুরুষ বা মহিলা শ্রেনী বর্তমানে না থাকলে অবশিষ্ট
সকল অংশ পাইবে।৫। মায়ের তিন অবস্থাঃ
(ক) মৃত্যু ব্যক্তির সন্তান বা একাধিক ভাইবোন থাকলে
১/৬ অংশ পাইবে,
(খ) মৃত্যু ব্যক্তির যদি কোন সন্তান না থাকে বা
ভাইবোন ২ জনের কম থাকলে ১/৩ অংশ পাইবে,
(গ) স্বামী বা স্ত্রীর সাথে পিতা মাতা উভয়ে থাকলে ,
মৃত্যু ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ
দেয়ার পর বাকি সম্পত্তির ১/৩ অংশ পাইবে।৬। বৈপিত্রীয় ভাইবোনদের তিন অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র বৈপিত্রীয় ভাইবোন থাকলে ১/৬ অংশ,
(খ) একাধিক থাকলে ১/৩ অংশ পাইবে
(গ) মৃত্যু ব্যাক্তির পুত্র বা পৌত্র,পিতা বা দাদা থাকলে
বঞ্ছিত হইবে।৭। পৌত্রীগনের ছয় অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র পৌত্রী থাকলে ১/২,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র কন্যা থাকে তাহলে
পৌত্রীগন ১/৬ অংশ পাইবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক কন্যা থাকে তাহলে
পৌত্রীগন বঞ্ছিত হইবে,
(ঙ) মৃত্যু ব্যক্তির পৌত্রী ও পৌত্র একই সাথে থাকলে
অংশীদার হইবে,
(চ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির পুত্র থাকে তাহলে পৌত্রীগন
বঞ্ছিত হইবে।৮। সহোদরা বোনদের পাঁচ অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র সহোদরা বোন থাকলে ১/২,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) সহোদরা বোনের সাথে সহোদরা ভাই থাকলে
আসাবা হইবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র কন্যা বা পৌত্রী
থাকে তাহলে সহোদরা বোনগন ১/৬ অংশ পাইবে।
একাধিক কন্যা বা পৌত্রী থাকলে এবং অন্য কোন
ওয়ারিশ না থাকলে অংশীদার হইবে,
(ঙ) মৃত্যু ব্যাক্তির পুরুষ শ্রেনীর ওয়ারিশ থাকলে
সহোদরা বোনগন বঞ্ছিত হইবে।৯। বৈমাত্রিয় বোনদের সাত অবস্থাঃ
(ক) যদি মৃত্যু ব্যাক্তির সহোদরা বোন না থাকে ও
একজন মাত্র বৈমাত্রিয় বোন থাকলে ১/২,
(খ)একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র সহোদরা বোন থাকে
তাহলে বৈমাত্রিয় বোন ১/৬ অংশ পাইবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক সহোদরা বোন থাকে
তাহলে বৈমাত্রিয় বোনগণ বঞ্ছিত হইবে,
(ঙ)যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক সহোদরা বোন থাকে
এবং বৈমাত্রিয় বোনের সাথে বৈমাত্রিয় ভাই থাকলে
একএে অংশীদার হইবে।
(চ) মৃত্যু ব্যাক্তির কন্যা বা পৌত্রী থাকলে এবং অন্য
কোন ওয়ারিশ না থাকলে বৈমাত্রিয় বোনগণ অবশিষ্ট
অংশ পাইবে,
(ছ) মৃত্যু ব্যক্তির পুরুষ ওয়ারিশ থাকলে বৈমাত্রিয়
বোনগন বঞ্ছিত হইবে।১০। দাদী নানীর ২ অবস্থাঃ
(ক) পিতৃ বা মাতৃ সম্পর্কের এক বা একাধিক যাহাই হোক
১/৬ অংশ পাইবে,
(খ) মৃত্যু ব্যক্তির মাতা জীবিত থাকলে বঞ্ছিত হইবে।
তবে পিতা জীবিত থাকলে দাদী বঞ্ছিত হইবে।

  স্বামী
  স্ত্রী
  পুত্র
  মৃত পুত্র

  কন্যা
  মৃত কন্যা

  পিতা
  মাতা
  দাদা
  দাদি  নানি  সহোদর ভাই  সহোদর বোন  সৎ ভাই (বৈমাত্রেয়)  সৎ বোন (বৈমাত্রেয়)  সৎ ভাই (বৈপিত্রেয়)  সৎ বোন (বৈপিত্রেয়)  সহোদর ভাইয়ের পুত্র  সৎ ভাই(বৈমাত্রেয়)-এর পুত্র  সহোদর ভাইয়ের পুত্রের পুত্র  সৎ ভাই(বৈমাত্রেয়)-এর পুত্রের পুত্র  চাচা  চাচা (বৈমাত্রেয়)  চাচাতো ভাই  চাচাতো ভাই (বৈমাত্রেয়)  চাচাতো ভাইয়ের পুত্র  চাচাতো ভাই (বৈমাত্রেয়) এর পুত্র  চাচাতো ভাইয়ের পুত্রের পুত্র  চাচাতো ভাই (বৈমাত্রেয়)এর পুত্রের পুত্র
সম্পদের বিবরণজমিশতাংশস্বর্ণভরিরৌপ্যভরি

মুদ্রাটাকাফলাফল আসহাবুল ফারায়েজ : পরিচয় পরিচয় : আসহাব- এটি সাহেব এর বহুবচন। অর্থ হলো- সঙ্গী, মালিক। ফারায়েজ- এটি ফারজুন এর বহুবচন। অর্থ হলো- নির্দিষ্ট অংশ। সুতরাং আসহাবুল ফারায়েজ মানে হলো- নির্দিষ্ট অংশের মালিকগণ। পরিভাষায় : মৃতের সে-সকল আত্মীয় ত্যাজ্যসম্পত্তি থেকে যাদের অংশ কুরআনুল কারীমে সুনির্ধারিত। এরকমের লোকসংখ্যা মোট বারজন। পুরুষ থেকে চারজন। মহিলা থেকে আটজন। এদের নির্ধারিত অংশ নিম্নরূপ।
(সহজ করার উদ্দেশ্যে অংশের বিবরণের ভাষাটি কিতাবি ঢংয়ে না রেখে আরবি বাঙলা মিশিয়ে বিশেষ এক জগা খিচুড়ির মত করে বলা হয়েছে। আশা করছি খিচুড়িটি মজাদার হবে। এ বিবরণটি পেয়েছি শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় উস্তাদে মুহতারাম দারুল ফিকরি ওয়াল ইরশাদ ঢাকা-এর মুফতী মুফতী হেমায়েত উদ্দিন দা. বা. থেকে। )
আসহাবুল ফারায়েজের নির্ধারিত অংশসমূহ পুরুষ ৪ শ্রেণী- বাবা, দাদা, زوج. اولاد ام . • বাবার তিন হালত- এক. سدس مع الابن وابن الابن وان سفل দুই. سدس مع التعصيب مع الابنة وابنة الابن وان سفلت তিন. تعصيب محض عند عدم الولد وولد الابن وان سفل • দাদার ৪ হালত- (প্রথম ৩ হালত বাবার মতই।) চার. বাবা থাকলে দাদা মাহজুব। • আওলাদে উম্ম এর ৩ হালত- এক. ১জন হলে سدس দুই. একাধিক হলে ثلث তিন. ولد. ولد الابن. اب. جد দ্বারা মাহজুব। • স্বামীর দুই হালত- এক. نصف عند عدم الولد وولد الابن وان سفل দুই. ربع مع الولد وولد الابن وان سفل
মহিলা ৮ শ্রেণী- ..بنات الابن. بنات الصلب. زوجة হাকিকি, আখয়াফি ও علاتى বোন, جدة صحيحة. ام • স্ত্রীর ২ হালত- ১. ربع عند عدم الولد وولد الابن وان سفل ২. ثمن مع الولد وولد الابن وان سفل • বানাতে সুলব বা আপন কন্যার ৩ হালত- ১. بنات الصلب১জন হলে نصف ২. একাধিক হলে ثلثان ৩. ابنএর সাথে عصبة • বানাতুল ইবন এর ৬ হালত- ১. একজন হলে- نصف ২. একাধিক হলে ثلثان , শর্ত হলো بنات الصلب না থাকতে হবে। ৩. بنات الصلب ১জন হলে بنات الابن সুদুস পাবে। ৪. بنات الصلبএকাধিক হলে মাহজুব হবে। ৫. হ্যাঁ, যদি তাদের বরাবর অথবা নীচে কোন গোলাম থাকে তবে عصبة হবে। ৬.ابن দ্বারা সাকেত হবে। • হাকিকি বোনের ৫ হালত- ১. একজন হলে- نصف ২. একাধিক হলে- ثلثان . ৩. مع الاخ للذكر مثل حظ الانثيين ৪. باقى مع البنات وبنات الابن ৫. ابن وابن الابن وان سفل দ্বারা মাহজুব। اب দ্বারা اتفاق. جد দ্বারা اختلاف. অংশ • علاتى বোনের ৭ হালত- ১. একজন হলে-نصف ২. একাধিক হলে- ثلثان. শর্ত হলো হাকিকি বোন না থাকতে হবে। ৩. হাকিকি বোন ১জন হলে- علاتى বোনسدس পাবে। ৪. হাকিকি বোন একাধিক হলে মাহজুব হবে। ৫. হ্যাঁ, যদি علاتى বোনের সাথে علاتى ভাই থাকে তাহলে عصبة হবে। ৬. باقى مع البنات وبنات الابن ৭. মাহজুব হবে- – ابن وابن الابن وان سفل দ্বারা – ابদ্বারা.اتفاق -জাদ বাদ দাদা দ্বারা ইখতেলাফ। – হাকিকি ভাইয়ের দ্বারা। – বোনের দ্বারা যখন بنات. بنات الابن দ্বারা عصبة হবে। অংশ • اخت لام : এর বিবরন اولاد ام এর বিবরণে বিবৃত হয়েছে।

🙂 অংশ • ام এর ৩ হালত- ১. ولد وولد الابن وان سفل অথবা যে কোনভাবে যে কোন দিক থেকে একাধিক ভাইবোন হলে- سدس ২. هؤلاء المذكورين না থেকে احد الزوجين مع الابوين হলে- ثلث ما بقى بعد فرض احد الزوجين ৩. احد الزوجين مع الابوين না হলে- ثلث الكل অংশ • جدة صحيحةএর ২ হালত- ১. এক বা একাধিক হলে- سدس ২. মাহজুব হবে- – মা দ্বারা اموميات ও ابويات – বাবার দ্বারা শুধু ابويات. – দাদার দ্বারাও ابويات কিন্তু বাবার মা, যদিও উপরের দিকে যায়।- قربى দ্বারা بعدى ( قربى ওয়ারেসা হোক বা মাহজুবা) অংশের বিবরণ সমাপ্ত এ বিবরণটি আপনাকে টাইট মুখস্থ করে ফেলতে হবে। এটি ফাউণ্ডেশন। গড়গড়ে মুখস্থ করা ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই।
আসাবা : পরিচয়, প্রকার ও হুকুম ফারায়েজের মাসআলায় মাথাব্যথার আরেক নাম .عصبةসাধারণ কিছু বিষয় মনে রাখলে আসলে বিষয়টি মোটেও জটিল নয়। সাহস দিচ্ছি না; ঘটনা আসলেই এমন। আসাবা সংক্রান্ত অস্পষ্টাতা দূর করার জন্য সংক্ষিপ্তভাবে সাধারণ কিছু বিষয় তুলে ধরছি। আসলে عصبة মানে কী? আসুন, আগে এর শাব্দিক অর্থটি জানি- سمع وضرب) عَصْب و عُصوبٌ) ‘বা’ সিলাসহ : ঘিরে রাখা। চারপাশে জমা হওয়া। যেমন বলা হয় عصَب القومُ بفلان : লোকজন অমুককে ঘিরে রেখেছে বা তার চারপাশে জমা হয়েছে। এখান থেকে এসেছে عصبة শব্দটি। অমুকের আসাবা : তার ছেলেগণ এবং পিতা সম্পর্কিয় আত্মীয়গণ। বা তার জ্ঞাতি-গোষ্ঠির লোকজন যারা তাকে বিপদাপদে সাহায্য করে, শক্তি জোগায়। শব্দটি জমার ওজনে। সে হিসেবে এটি জমাই হবে। এর واحد কী? নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে, ধরা নেওয়া যায় এর একবচন হলো عاصب কারণ, একই ওজনের অন্যান্য শব্দগুলো এমন হয়। যেমন, طالب- طلبة. ظالم- ظلمة যদি এমনই হয় তাহলে এ ধরণের লোক একজন হলে তাকে عاصب و عاصبة। দুই জন হলে عاصبان و عاصبتان. আর দুয়ের অধিক হলে عصَبَة এভাবে বলা উচিত। কিন্তু, শব্দ কি আর সবসময় ঔচিত্য মেনে চলে? ফলে ঘটনা হয়েছে এই- عصَبَة শব্দটি সরকারী হয়ে গেছে। এক হোক, দুই হোক, বহু হোক, পুরুষ হোক, মহিলা হোক- সকল ক্ষেত্রেই এই عصَبَةই ব্যবহার করা হয়। এ শব্দের আরেকটি জমা আছে- عصبات বহুর ক্ষেত্রে এ عصباتও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতো গেল শাব্দিক বিশ্লেষণ। ফারায়েজ শাস্ত্রের পরিভাষায় عصبة বলা হয় : যারা মৃত ব্যাক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির হকদার। কিন্তু তাদের নির্দিষ্ট কোন অংশ নেই; বরং আসহাবুল ফারায়েজ নিজেদের নির্ধারিত অংশ নিয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ আর আর আসহাবুল ফারায়েজ না থাকলে সম্পত্তির সমস্ত অংশ যারা নিয়ে নেয়। তারা কারা? কোন কোন আত্মীয়? এক ধরণের লোক তো নয়; অতএব এই লোকগুলোকে চিহ্ণিত করতে হলে আগে আসাবাকে ভাগ করে ফেলতে হবে। আসাবার প্রকার : আসাবা আছে মোট চার রকমের। ১. আসাবা বি নাফসিহি। ২. আসাবা বিগাইরিহি। ৩. আসাবা মাআ গাইরিহি। এ তিন ধরণের আসাবাকে বলা হয় আসাবায়ে নসবী। যেহেতু তারা নসব তথা আত্মীয়তার সূত্রে আসাবাহ হয়েছে। ৪. আসাবা সববি। এদের মধ্যে আসাবাহ বি নাফসিহি-ই আসলে মৌলিক আসাবাহ। বাকিরা কোনমতে আছে আরকি।

• আসাবাহ বিনাফসিহির পরিচয় : প্রথমেই মনে রাখি- আসাবা বিনাফসিহি কেবল পুরুষরাই হতে পারে। মাহিলারা নয়। এবার পরিচয় শুনুন। আসাবা বিনাফসিহি বলা হয়- মৃত ব্যাক্তির সেসকল পুরুষ আত্মীয় মৃত ব্যাক্তির সাথে যাদের সম্পর্কের মাঝখানে কোন মহিলার মধ্যস্থতা নেই। এরকম আত্মীয় মোট চার রকমের হয়- ১. তার অংশ। جزء الميت অর্থাৎ ছেলেরা। ছেলের ছেলেরা। ছেলের ছেলেরা। নিচে যেতে থাকেন। ২. তার মূল।أصل الميت অর্থাৎ- পিতা, তার পিতা। তার পিতা। তার পিতা। উপরে যেতে থাকেন। ৩. পিতার অংশ। جزء أبيه অর্থাৎ- ভাই। তার ছেলে। তার ছেলে। তার ছেলে। নিচে যেতে থাকেন। ৪. দাদার অংশ।جزء جده অর্থাৎ- চাচা ( চাচা বলতে- মৃতের চাচ। মৃতের বাবার চাচা। দাদার চাচা। এভাবে যত উপরে যাক, সবাই উদ্দেশ্য।) তো, এ চাচা সমগ্রের কেউ না থাকলে তার ছেলে। তার ছেলে। তার ছেলে। নিচে যেতে থাকেন। • তাদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করার নিয়ম : আসাবাদের প্রাপ্ত সম্পদ কিন্তু এদের সবাইকে একসাথে দেওয়া হবে না। বরং- এই শ্রেণী না থাকলে ঐ শ্রেণী। ঐ শ্রেণী না থাকলে সেই শ্রেণী। এভাবে পর্যায়ক্রমে। নিয়মগুলো খেয়াল করুন। ১. যদি শুধু একটি শ্রেণীর লোকজনই থাকে তাহলে তো কোন ঝামেলাই নেই। তারা সব নিযে নেবে। ২. কিন্তু যদি একাধিক শ্রেণী থাকে? তাহলে সম্পদ পাবে প্রথম শ্রেণী। তারা না থাকলে দ্বিতীয় শ্রেণী। তার না থাকলে তৃতীয় শ্রেণী। তারা না থাকলে চতুর্থ শ্রেণী। যেমন : দাদার পিতা এবং চাচা। সম্পদ পাবে দাদার পিতা। চাচা বঞ্চিত। অথবা ধরুন, ছেলের ছেলের ছেলে এবং ভাই। সম্পদ কিন্তু সেই পুতি পাবে। ভাই না। ৩. আবার দেখুন, এক শ্রেণীর লোকজনের ভেতর সবাই যদি একই স্তরের হয় তাহলে তো সবাই সমান হারে বণ্টন করে নিয়ে যাবে। যেমন : দুই ছেলে। বা দুই জন ছেলের ছেলে। আর যদি নানা স্তরের হয় তাহলে উপরের স্তর পাবে। নিচের স্তর বঞ্চিত হবে। যেমন : ছেলে এবং ছেলের ছেলে । সম্পদ পাবে ছেলে। ছেলের ছেলে বঞ্চিত হবে। অথবা ছেলের ছেলে এবং ছেলের ছেলের ছেলে আছে তাহলে সম্পদ পাবে ছেলের ছেলে। বা দাদা এবং দাদার পিতা। সম্পদ পাবে দাদা। দাদার পিতা বঞ্চিত। প্রতিটি শ্রেণীতেই এ নিয়ম কার্যকর হবে। আরেকটা কথা হলো- দেখুন, ছেলে তো ছেলেই। সত্যিকার অর্থে ছেলের কোন রকমফের হয় না। এমনিভাবে পিতা, পিতার পিতা, পিতার পিতার পিতা… তো, পিতারও কোন রকমফের হয় না। কিন্তু এক স্তরেই ভাই আর চাচা নানা রকম হয়- আপন ভাই। সৎ ভাই (পিতা এক, মা ভিন্ন)। বৈপিত্রেয় ভাই। মানে, মার ঘরের ভাই (মা এক পিতা ভিন্ন)। এই ধারাবাহিকতায় ভাতিজারাও নানা রকম হতে পারে। এমনিভাবে এক স্তরে চাচাও তিন রকম হয়- আপন চাচা, সৎ চাচা, বৈপিত্রেয় চাচা। এর সুত্র ধরে চাচাতো ভাই আর চাচাতো ভাতিজারাও কিন্তু নানা রকম হবে। প্রশ্ন হলো- একই স্তরে একাধিক রকম থাকলে তখন দেওয়ার পদ্ধতি কী? এর উত্তর হলো- এখানে শ্রেণীর বিন্যাস এর সাথে সাথে আত্মীয়তা-সূত্রের শক্তি বিবেচনা করা হবে। সে হিসেবে প্রথমে আপন। এরপর সৎ। আর বৈপিত্রেয় তো হিসেবেই আসবে না। কারণ, মায়ের মধ্যস্থতা থাকার কারণে তারা শুরু থেকেই আসাবার সীমানার বাইরে। পূর্ণ বিন্যাসটি এমন- ছেলে-ছেলের ছেলে-পিতা-দাদা-আপন ভাই-সৎ ভাই-আপন ভাতিজা-সৎ ভাতিজা-আপন চাচা-সৎ চাচা-আপন চাচাতো ভাই-সৎ চাচাতো ভাই-আপন চাচাতো ভাতিজা-সৎ চাচাতো ভাতিজ। একটি জিনিস নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন- আসাবা বিনাফসিহির এই পুরো বণ্টন প্রক্রিয়াটি দুটি মূলনীতির আলোকে সম্পাদিত হয়েছে- ১. যে অধিক নিকটবর্তী, অতঃপর যে অধিক নিকটবর্তী, অতঃপর যে অধিক নিকটবর্তী…. ২. আত্মীয়তা-সূত্র যার বেশি শাক্তিশালী, অতঃপর যার…এভাবে। একটি জিনিস খেয়াল করেছেন? আসাবাহ কারা কারা হচ্ছে? ছেলের দিক, পিতার দিক, ভাযের দিক, চাচার দিক। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির চতুর্দিক বেষ্টিত। ফারায়েজের পারিভাষিক সংজ্ঞায়ও কি চমৎকারভাবে এর শাব্দিক অর্থটি ফুটে উঠেছে? অদ্ভূত!! যাক, আসাবা বিনাফসিহি নিয়ে আমাদের আলাপ-সালাপ শেষ। আশা করি জিনিসটা পরিস্কার হয়েছে। চলেন, এবার বাকি তিন আসাবা নিয়ে কিছু গপসপ করি।

🙂
আসাবা বিগাইরিহি ব্যাপারটি এমন নয় যে, তাদের পরিচয় ও হুকুম নতুন করে দেওয়া হবে। এসব পেছনে অংশ বণ্টনের ভেতরে চলে গেছে। এখন শুধু তাদরেকে চিহ্ণিত করে দেওয়া হবে। অংশ বণ্টনের বিবরণে লক্ষ্য করে দেখুন, কন্যা, পুত্রকন্যা, আপন বোন এবং সৎবোন- এ চারজন এক হালতে গিয়ে ভাইদের মাধ্যমে আসাবায় পরিণত হচ্ছে এবং সেখানে তাদেরকে হিসেবে অংশ দেওয়া হচ্ছে। এঁরা কিন্তু মূলতঃ আসাবা ছিলো না; ভাই তাদেরকে আসাবা বানাচ্ছে। এজন্যই এদেরকে আসাবা বিগাইরিহি (অন্যের দ্বারা মানে ভাইয়ের দ্বারা আসাবা) বলা হয়। সুতরাং আসাবা বিগাইরিহি এর সংজ্ঞাটা আমরা এভাবে দিতে পারি- নির্দিষ্ট অংশপ্রাপ্ত যে সকল মহিলারা ভাইয়ের মাধ্যমে আসাবা হয় তারাই আসাবা বিগাইরিহি।

🙂
আসাবা মাআ গাইরিহি এঁরাও এমন- নতুন করে তাদের কোন হুকুম বলার নাই। তাদের পরিচয় ও হুকুম অংশের বণ্টনে বিবৃত হয়ে গেছে। এখন কাজ শুধু এদেরকে চিহ্ণিত করে দেয়া। অংশের বণ্টনে লক্ষ্য করে দেখুন, আপন বোন বা সৎবোন এক হালতে গিয়ে কন্যা বা পুত্রকন্যাদের সাথে মিলিত হয় এবং কন্যা বা পুত্রকন্যারা নিজেদের নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে নেবার পর অবশিষ্ট অংশ এরা আসাবা হিসেবে নিয়ে নেয়। জরুরী একটি কথা মনে রাখুন- আপন বোন যখন আসাবা মাআল গাইর হয় তখন সে বিধানগতভাবে আপন ভাইয়ের স্থানে চলে আসে। এজন্য আপন ভাই থাকলে যারা সাকেত হয় তেমনিভাবে আসাবা মাআল গাইর হওয়ার পর এই বোনের দ্বারাও তারা সাকেত হয়ে যাবে। যেমন, সৎভাই, সৎবোন, চাচা, ভাতিজা প্রমুখ। এমনিভাবে, সৎবোন যখন আসাবা মাআল গাইর হয় তখন সে-ও বিধানগতভাবে সৎভাযের স্থানে চলে যায়। ফলে সৎ ভায়ের মাধ্যমে যারা যারা সাকেত হতো তারা এর মাধ্যমেও সাকেত হয়ে যাবে। যেমন, আপন-সৎ ভাতিজা, চাচাসমগ্র প্রমুখ। বহুত শক্তিশালী।

🙂 একটা প্রশ্ন আপনার মনে জাগতে পারে। জাগাটা আসলে স্বাভাবিক। প্রশ্নটি এই- আসাবা বিলগাইর আর মাআল গাইর-এর মধ্যে ঘুরেফিরে কথা তো সে একই- কয়েজন মহিলা কিছু অবস্থায় অন্যের সাথে থাকাকালীন আসাবা হয়। তো, এটাকে এমন দুই শিরোণামে ভাগ করার কী দরকার! বিল বা মাআ যে কোন একটি দিয়ে বলে দিলেই হয় যে এই এই মহিলারা অন্যের সাথে থাকাবস্থায় আসাবা হয়। এর উত্তর হলো- ভাগ করার দরকার আছে। এদেরকে এক শিরোণামে আনা সম্ভব নয়। প্রথমত দেখুন, আসাবাহ বিগাইরিহির মাঝে মহিলার সংখ্যা হলো চার জন। আর মাআ গাইরিহির মাঝে সে চারজন থেকে এসেছে মাত্র দুই জন। সুতরাং একভাগে দেখাতে গেলে প্যাঁচ লাগবে। দ্বিতীয়ত, বিগাইরিহির মাঝে মহিলাদের সাথে আসাবা হওয়ার মধ্যে পুরুষরাও শরীক হয়। অর্থাৎ মহিলারা যেমন আসাবা হয় তেমনি পুরুষরাও আসাবা হয়। এ কারণে এদের নাম রাখা হয়েছে- আসাবাহ বিগাইরিহি- অন্যের সাথে মিলেমিশে আসাবাহ। পক্ষান্তরে, মাআগাইরিহির মাঝে শুধু এরাই আসাবাহ হয়; সাথের মহিলারা আসাবাহ হয় না। তারা নিজেদের নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করেমাত্র। এ দিক লক্ষ্য করেই এদের নাম রাখা হয়েছে- মাআগাইরিহি-অন্যের সাথে থেকে আসাবাহ। যাক, আলহামদুলিল্লাহ, আসাবাহ নসবির তিন প্রকারের আলোচনা শেষ হলো। এবার আমাদের শেষ আলোচনা হলো আসাবা সববি নিয়ে। আসুন, শেষ করে ফেলি।

আসাবা সববি : পরিচয় ও হুকুম পরিচয় : العصبة السببية এর আরেক নাম হলো مولى العَتاقة. আগে مولى العَتاقة এর ব্যাখ্যা করা যাক। مولى মানে মনিব। আর العَتاقة মানে আজাদ করা। দুটো মিলে অর্থ হয়- আজাদ করার সূত্রে মনিব বা সোজা বাঙলায় আজাদকারী মনিব। গোলাম থাকা অবস্থায় তার কোন ইচ্ছাধিকার থাকে না। নিজস্ব বলতে কিছু থাকে না। নিজস্ব সম্পদও নেই। সুতরাং সে মারা যাবার পর তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার কে হবে সে প্রশ্নও নেই। কিন্তু আজাদ করে দিলে সে সম্পূর্ণ স্বাধীন একজন মানুষে পরিণত হয়। তখন তার সব কিছু তার আপন মালিকানায় থাকে। ফলে সে মারা যাবার পর একজন স্বাধীন মানুষের মতই তার সমস্ত সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে। ধরা যাক, এরকম এক ব্যাক্তি মারা গেল। এদিকে তার উত্তারাধিকারীদের মধ্যে আসহাবুল ফারায়েজ এবং আসাবহ উভয় শ্রেণী বিদ্যমান আছে। তখন তো কোন ঝামেলা নেই। আসহাবুল ফারায়েজকে দেওয়ার পর। অবশিষ্ট সে আসাবারা নিয়ে নিবে। অথবা, আসহাবুল ফারায়েজ বলতে কেউ নেই; আছে শুধু আসাবা। তখনও কোন ঝামেলা নেই। আসাবারা সব নিয়ে যাবে। কিন্তু যদি এমন হয়- শুধু আসহাবুল ফারায়েজ আছে; আসাবা কেউ নেই। তখন আসহাবুল ফারায়েজ নিজেদের অংশ নেবার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি কে নিবে? প্রশ্ন। অথবা, আসহাবুল ফারায়েজ বা আসাবা কোন শ্রেণীই বিদ্যমান নেই, তখন তার সম্পত্তি কে নিবে? প্রশ্ন। এর উত্তর হলো- তখন তার সমস্ত সম্পদ নিবে তার আজাদকারী গোলাম। কেন? কোন কেন নাই। হাদীসে তাকে এ অধিকার দেওয়া হয়েছে। আর কোন কেন চলতে পারে না। তবে, যুক্তি দেখালে এভাবে দেখানো যেতে পারে। গোলামীর জীবন অনেক মৃত মানুষের মত। আজাদ করার মাধ্যমে মনিব তাকে স্বাধীন জীবন ভোগ করার সুযোগ দিয়েছে। এর কৃতজ্ঞতা আদায় স্বরূপ এ ব্যবস্থা। তাকে তার সম্পত্তির এক ধরণের আসাবাহ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সে তার বংশীয় আসাবাহ নয়; বিশেষ একটা কারণের সূত্রে আসাবাহ বানানো হয়েছে তাই তাকে العصبة السببية বলা হয়। আজাদকৃত গোলাম মারা যাবার পর যদি তার আজাদকারী মনিব জীবিত থাকে তাহলে তো সে-ই পাবে। আর যদি মনিব না থাকে তাহলে মনিবের আসাবারা (আসাবার বিবরণে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী) পর্যায়ক্রমে নিয়ে নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
Facebook
Twitter
Instagram