দান-ইসলাম ধর্মের এক অনুপম রীতি

আমাদের ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস ও রীতি নীতির মধ্যে অন্যতম রীতি হল দান ও অনুদান। দানের ব্যাপারে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে অসংখ্য বার এসেছে। দানের মাধ্যমে আয়ু বাড়ে এমনকি ক্যান্সার এর মত বড় বড় রোগ থেকে মুক্তি আশা করা যায়।আমাদের বাংলাদের পরিবেশ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসেছে যে , দান, দাতার চেয়ে দান গ্রহিতা বেশী ধনী।তবে তাদের সংখ্যা সামান্য । তারা সমাজে ও দেশের জন্য ক্ষতিকর।তারা দেশের শত্রু। আমাদের দেশে বন্যার সময়, রমজানে ও শীত কালে দান কারীর সংখ্যা বেশী পরিলক্ষিত হয়। দান দাতা ব্যক্তি রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যাক্তি মর্যাদা রক্ষায় যথেষ্ট ভুমিকা রাখে।আর প্রত্যেকের জম্ম ভুমিতে আর্থিক, সামাজিক, শারীরিক সম্পর্ক বা নাড়ির টান এমনকি আত্মমর্যাদাবোধ ও মানবতাবোধ এর দিক থেকে প্রচুর দাবি বহন করে দান। এতে করে দাতার সামাজিক মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আপনি/আমরা কল্পনাও করতে পারব না।

একজন ধনী দান দাতার ব্যাক্তির সামাজিক মর্যাদা কে খাট করে দেখার কোন কারণ নেই, মাক্কা থেকে মদীনায় হিজরত কারী সাহাবাদের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধনীরা ধনীদের সাথে, জ্ঞানীরা জ্ঞানী দের সাথে সমাজপতিরা সমাজপতি দের সাথে ভাগাভাগি করে নাও।এর থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে,দাতা বা ধনী ব্যাক্তিদেরকে ইসলাম তথা মহানবী সা: মর্যাদার আসনে সমাসীন করেছেন।দান টা, নিয়মিত, গঠনমূলক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মতামত নিয়ে, মতামতকে গ্ৰহণ করে, দানকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।দান যে এক প্রকার অলৌকিক ঔষধ, এমনকি ক্যান্সা এর মতো যে কোন রোগ কে প্রতিহত করতে পারে।এই বিশ্বাস তাদের আছে, যারা দৈহিক শক্তি ও অলৌকিক শক্তি কে অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা অনুধাবন করতে পারে।যাদের বিশ্বাস পাথরের চেয়ে শক্ত,আবেগ আর বিবেক এর মাঝামাঝি থেকে অবিশ্বাস মূলক বস্তুকে শুধু পরাজিত না একদম শেষ করে দিতে পারে একমাত্র তারাই তাদের দানকে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে দিতে পারে।যেমন,হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা: এর দান,দেখতে কম কিন্তু আল্লাহ এর সালাম  এক মাত্র তিনিই পেয়েছেন।এটাই বিশ্বাস, এখানে একজনের দান আল্লাহর দরবারে কবুল হলে, সবাই কবুলের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু সম্মিলিত দান সবচেয়ে ভাল।হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস মনে পড়ে গেল।একদা এক জায়গায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন,এক সাহাবী তার একটি বকরি মাথা টা রেখে সব দান করে দিলেন, তখন অন্য একজন বলে উঠল, মাথা ছাড়া সব শেষ, সাথে সাথে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাথায় শেষ, অবশিষ্ট সব আছে ও থাকবে। হাদিস টি সবাই একটু অনুধাবন করুন।এই থেকে বুঝা যায়, আমরা যা খাই, তা শেষ,আর যা দিয়ে দি, তা শেষ না,তা এক দিন কাজে আসবে ইনশাল্লাহ।

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *