ক্যান্সারের ঔষধ রাসুলের সুন্নাহ

ক্যান্সারের ঔষধ রাসুলের সুন্নাহ:ড. ইসা জিদান মারজুকি

ড. ইসা জিদান মারজুকি। সিরিয়ার অধিবাসী। দামেস্কে একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করতেন। বেশ কিছুদিন যাবত তাঁর শরীরটা খুব খারাপ যাচ্ছে। একদিনের কথা, হঠাৎ করেই তাঁর অসুস্থতা বেড়ে গেল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। বিভিন্ন চেকআপের পর জানা গেল, তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত! ডাক্তাররা তাঁর চিকিৎসা শুরু করলেন এবং তাদের একটি টিম যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকলেন।
ড. ইসার রোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বোর্ডের রির্পোট অনুযায়ী তিনি আর বেশিদিন বাঁচবেন না; মাত্র কয়েক সপ্তাহ পৃথিবীর আলো-বাতাস গ্রহণ করতে পারবেন। অথচ, তখন তিনি তাগড়া নওজোয়ান। একটি রঙিন জীবনের স্বপ্নে বিভোর। কিছুদিন পরেই কাশফুলের মতো শুভ্র কাপড় পরিয়ে ঘরে তুলবেন নববধূ। প্রায় ছয় মাস আগে এক ললনার সাথে তাঁর বাগদান হয়েছিল। তাঁর বাগদত্তাকে লোকেরা বলল, বাগদান ভেঙে দিতে। কিন্তু হবু বধূ ও তাঁর গার্জিয়ান এ প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন।
একদিন হলো কি, ড. ইসা জিদান মারজুকি রাসুল ﷺ এর হাদিসের একটি কিতাব পড়ছিলেন। হঠাৎ একটি হাদিস দেখে তাঁর চোখ আটকে গেল! আবু উমামা বাহিলি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেছেন, ‘সাদাকাহর মাধ্যমে তোমরা তোমাদের রোগীদের চিকিৎসা করো। (সাহিহুল জামে-৩৩৫৮, মাজমাউয যাওয়াইদ- ৩/৬৩, শাইখ আলবানি হাদিসটি “হাসান” সাব্যস করেছেন)
ড. ইসার মনের নিভে যাওয়া প্রদীপ হঠাৎ করেই দপ করে জ্বলে উঠল! ঠিক সে মুহূর্তেই তিনি নতুন জীবনের আশা ফিরে পেলেন! হয়ত তাঁর মনের ভেতর কেউ যেন বলছিল– দেখো! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে নেই। এ সুন্নাহ অবলম্বন করো।
একটি পরিবার সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল, যাদের গৃহকর্তা মৃত্যুবরণ করেছিল, আর তারা খুব মানবেতর জীবনযাপন করছিল। ড. ইসা জানতেন যে, চিকিৎসা করতে গিয়ে তাঁর যা পুঁজি ছিল, তা প্রায় খরচ হয়ে গেছে। এরপরও যতটুকু ছিল, তিনি সেটা এক বন্ধুর মাধ্যমে ওই বিপদগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিলেন।
সত্যিই রাসুল ﷺ এর বাণীর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলো। ড. ইসা আস্তে আস্তে সুস্থতা লাভ করতে লাগলেন। বিভিন্ন চেকআপ করে ডাক্তাররা রীতিমতো হয়রান! রির্পোট ড. ইসার পূর্ণ সুস্থতার কথা ঘোষণা করছে!
হঠাৎ আমূল পরিবর্তনে ডাক্তাররা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এটা কীভাবে সম্ভব? আপনি এমন কোনো ঔষধ সেবন করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থতা অনুভব করছি। আমি রাসুল ﷺ এর নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা করেছি। নিঃসন্দেহে আমি ভাগ্যের ওপর বিশ্বাস রাখি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাহ্যিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা যাবে না এবং অসুস্থ অবস্থায় ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়া যাবে না। এসব সুন্নাহর পাশাপাশি যখন রাসুল ﷺ এর হাদিসে সাদাকাহর ফজিলতটি নজরে পড়ল, সে অনুযায়ীও আমল করলাম। তাঁর বরকতে আল্লাহ আমাকে শিফা দান করেছেন।
পুনশ্চ : ঘটনাটি আজ থেকে ৩০ বছর আগের। এটি বর্ণনা করেছেন স্বয়ং ড. ইসা জিদান মারজুকির ভাই। বর্তমানে ড. ইসা জিদান মারজুকি রিয়াদে কর্মরত আছেন। ছবির ব্যক্তিটিই ড. ইসা জিদান মারজুকি।
পুন : পুনশ্চ : আমরা অনেকেই নানা কঠিন রোগে আক্রান্ত। দুনিয়াবি চিকিৎসা করে সব খুইয়ে বিফল। আমরা কি একটিবার পারি না এই সুন্নাহর ওপর আমল করতে? পুরোপুরি ইয়াকিনের সাথে। দেখি না একটু….। আল্লাহই তো শিফা দানকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *