সালাতের হাকিকত

১৭ + ১৩=৩০ ফরজ ,যা সালাতে ,সালাত মানব জাতীর জন্য শ্র্রেষ্ঠ নেয়ামত।

সালাত শব্দটি তিনটি হরফের সমন্বয়ে গঠিত।যথাঃ ১.সোয়াদ, ২.লাম, ৩.তা।

.সোয়াদঃ আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর সুন্দর নাম সমূহের আলম বা জগত।
২. লামঃ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ মহত্ত্ব তথা উলুহিয়াতের জগত।
.তাঃ আল্লাহর একত্ববাদ বা তৌহিদ।

যখন আমরা নামাজ কায়েম করব তখন আমাদের দেহ আফাল পর্যায়ে থাকতে হবে আর যখন শব্দ উচ্চারন করব সেটা হতে হবে আসমা পর্যায়ে।আফাল হল পবিত্র সত্বার কর্ম,আসমা হল পবিত্র সত্বার নাম।

#সোয়াদ→হরফ দ্বারা বুঝায় নামাজ কায়েমকারীকে আলমে সীফাতি বা গুণাবলীর জগতে প্রবেশ করতে হবে।

#লাম → হরফ দ্বারা বুঝায় নামাজ কায়েমকারীকে মহত্ত্ব বা আলমে লাহুতের জগতে প্রবেশ করতে হবে।

#তা → হরফ দ্বারা বুঝায় নামাজ কায়েমকারীকে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার সকল পর্যায়গুলো অতিক্রম করতে হবে যা আমাদের মধ্যেই উপস্থিত।

প্রত্যেক ধাপ বা পর্যায়ের উপাদান গুলো নিন্মরুপঃ
→(১) তৌহিদে আফাল- দৈহিক আত্মসমর্পণে তৌহিদ।
→(২) তৌহিদে আসমা- আল্লাহর নামসমূহে তৌহিদ।
→(৩) তৌহিদে সিফাত-আল্লাহর গুণাবলীর তৌহিদ।
→(৪) তৌহিদে জাত – আল্লাহর জাতে একত্ববাদে বিশ্বাস।

এই ধাপ গুলো সম্পন্ন করে সালাত কায়েম করলে তবেই তা প্রকৃত সালাত বলে গণ্য হয়।সালাতের মূল উদ্দেশ্য এটাই যাকে বলা হয়েছে (১) মুমিনের (২)মিরাজ।

সালাত মোট ৪০ রাকাত।তন্মধ্যে ১৫ রাকাতে “আউজবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বোয়ানির রাজিম” পড়া হয় আর বাকি ২৫ রাকায়াতে সরাসরি বিসমিল্লাহ পড়া হয়।এখন,১৫ ও ২৫ এর প্রতিটি সংখ্যা আলাদা যোগ করলে হয় ১৩।যেমন:
১+৫+২+৫=১৩.
এই ১৩ সংখ্যাটি হল হাকিকতে মোহাম্মদী কোড।সংখ্যা ১৩ এর ১ও ৩ যোগ করলে হয় ৪ যা হল এলেম বা জ্ঞানের ৪ টি ধাপ তথাঃ শরীয়ত, তরিকত,হাকিকত,মারেফত।অর্থাৎ, সালাতের মধ্যেই শরীয়ত,তরিকত,হাকিকত,মারেফতের জ্ঞান লিপিবদ্ধ আছে।এখন এই ৪ এর পেছনে ০ বসিয়ে দিলে তা আবার পুনরায় নবুয়তের বছরকে নির্দেশ করে।

অন্যভাবে বলতে গেলে দিনে মোট ৪০ রাকাত নামাজ।এই ৪০ হল রাসূল(স) এর জাহেরী নবুয়তের বয়স। এই ৪০ রাকায়াতে ৪০ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করা হয়।একবার সূরা ফাতিহা পাঠ একবার করআন খতম দেয়ার সমান।এভাবে ৪০ রাকাতে ৪০ বার কোরআন খতম হয়।৪০ এর ৪ ও ০(শূণ্য) যোগ করলে ৪ হয়। চারটি জ্ঞান সালাতের মাধ্যমে উন্মোচিত হয় তথাঃশরীয়ত,তরিকত,হাকিকত,মারেফত।

তাকবীরঃসালাতুল বিতর ব্যতীত পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ৪০ রাকায়াত নামাজে মোট ২৮২ বার তাকবীর দেয়া হয়।তবে শেষের তাকবীরটি সালাতুল বিতরের হওয়াতে তা গণ্য নয়।সুতরাং বাকি থাকে ২৮১ টি।সালাতুল বিতরের তাকবির বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এবং স্বতন্ত্র। তাই ২৮১ হল এক বৈশিষ্ট্যের এবং একটি তাকবির ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের। ২৮১ থেকে ১ কেটে দিলে ২৮ থাকে যা হল কোরআনে উল্লেখিত নবীদের নামের সংখ্যা।

সালাত বা নামাজের বিভিন্ন পর্যায়ঃ

♦আফাল ধাপে সালাতঃ সুরা নিসার ১০৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে সালাত নির্ধারিত সময়ে।নির্ধারিত সময়ে সকল বাহ্যিক রীতি নীতি সঠিক ভাবে মেনে সালাত আদায় করলে আফাল ধাপ সম্পন্ন হয়।

আসমা ধাপে সালাতঃ
সমস্ত নামাজের ব্যাপারে যন্তবান হও,বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের ব্যাপারে।আর আল্লাহর সামনে একান্ত অনুগত হয়ে দাড়াও।(সুরা বাকারা-২৩৮)

উসতা শব্দের অর্থ কোন কিছুর মধ্যবর্তী।জাহেরীভাবে আসরের নামাজকে সালাতুল উসতা বলে।কেউ কেউ জোহরের নামাজকেও বলে থাকেন।সালাতের আফাল ধাপ থেকে সিফাতি ধাপে উত্তীর্ণ হতে মধ্যবর্তী আসমা ধাপের কর্মকে সালাতুল উসতা বলা হয়।নামাজী আফাল ধাপের শারিরীক কর্ম দিয়ে হক্ব তা’য়ালার দিকে অগ্রসর হতে হতে আসমা(আল্লাহর নামসমূহের জগত) ধাপে পৌছায়।যে এই ধাপে সালাত কায়েম করতে থাকে সে সিফাতি ধাপে পৌছায়।এভাবে অনবরত পাঞ্জেগানা সালাত কায়েম করে নামাজী হক্ব তা’য়ালার দিকে অগ্রসর হতে থাকে।এক সময় সালেক আসমা জগতে আধ্যাতিকতায় পরিপক্বতা লাভ করে।এই পর্যায়ে উন্নীত হলে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির সালাত কায়েমের সংখ্যায় ভিন্নতা থাকবে।তখন এক সাথে অনেক সালাত কায়েম হয় বিভিন্ন আসমা এর উপর এবং সালাতকে বৃদ্ধি করে হক্ব তা’য়ালার সাথে দীর্ঘক্ষন সংযোগ ধরে রাখা যায়।এই উসতা বা মধ্যবর্তী বা আসমা ধাপের পর হল সিফাতী ধাপ।

মেরাজ রজনীতে সর্বপ্রথম ৫০ ওয়াক্ত সালাত দেয়া হয়।তারপর তা উম্মতের দূর্বলতার কথা ভেবে ৫ ওয়াক্তে উন্নীত করা হয়।যারা সাধারন ও দূর্বল তারা প্রত্যেকে ৫ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করবে।কিন্তু সালেক যখন আধ্যাতিক সাধনায় সম্মুখে অগ্রসর হয় তখন তার সালাত সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

মেরাজ রজনীতে হুজুরে আকরাম(স) সকল নবীদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করেন।ক্বলবি জিকির কিংবা হরদমে জিকির অথবা মোরাকাবা কিংবা মস্তিষ্কে অনু অনু বিশ্লেষণের জন্য ইমাম হওয়ার প্রয়োজন পরে না।সুতরাং যারা নামাজকে অস্বীকার করল তারা সকল নবীর ইমাম ইমামুল মুরসালিন হুজুরে আকরাম(স) কেও অস্বীকার করল।

এবার মেরাজ রজনীর অন্যতম প্রসিদ্ধ এবং সকল সূত্রে একটি সহীহ হাদীস নিয়ে আলোচনা করছি যা সালাতের “আসমা” পর্যায়ের আলোচনায় কিছুটা আলোচিত হয়েছে।হাদীসটি পুনরায় আলোচনার উদ্দেশ্য হল নামাজ অস্বীকারকারীগন এ হাদীসটিকে মিথ্যা ও জাল বলে চালিয়ে দেয়।

মেরাজ রজনীতে রাসূল(স) কে প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত সালাত দেয়া হয়।তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে উনার বান্দার মেরাজের জন্য যখন এই তওফা নিয়ে ফেরত আসছিলেন,তখন হযরত মুসা(আ) এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি উম্মতে মোহাম্মদীর দূর্বলতার কথা চিন্তা করে হুজুর পাক(স) কে অনুরোধ করেন সালাতের ওয়াক্ত কমিয়ে আনার জন্য।ওয়াক্ত কমাতে কমাতে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্তে উপনীত হলে হযরত মুসা(আ) পুনরায় অনুরোধ করেন ওয়াক্ত কমানোর জন্য।কিন্তু নবী করিম(স) বলেন,আমার কমানোর জন্য যেতে আমি লজ্জা বোধ করছি।

পাঞ্জেগানা নামাজকে অস্বীকারকারীগন মেরাজের এই সুপ্রসিদ্ধ হাদীসটিকে কিছু বাহানা দিয়ে অস্বীকার করছে।

তাদের বাহানাগুলো নিন্মরুপঃ

বাহানা নং-(১)হযরত মুসা(আ) এর এই ক্ষমতা নাই যে হুজুর পাক(স) কে আদেশ করবে।এটা উমাইয়া আব্বাসীরা ষড়যন্ত্র করে আমাদের নবী(স) কে অপমান করার জন্য তৈরি করেছে।

#আমাদের উত্তরঃ আমরাও বলি,মুসা(আ) এর এই সাহস নেই।তিনি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেছেন,আদেশ দেন নি।অনুরোধকে আদেশে রুপান্তরিত করে বরং সালাতের বিরোধিতাকারীগন হুজুর পাক(স) কে অপমান করেছেন।

বাহানা নং-(২) হুজুর পাক(স) কি আল্লাহর কাছে যেতে কোন লজ্জাবোধ করতে পারেন?

#আমাদের উত্তরঃ এগুলো হচ্ছে নামাজ না পড়ার শয়তানি বাহানা।আমাদের রাসূল(স) এখনো উনার উম্মতের জন্য কান্না করছেন।রাসূল(স) কে কি কান্না করতে হবে?তিনি বললেই তো আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।হ্যা,তিনি বললেই আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।কিন্তু যে উম্মত আল্লাহর অবাধ্য হবে,রাসূল(স) এর অবাধ্য হবে তার জন্য কিভাবে সুপারিশ করবেন? নিশ্চিতভাবেই তারা জাহান্নামি। তাই সেসকল উম্মতের মায়ায় এখনো তিনি কাঁদেন।একইভাবে তিনি লজ্জা বোধ করছেন এর মানে তিনি পুনরায় যেতে চাচ্ছেন না।কারন এই পাঁচ ওয়াক্তই আল্লাহ ও তার রাসূল(স) এর ইচ্ছা।তিনি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন বিধায় উনার ইচ্ছার বিরুদ্ধতা করতে লজ্জাবোধ করেন যদিও তিনি বললে সাথে সাথেই তা কবুল করা হবে।

বাহানা নং-(৩) হুজুর পাক(স) কি জানতেন না যে উনার উম্মত ৫০ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারবেন না?হুজুর পাক(স) এর উম্মতের ব্যাপারে কি মুসা(আ) আমাদের নবী(স) থেকে অধিক অবগত?নাকি আল্লাহ জানতেন না রাসূল(স) এর উম্মত ৫০ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারবে না?

#আমাদের উত্তরঃ অবশ্যই হুজুর পাক(স) এবং আল্লাহ তা’য়ালা জানতেন উনার সকল উম্মত ৫০ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারবে না।বরং রাসূল(স) কে আল্লাহ তা’য়ালার ইশারায় বারবার আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে অধিক সম্মানিত করেছেন।রাসূল(স) এর কাছে পূর্বাপর সকল জ্ঞানই বিদ্যমান। তদুপরি হযরত জীবরাইল(আ) কে একটি মাধ্যম বানানো হয়েছে।তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় হুজুর পাক(স) এর খাদেম হলেন।সুতরাং নিযুক্ত খাদেম বা গোলামী দ্বারা অপমান বুঝায় না,বরং সম্মান বুঝায়।তেমনি, আল্লাহ তা’য়ালা মেরাজ রজনীতে রাসূল(স) কে বারবার সান্নিধ্য দিয়ে ধন্য করতে হযরত মুসা(আ) কে হুজুর পাক(স) এর খাদেম হওয়ার সৌভাগ্য দান করেছেন।আল্লাহর সবকিছুই পূর্ব পরিকল্পিত। রাসূল(স) নিজেও জানেন সর্বশেষ পাঁচ ওয়াক্ত অবশিষ্ঠ থাকবে।তাই পাঁচ ওয়াক্তে উপনীত হওয়ার পরে তিনি আর যান নি।যদি তিনি পুনরায় যেতেন তবে আরো কমানো হত।কিন্তু ৫ ওয়াক্ত সালাত হেকমতে পরিপূর্ণ হওয়ায় এবং এটি আল্লাহ তা’য়ালার নিজের ইচ্ছা হওয়ায় তিনি আর অগ্রসর হন নি।কারন আল্লাহর ইচ্ছাই রাসূল(স) এর ইচ্ছা।উপরন্তু এই হাদীসের হাকীকী আরেকটি দিক হল সূফীরা ৫ ওয়াক্তের পরেও নফল দ্বারা আরো ওয়াক্তকে পরিপূর্ণ করেন।এভাবে সর্বোচ্চ ৫০ ওয়াক্ত পর্যন্ত সূফীরা নামাজ কায়েম করেন কিংবা সালাতকে দীর্ঘায়িত করেন।তাছাড়া উম্মতের কেউ কেউ ৫০ ওয়াক্ত,৪৫ ওয়াক্ত, ৪০ ওয়াক্ত ইত্যাদি ধারায় সালাত কায়েমে সমর্থ-সেটাও এই হাদীসের রহস্য।তবে সর্বশেষ যেহেতু ৫ ওয়াক্তে স্থায়িত্ব লাভ করে, সেহেতু ৫ ওয়াক্তই ফরজ।আর আল্লাহর অলিদের অবস্থা এমন যে অনেক সময় নফল নামাজ ও নফল ইবাদতও তাদের জন্য ফরজ হয়ে যায়।অলি আউলিয়া ব্যতীত কে আল্লাহর অধিক ইবাদতকারী?যে ইবাদতের স্বাদ পেয়েছে সে ইবাদত ত্যাগ করে না।

সালাতের “সিফাত” পর্যায়ঃ

সালাতের “সিফাত” পর্যায়ে উন্নীত হলে সালেক সূরা মা’আরিজের ২৩ নম্বর আয়াতের অবস্থায় বাস করে।

“যারা অনবরত সালাতে রত থাকে।”(৭০:২৩)।

এই আয়াতটি তাদের জন্য যারা দায়েমভাবে অর্থাৎ অনবরত পাঞ্জেগানা সালাতে রত এবং প্রতিটা সালাতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুনিয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অনবরত বা দায়েমী ভাবে ঐ সালাতে নিমগ্ন এবং তার মাধ্যমে দীদার লাভকারী এবং পঁঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের জন্য যারা প্রস্তুত।এই পর্যায়ে সালেকের এমন অবস্থা হয় যে তিনি ঘুমের মধ্যেও আল্লাহর ইবাদতে রত।যদিও চক্ষুসমূহ ঘুমায় তথাপি অন্তর জাগ্রত থাকে এবং ২৪ ঘন্টাই আল্লাহর জিকিরে রত থাকে।যারা সালাতের মাধ্যমে এ অবস্থায় উন্নীত হয়েছেন তারা হলেন “আরেফ” এবং প্রতিনিয়ত হক্ব তা’য়ালার সাথে সংযুক্ত।মিরাজে উল্লেখিত ৫০ ওয়াক্ত সালাত এই আরেফদের জন্য।সালেকদের পর্যায় অনুযায়ী সংখ্যার হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে।সালাতের সেই সংখ্যাগুলোও হাদীসে উল্লেখ হয়েছে।উল্লেখিত সেই সংখ্যাগুলো মূল্যহীন নয়,বরং তারও একটা হাকিকত রয়েছে।সালেক প্রথমে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মাধ্যমে হক্ব তা’য়ালার দিকে ভ্রমন শুরু করে এবং কঠোর সাধনার দ্বারা মেরাজের পথ উন্মেচন করে।

 

#দুই #তিন ও #চার রাকায়াত সালাতের বৈশিষ্ট্যঃ

→দুই রাকায়াতঃ
১ম রাকায়াত-ফানা।
২য় রাকায়াত-বাকা।

→তিন রাকায়াতঃ
১ম রাকায়াত- এলমুল ইয়াকিন।
২য় রাকায়াত- আইনুল ইয়াকিন।
৩য় রাকায়াত – হাক্কুল ইয়াকিন।

যেমন কোন টিভি রিপোর্টার কোন খবর বললে আমরা তা শুনে জানতে পারি।এটা হল এলমুল ইয়াকিন। রিপোর্টার স্বচক্ষে ঘটনা অবলোকন করে,সেটা হল আইনুল ইয়াকিন।যে ব্যক্তি ঘটনায় সরাসরি জড়িত তার জ্ঞান হল হাক্কুল ইয়াকিন।

→চার রাকায়াতঃ

১ম রাকায়াত- শরীয়তের হক্ব জ্ঞান।
২য় রাকায়াত-তরিকতের হক্ব জ্ঞান।
৩য় রাকায়াত- হাকিকতের জ্ঞান।
৪র্থ রাকায়াত – মারেফতের জ্ঞান।

সালাত সম্পর্কে চল্লিশ হাদিস

সালাত (নামাজ) সম্পর্কে পবিত্র হাদিসের অন্ত নেই। মহানবী হজরত রসুলে মকবুল (সা.) সালাতের ফজিলত, গুরুত্ব ও মরতবার ওপরে যেসব হাদিস বর্ণনা করেছেন তন্মধ্যে মাত্র ৪০টি হাদিস প্রদত্ত হলো-  যা বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। ১. হজরত রসুলে পাক (সা.) বলেছেন, আল্লাহপাক সর্বপ্রথম আমার উম্মতের জন্য সালাত ফরজ করেছেন এবং রোজ হাশরে সর্বাগ্রে একমাত্র সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। ২. যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামাজ) রুকু-সেজদা ও অজু সমেত আদায় করল- তার জন্য দোজখ হারাম হয়ে যায়। ৩. সালাত দীন-ইসলামের খুঁটি স্বরূপ। ৪. সালাদ দেলের নূর স্বরূপ। ৫. মানুষ সালাতে দাঁড়ালে বেহেশতের দরজা তার জন্য খুলে যায়। ৬. সেজদা অবস্থায় আল্লাহপাকের সান্নিধ্য বেশি হয়। ৭. যে ব্যক্তি একান্ত মন-দিলে ওয়াক্ত মতো সালাত আদায় করে সে প্রকৃত মোমিন। ৮. দেহের জন্য যে রূপ মক্তব-দীনের জন্য তেমন সালাত। ৯. সেজদায় ব্যবহৃত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে দোজখের আগুনের জন্য হারাম করা হয়েছে। ১০. ওয়াক্ত মতো সালাত আদায় করা আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয়। ১১. সালাত মোমিন লোকের রূহ স্বরূপ। ১২. সালাতের দ্বারা শয়তানের মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায়। ১৩. রাব্বুল আলামিন ইমান ও সালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর আর কিছু ফরজ করেননি। ১৪. মানুষ ও শেরেকের মধ্যে সালাত-ই একমাত্র প্রাচীর। ১৫. জমিনের যে অংশে সালাত আদায় করা হয় সেই অংশ অন্যান্য অংশের ওপর গর্ব করে থাকে। ১৬. প্রাতঃকালে যে সালাত আদায় করতে যায়- তার ইমানের ঝাণ্ডা উড্ডিন থাকে। ১৭. আউয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায় করা আল্লাহপাকের কাছে অতি প্রিয়। ১৮. সালাত প্রত্যেক মোমিন বান্দার কোরবানি স্বরূপ। ১৯. ওয়াক্ত মতো সালাত আদায় করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। ২০. মানুষ যখন একাগ্র মনে সালাত আদায় করতে থাকে- শয়তান তখন তার প্রতি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পড়ে। ২১. যে মানুষ সালাত আদায়ে গাফিলতি করে শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে। ২২. দুই রাকাত সালাত আদায় করে কায়মনে দোয়া করলে আল্লাহপাকের কবুলিয়াত পাওয়া যায়। ২৩. যে ব্যক্তি নির্জনভাবে সালাত আদায় করল- রাব্বুল আলামিনের কাছে তার দোয়া ফরিয়াদ কবুল হয়। ২৪. জোহরের আগের চার রাকাতের সমান। ২৫. মধ্যরাতের সালাত শ্রেষ্ঠতম। ২৬. মানুষ যখন সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ায় তখন আল্লাহতায়ালার রহমত-করুণা তার ওপর বর্ষিত হয়। ২৭. মোমিন বান্দার বুজর্গি একমাত্র তাহাজ্জুদ সালাতে এতে সন্দেহ নেই। ২৮. রাতের দুই রাকাত সালাত দুনিয়ার সব কিছু হতে শ্রেষ্ঠ। ২৯. তাহাজ্জুদ সালাত অবশ্যই পড়বে- এতে আল্লাহর সান্নিধ্যলাভ গুনাহ হতে মাফ পাওয়া যায়। ৩০. দিনের প্রথম ভাগে সালাত আদায়ে কার্পণ্য করা উচিত নয়। ৩১. যখন কোনো আসমানি বালামুসিবত অবতীর্ণ হয় তখন সালাত আদায়কারীদের ওপর থেকে আপদ-মুসিবত দূরীভূত হয়ে যায়। ৩২. সালাতের পরিচয় কোনো রাজমহলের ব্যক্তি অতি নম্র ও বিনয়ভাবে সালাত আদায় করে এবং মাগফিরাত চায় তার গুনাহখাতা মাফ হয়ে যায়। ৩৩. যাবতীয় আমলের সালাত-ই আমার কাছে প্রিয়। ৩৪. সালাত সম্পর্কে আরও ইরশাদ হয়েছে- এতে রুজি বৃদ্ধি করে রোগব্যাধি, বালামুসিবত দূর করে। ৩৫. সালাতে অন্তরকে শক্তিশালী এবং চেহারা নূরানী করে তোলে। ৩৬. রাব্বুল আলামিন ওই ব্যক্তিকে দেখতে ভালোবাসেন যে সালাতের সময় সেজদায় কপাল মাটিতে ঠেকায়। ৩৭. আল্লাহ ও সালাতের মধ্যে কোনো আড়াল থাকে না। ৩৮. দীন ধর্মের একমাত্র নিদর্শন সালাত। ৩৯. সালাত থেকে গাফেল মানুষকে কুকুরের সমতুল্য করে দেয়। ৪০. বিনা ওজরে ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকলে কাফেরের পর্যায়ভুক্ত হয়।

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *