দরুদ শরীফের গুরুত্ব

দুরূদ বা দুরূদ শরীফ 

(ফার্সি: درود‎‎) হল একটি সম্ভাষণ যা মুসলমানরা নির্দিষ্ট বাক্যাংশ পড়ে ইসলামের শেষ পয়গম্বর হযরত মুহাম্মাদ (দঃ)-এর শান্তির প্রার্থণা উদ্দেশ্যে পাঠ করা হয়ে থাকে। এক কথায় দরুদ ছাড়া কোন ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল যোগ্য না।  একটি ফার্সি শব্দ যা মুসলমানদের মুখে বহুল ব্যবহারের কারণে ১৭শ শতাব্দীতে বাংলা ভাষায় অঙ্গীভূত হয়ে যায়। বৃহত্তর অর্থে হযরত মুহাম্মাদ (দঃ)-এর প্রতি এবং তার পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি এবং সহচরদের প্রতি আল্লাহ্‌র দয়া ও শান্তি বর্ষণের জন্য প্রার্থনা করাই দুরূদ। দুরূদকে প্রায়ই সম্মানসূচকভাবে ইসলামী পরিভাষায় “দুরূদ শরীফ”ও বলা হয়ে থাকে।

হযরত মুহাম্মাদ (দঃ)-এর নাম উচ্চারণের সময় সর্বদা “সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” (অর্থ: আল্লাহ’র শান্তি বর্ষিত হোক তার উপর) বলা হয়, যা একটি দুরূদ। একটি দুরূদের অর্থ এরকম: “হে আল্লাহ, হযরত মুহাম্মাদ (দঃ)-এর প্রতি আপনি দয়া পরবশ হোন। তাঁর আলোচনা ও নামকে আপনি এই পৃথিবীর সকল আলোচনা ও নামের মাঝে সর্বোচ্চ স্থানে রাখুন।”

সালাম

সালাম, (এছাড়াও উর্দুতে দুরূদ বা সালাম) সাধারণতভাবে শান্তি বা দোয়া বা অভিবাদন হিসেবে অনুবাদ করা হয়।

কুরআনের সাক্ষ্য

স্বয়ং আল্লাহ এবং তার ফেরেশতাগণ হযরত মুহাম্মাদ (দঃ)-এর প্রতি দুরূদ পাঠ করেন যা থেকে দুরূদ পাঠের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। এ সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তা’আলা সূরা আল আহযাব এ বলেনঃ

আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর। — সূরা আল আহযাব, আয়াত:৫৬

দুরূদ পাঠের গুরুত্ব

তেমনি কোনো দোয়ার মধ্যে দুরূদ অন্তর্ভূত না থাকলে সেই দোয়া আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছায় না।। তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত মুহাম্মাদ (দঃ) বলেছেন,

সেই ব্যক্তি কৃপণ যার উপস্থিতিতে আমার নাম উচ্চারণ করা হয় অথচ সে আমার নামে দরুদ পড়ে না।

এজন্য “মুহাম্মদ” বলার বা শোনার সঙ্গে সঙ্গে “সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বলার রেওয়াজ সর্বত্র প্রচলিত।

দুরূদ পাঠের লাভ

বিভিন্ন হাদিসে দুরূদ পাঠের লাভ বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে বুখারী এবং মুসলিম শরীফের হাদিসে বর্ণিত আছে যে, প্রতিবার দরুদ শরীফ পড়ার বদৌলতে আল্লাহ, পাঠকারীর উপর ১০ বার দয়া করেন। জুম্মার দিনের লাভ প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ বলেছেন,

তোমরা এদিনে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দুরূদ পাঠ করো। এ দুরূদে ফেরেস্তাগণ অংশগ্রহণ করে এবং এ দুরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত মুহাম্মাদ বলেছেন,

কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তিই আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যে আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ/সালাম পাঠ করে।

দুরূদের প্রকারভেদ

দুরূদ-ই-ইব্রাহীম

দুরূদ পাঠ নামাযের অংশ: নামাযের মধ্যে শেষবার বসা অবস্থায় দুরূদ পাঠ করতে হয়, যা দুরূদে ইব্রাহীম নামে পরিচিত। দুরূদ শরিফ নামাজের শেষে পরতে হয়।

দুরুদ শরীফ

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ- اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَا هِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ

উচ্চারনঃ আললাহুম্মা সাললিআলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাললাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ। আললাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।

“অনুবাদঃ হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ আশীর্বাদ অবতীর্ণ কর যেইরূপ আর্শীবাদ হযরত ইব্রাহিম এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ কর যে রূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।”

দুরূদ-ই-তুনাজ্জীনা

“হে আল্লাহ! তুমি আমাদের মহান নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর ও তাঁর বংশধরগণের উপর নানাভাবে রহমত নাযিল কর এবং এ দুরূদের উসিলায় আমাদেরকে সকল বিপদাপদ হতে মুক্তি দাও এবং আমাদের সকল ইচ্ছা পূর্ণ কর, সকল পাপ কাজ হতে আমাদেরকে পবিত্র রাখ এবং আমাদেরকে তোমার কাছে সম্মানের উচ্চ স্থান দাও এবং আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সকল প্রকার মঙ্গলের শেষ সীমায় পৌঁছে দাও, অবশ্যই তুমি সর্বশক্তিমান এবং সর্বোচ্চ দয়াবান, তোমার নিজ দয়ায় আমাদের বাসনাসমূহ পূর্ণ কর।”

মুমিনের আত্মার খোরাক এবং প্রিয় তাসবিহ। হাদিস শরিফে দরুদ পড়ার পদ্ধতি, উপকারিতা, না-পড়ার ক্ষতি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ রয়েছে। পবিত্র কোরআনেও এর ব্যাপক তাগিদ রয়েছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর ওপর রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্য রহমতের দোয়া কর এবং তার প্রতি সালাম পাঠাও। ’ –সূরা আহজাব: ৫৬

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার নির্দেশ দান করেছেন। তবে অন্যান্য নির্দেশের তুলনায় এ নির্দেশের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। আর সেটি হচ্ছে, আল্লাহতায়ালা কর্তৃক হজরত নবী করিম (সা.)-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সমুন্নত করা হয়েছে। কেননা আল্লাহতায়ালা তাদের এমন এক মর্যাদাপূর্ণ কাজে শরিক করে নিয়েছেন, যে কাজটি তিনি নিজেও করেন এবং তার ফেরেশতারাও করেন।

নবী-রাসুলরা হলেন মানবজাতির জন্য রহমত। তাঁরা অন্ধকার পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন। হজরত ঈসা (আ.) থেকে আমাদের রাসুল (সা.) পর্যন্ত কোনো নবী-রাসুল প্রেরিত না হওয়ায় এ যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের মহানবী (সা.)-কে প্রেরণ করে আমাদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ঈমানদারদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে তাদের মধ্যে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতগুলো পাঠ করেন। তাদের পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুত তারা ছিল আগ থেকেই পথভ্রষ্ট।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৪)

তিনি আরো ইরশাদ করেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)

রাসুল (সা.)-এর কারণে আমরা কোরআন পেয়েছি, হাদিস পেয়েছি এবং দ্বিনের সঠিক পথ পেয়েছি। ফলে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা অপরিহার্য।

দরুদ পাঠের নির্দেশ : স্বয়ং আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি সালাত প্রেরণ করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি যথাযথ সালাত ও সালাম পেশ করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৬)

সালাত আরবি শব্দ। তা একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন—রহমত, দোয়া, দরুদ, ইস্তিগফার, তাসবিহ। আল্লাহর পক্ষ থেকে হলে রহমত, বান্দার পক্ষ থেকে দরুদ, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ইস্তিগফার, দোয়া ও সম্মান অর্থ বোঝায়। সালাম অর্থ নিরাপত্তা, শান্তি। এর উদ্দেশ্য ত্রুটি, দোষ ও বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকা।দরুদ শরীফ পাঠের ফজিলত অনেক। মহানবী (সা.) নিজেই বলেছেন,‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহতায়ালা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন’ –সহিহ মুসলিম

শুধু তাই নয়, নাসায়ি ও তিবরানিতে আরেকটু বাড়িয়ে এভাবে বলা হয়েছে- তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, তাকে দশটি নেকি দান করেন এবং তার আমলনামা থেকে দশটি গোনাহ মুছে ফেলেন। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনা থেকে বের হয়ে কোনো এক খেজুর বাগানে ঢুকে পড়লেন। আমি তার পেছন অনুসরণ করলাম। অতঃপর তিনি সিজদারত হলেন। তার সিজদা খুবই দীর্ঘায়িত হলো। এমনকি আমি এতে খুব ভীত-সন্ত্রস্ত হলাম, না জানি আল্লাহপাক তাকে মৃত্যুদান করলেন অথবা জান কবজ করে নিলেন। তারপর আমি তার খুব কাছে গিয়ে দেখতে লাগলাম। তিনি মাথা উঠিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আবদুর রহমান! তুমি এখানে কেন এসেছো? আবদুর রহমান বলেন, আমি আমার ভীতিকর অবস্থার কথা বললাম। অতঃপর তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে জিবরাইল (আ.) আমাকে বলেছেন, ‘আমি কি আপনাকে সুসংবাদ দেব না? নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি আপনার প্রতি দরুদ শরিফ পড়ে আমি তার প্রতি রহমত বর্ষণ করি। আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম পেশ করে আমি তার শান্তি বিধান করি। -মুসনাদে আহমাদ

 

দরুদ শরিফ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। কেউ ঐকান্তিকভাবে এ আমল করলে সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসায় সিক্ত হবেই। এতে মহানবী (সা.)-এর পাশাপাশি আল্লাহতায়ালাও বান্দার প্রতি রহমতের দৃষ্টিপাত করেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কেয়ামতের দিন আমার সুপারিশের নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি হবে যে আমার প্রতি অধিক মাত্রায় দরুদ পাঠ করবে। -সুনানে তিরমিজি

হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘দোয়া আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে স্থগিত থাকে; যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করবে না, ততক্ষণ উপরে উঠবে না। ’ –মেশকাত

দরুদ শরীফ পাঠ করার অনেক নিয়ম-পদ্ধতি রয়েছে। নামাজের মধ্যে প্রসিদ্ধ দরুদ (দরুদে ইবরাহিম) শরিফটি পাঠ করা সুন্নত, এটি সুন্নতে মোয়াক্কাদা। তবে সাধারণত কোনো স্থানে হজরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর নাম যখন উচ্চারণ করা হবে তখনই তার প্রতি দরুদ শরিফ পড়া ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে ওলামায়ে কেরাম হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দলিল হিসেবে পেশ করেন। তিনি বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হয় সে যেন ত‍ৎক্ষণাৎ আমার ওপর দরুদ শরিফ পড়ে। ’ -জামেউস সগির

তবে একই মজলিসে বারবার নাম উচ্চারিত হলে একবার দরুদ পাঠ করলেই ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়, তবে প্রতিবার পাঠ করা মুস্তাহাব। এছাড়া সপ্তাহের যে কোনো দিন কিংবা যে কোনো সময় ওজু করে ঐকান্তিকভাবে দরুদ শরিফ পড়া অনেক পুণ্যের কাজ। জুমার দিন ও রাতে দরুদ শরিফ পড়া খুবই কল্যাণকর।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জুমার দিনে ও রাতে আমার প্রতি বেশি করে দরুদ পড়। যে ব্যক্তি এরূপ করবে আমি কেয়ামতের দিন তার পক্ষ অবলম্বন করব, তার পক্ষে সাক্ষ্য দেব এবং তার জন্য সুপারিশ করব। -জামেউস সগির

রাসূলে কারিম (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর দৈনিক ১০০ বার দরুদ পাঠ করবে, সে জান্নাতের ঠিকানাটি না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। ’ –তারগিব

হজরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর ওপর দরুদ না পড়ার ক্ষতি প্রসঙ্গে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাতে হজরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর নাম উল্লেখ হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি দরুদ শরিফ না পড়ে এবং যে মজলিসে বা আলোচনা সভায় মোটেও দরুদ শরিফ পড়া হয় না তাহলে ওই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওই মজলিস অকল্যাণকর ও আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার নাম উল্লেখ করা সত্ত্বেও দরুদ পড়ে না যারা তাদের কৃপণ, অপমানিত ও দুঃখিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দরুদ শরিফ পড়ে না, হজরত রাসূলে আকরাম (সা.) তার প্রতি অভিশাপ দেন এবং সে আল্লাহর নৈকট্য লাভ থেকে বঞ্চিত হয়।

বায়হাকি শরিফে এসেছে, ‘নামাজের মধ্যে দরুদ না পড়লে সে নামাজ কবুল হয় না। ’ তদুপরি কোনো দোয়ায় দরুদ না পড়লে সে আমল আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছায় না। এমনকি ভুলে গেলেও ধমকি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরুদ পড়তে ভুলে গেল সে বেহেশতের পথই ভুলে গেল। ’ -বায়হাকি

হজরত রাসূলে আকরাম (সা.) আমাদের হাদিয়া, তোহফা তথা দরুদ ও সালামের মুখাপেক্ষী নন। এর কারণ, তিনি নিজেই রাহমাতুল্লিল আলামিন, বিশ্বজাহানের জন্য দয়ার সাগর। আমাদের দরুদ ও সালাম পাঠানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকে সম্মান করা, তাজিম করা, তাকে ভালোবাসা এবং তার নাম বুলন্দ করা। তার এ অনন্য সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহতায়ালাই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম পাঠানোর বিনিময়ে বহুগুণে যে প্রাপ্তি, তা আমাদের নিজেদেরই।

বস্তুত, হজরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর মহব্বত অর্জন এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তার আদর্শ-সুন্নত অনুসরণের যে চেষ্টা-সাধনা ও অনুশীলন-প্রকৃতপক্ষে সেটিই ঈমানের মেহনত।

দরুদ পাঠের বিধান :

মহানবী (সা.)-এর নাম বললে ও শুনলে তাঁর প্রতি দরুদ পড়া ওয়াজিব। তবে বারবার তাঁর নাম বললে ও শুনলে প্রথমবার দরুদ পড়া ওয়াজিব, অন্যান্য বার মুস্তাহাব। মুখে উচ্চারণ করলে যেমন দরুদ ও সালাম ওয়াজিব, তেমনি কলমে লিখলেও ওয়াজিব। জীবনে একবার দরুদ পড়া ফরজ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি অপমানিত হোক, যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হলে দরুদ পাঠ করে না।’ (মিশকাত : ৯২৭)

১. রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন, আর যে আঁমার উপর দশবার দরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহ্তা আলা তার প্রতি একশত রহমত নাযিল করেন। যে আঁমার উপর একশবার দরূদে পাক প্রেরণ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উভয় চোখের মধ্যখানে লিপিবদ্ধ করে দেন, এ বান্দা নিফাক ও দোযখের আগুণ থেকে মুক্ত। আর কিয়ামতের দিন তাকে শহীদদের সাথে রাখবেন।”

[মুজামুল আওসাত, ৫ম খন্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ২৭৩৫]

★২. রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর সারা দিনে পঞ্চাশ বার দরূদ শরীফ পড়ে, আঁমি কিয়ামতের দিন তার সাথে মুসাফাহা করব (অর্থাৎ- হাত মিলাব)।”
[আল কুরবাতু ইলা রব্বিল আলামীন, লি ইবনে বশিকওয়াল,৯০ পৃষ্ঠা,হাদিস নং ৯০]

★৩. নূরে মুজাস্সাম, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি আঁমার উপর সারা দিনে এক হাজার বার দরূদে পাক পাঠ করে, সে যতক্ষণ না নিজের স্থান জান্নাতের মধ্যে দেখে নেবে,ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।”

[আত্তারগীব ফি ফাযায়িলিল আমাল লি ইবনে শাহিন,১৪ পৃষ্ঠা,হাদিস নং ১৯]

★৪. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর জুমার দিন দরূদ শরীফ পড়বে আঁমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশ করব।”
[জমউল জাওয়ামি লিস্ সূয়ুতী,৭ম খন্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ২২৩৫২]

★৫.নূরে মুজাস্সাম রাসূলে আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর জুমার রাত ও জুমার দিনে একশ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে,আল্লাহ্ তাআলা তার একশটি হাজত পূরণ করবেন।৭০টি আখিরাতের আর ৩০টি দুনিয়ার।”
[শুয়াবুল ঈমান,৩য় খন্ড,১১১ পৃষ্ঠা,হাদিস নং ৩০৩৫]

★৬. রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,যে ব্যক্তি আঁমার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনার্থে দরূদ শরীফ পেশ করে,আল্লাহ পাক সেই দরূদ শরীফ দ্বারা একজন ফেরেশতা তৈরি করেন, যার একটি পাখা থাকবে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে আর একটি পাখা থাকবে পশ্চিম প্রান্তে,তার পদযুগল জমিনের স্প্তম স্তরে (যা সর্ব নিম্ন স্তর) দন্ডায়মান হবে। আর তার গর্দান আরশের ছায়াতলে পৌঁছবে, আল্লাহ পাক সেই ফেরেস্তাকে বলবেন, তুমি আঁমার বান্দার প্রতি দরূদ প্রেরণ করতে থাক, যেমন সে আঁমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর প্রতি দরূদ শরীফ প্রেরণ করেছে। অত:পর সে কিয়ামত পর্যন্ত সে ব্যক্তির প্রতি দরূদ পেশ করতে থাকবে।

[দালায়েলুল খায়রাত,বঙ্গানুবাদ, গাউসিয়া পাবলিকেশন্স, লেখক, আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে সোলায়মান যাজুলী (রহ), অনুবাদ- মাও. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, পৃষ্ঠা-12]

★৭. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম,ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে,আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন।”
[মুসলিম, ২১৬ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪০৮]

★৮. রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন: “কিয়ামতের দিন আঁমার নিকটতম ব্যক্তি সেই হবে,যে দুনিয়ায় আঁমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পড়েছে।”

[তিরমিযী, ২য় খন্ড,২৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৮৪]

★৯. রাসূলে আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পড়ে,আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন এবং তার আমল নামায় দশটি নেকী লিখে দেন।”

[তিরমিযী,২য় খন্ড, ২৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৮৪]

★১০. হুজুরপূর নূর (ﷺ) ইরশাদ করেন: “মুসলমান যতক্ষণ পর্যন্ত আঁমার উপর দরূদে পাক পড়তে থাকে,ফিরিশতারা তার উপর রহমতরাজি নাযিল করতে থাকে, এখন বান্দার মর্জি সে কম পড়ুক– কিংবা বেশি।”
[ইবনে মাজাহ,১ম খন্ড, ৪৯০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৯০৭]

★১১. আল্লাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) ইরশাদ ফরমান,“আঁমার উপর অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ কর,নিশ্চয় আঁমার উপর তোমাদের দরূদ শরীফ পাঠ করা তোমাদের জন্য পবিত্রতা।”
[মুসনাদে আবি ইয়ালা,৫ম খন্ড,৪৫৮ পৃষ্ঠা, হাদীস-৬৩৮৩]

★১২. হযরত সায়্যিদুনা উবাই বিন কা’ব(রা:) আরজ করলেন যে, আমি (সমস্ত ভির্দ, ওয়াজিফা ছেড়ে দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করাতে ব্যয় করব। তখন রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেন: “তা তোমার পেরেশানী সমূহ দূর করার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”

[তিরমিযী, ৪র্থ খন্ড,২০৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৪৬৫]

★১৩. নূরে মুজাস্সাম,রাসূলে আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর সকালে দশ বার ও সন্ধ্যায় দশ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ নসীব হবে।”
[মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০ম খন্ড, ১৬৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৭০২২]

★১৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন নিশ্চয় জিব্রাইল (আ:) আঁমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁপনি صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর উপর দরূদ শরীফ পড়ে, আল্লাহ তাআলা তার উপর রহমত নাযিল করেন।আর যে আঁপনি صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এঁর উপর সালাম প্রেরণ করে,আল্লাহ্ তাআলা তার উপর নিরাপত্তা নাযিল করেন।”

[মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ১ম খন্ড, ৪০৭ পৃষ্ঠা,হাদিস- ১৬৬৪]

★১৫. আবার এরকম বর্ননাও রয়েছে। হযরত আবু তালহা (রাঃ), রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন- তিঁনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, হযরত জিব্রাইল (আ:) এ মাত্র আঁমার নিকট এসে বলেন- আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আঁপনি কি একথায় আনন্দিত হবেন না যে,আঁপনার কোন উম্মত যদি আঁপনার প্রতি একবার দুরূদ শরীফ পড়ে,তাহলে আঁমি তাঁর উপর ১০টি রহমত নাযিল করি।আর যদি একবার আঁপনাকে সালাম দেয়,তাহলে আঁমি তার উপর ১০টি সালামতি (নিরাপত্তা বিধান) নাযিল করি।

[আহমদ-৪র্থ খন্ড,পৃষ্টা-৩০,বাগাভী- ৩য় খন্ড,পৃষ্টা-১৯৬]

★১৬. হুজুরপূর নূর (ﷺ) ইরশাদ করেন: “যে এটা বলে: اَللّٰهُمَّ صَلِّى عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ المُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ তার জন্য আঁমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।”
[মুজাম কবীর,৫ম খন্ড,২৫ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৪৪৮০]

অনুবাদ: হে আল্লাহ্! হযরত মুহাম্মদ এর উপর রহমত নাযিল কর এবং তাঁকে কিয়ামতের দিন তোমার দরবারে নৈকট্যতম স্থান প্রদান কর।

★১৭. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) কিতাবে আঁমার উপর দরূদ পাক লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত আঁমার নাম তাতে থাকবে,ফিরিশতারা তার জন্য ইস্তিগফার (অর্থাৎ- ক্ষমা প্রার্থনা) করতে থাকবে।”

[মুজাম আওসাত,১ম খন্ড, ৪৯৭ পৃষ্ঠা, হাদিস-১৮৩৫]

★১৮. রাহমাতুল্লীল আলামীন নবিজী (ﷺ) ইরশাদ করেন: “হে লোকেরা! নিশ্চয় কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা এবং হিসাব নিকাশ থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবে সেই ব্যক্তি,যে তোমাদের মধ্যে আঁমার উপর দুনিয়াতে অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ করে থাকে।”

[আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব, ৫ম খন্ড,২৭৭ পৃষ্ঠা,হাদিস-৮১৭৫]

★১৯. নূরে মুজাস্সাম,রাসূলে আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “আঁমার প্রতি অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ কর,নিশ্চয় আঁমার প্রতি তোমাদের দরূদ শরীফ পাঠ করা, তোমাদের গুনাহের জন্য মাগফিরাত স্বরূপ।”

[ইবনে আসাকির,৬১তম খন্ড,৩৮১ পৃষ্ঠা]

★২০. নূরে মুজাস্সাম,রাসূলে খোদা (ﷺ) ইরশাদ করেন: জিব্রাইল (আ:) আঁমাকে আরজ করলেন যে, আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “হে মুহাম্মদ! আঁপনি কি এ কথার উপর সন্তুষ্ট নন যে,আঁপনার উম্মত আঁপনার উপর এক বার সালাম প্রেরণ করবে,আর আঁমি তার উপর দশ বার সালাম প্রেরণ তথা শান্তি বর্ষণ করব?”
[নাসায়ী, ২২২ পৃষ্ঠা,হাদিস-১২৯২]

★২১. রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে,আল্লাহ্ তাআলা তার উপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।”

[নাসায়ী, ২২২ পৃষ্ঠা,হাদিস-১২৯৪]

★২২.রাহমাতুল্লীল আলামীন নবীজী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা পোষণকারী যখন দু’জন বন্ধু পরস্পর সাক্ষাত করে। ও মুসাফাহা করে (অর্থা- হাত মিলায়) আর প্রিয় নবী,রাসুলে আরবী দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করতে ব্যয় করব। তখন ছরকারে মদীনা (ﷺ) এঁর উপর দরূদ পাক পাঠ করে,তবে তারা উভয়ে পরস্পর পৃথক হবার পূর্বে আগের ও পরের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।”

[মুসনাদে আবি ইয়ালা,৩য় খন্ড, ৯৫ পৃষ্ঠা,হাদীস-২৯৫১]

★২৩. আল্লাহ পাকের প্রিয় মাহবুব, হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) ইরশাদ করেন “নামাযের পর হামদ,সানা ও দরূদ শরীফ পাঠকারীকে বলা হয়: দোয়া কর,কবুল করা হবে। প্রার্থনা কর, প্রদান করা হবে।”

[নাসায়ী,২২০ পৃষ্ঠা,হাদিস- ১২৮১]

★২৪. অদৃশ্যের সংবাদ দাতা,নবী করীম রাউফুর রাহীম (ﷺ) ইরশাদ করেন “যে ব্যক্তি আঁমার প্রতি ভালবাসা ও আগ্রহের কারণে প্রতিটি দিন ও রাতে তিন তিন বার করে দরূদ শরীফ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তা’আলা তার বদান্যতার দায়িত্বে একথা অপরিহার্য করে নেন যে, তিঁনি তার ওই দিন ও রাতের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।”
[মু’জামুল কবীর, ১৮তম খন্ড, ৩৬২ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৯২৮]

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *