স্বামীর প্রতি স্ত্রীর হক্ব বা অধিকার

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আয়শা (رضي الله عنه)  এর ৯ টি বা ১৩ টি বা ১৪টি স্ত্রী থাকার অনেক অর্থ  বহন করে , তার মধ্যে উৎকৃষ্ট  অর্থ নারীর সাথে সংসার করা পুরুষের জন্য কত কঠিন ও মহৎ কাজ , হাজার ধরণের ও হাজার রকমের নারীর মধ্যে ১৪ প্রকার নারী শামীল।নারীদের সহিত কিভাবে জীবন পরিচালনা করতে হবে তা শিক্ষা দেওয়ার জন্য।  রাসূল (ﷺ) এর ভালোবাসা, রোমান্টিকতা, চাহিদা এবং সাংসারিক জীবনে তার চেয়ে পরিপূর্ণ কেউ ছিলো না আর হতেও পারবে না।এটা চিরন্তন সত্য।
সহধর্মিণীর হৃদয়ের ভাষা বুঝুনঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আয়শা (رضي الله عنه) কে বললেনঃ
” হে আয়শা! আমি অবশ্যই জানি কখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক আর কখন অসন্তুষ্ট হও। আয়শা রাঃ জিজ্ঞেস করলেন, তা আপনি কিভাবে জানেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন তুমি এরূপ বল,‘মুহাম্মাদের রবের কসম, আর যখন তুমি অসন্তুষ্ট হও তখন বল, ‘ইবরাহীমের রবের কসম’! আয়শা (رضي الله عنه) বললেন, জী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আল্লাহর শপথ! (রাগের সময়) আমি কেবল আপনার নামটাই বাদ দেই।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) তাঁর সহধর্মিণীর হৃদয়ের অনুভূতি কতোটা গভীরভাবে বুঝতেন। আসলে স্বামী এবং স্ত্রীর সম্পর্ক তো এমনই হওয়া উচিত। একে অপরের সুখদুঃখ যতো বেশী বুঝতে পারবে ততো তাদের মাঝে প্রশান্তি বিরাজ করবে।এই  থেকে বুঝা যায়, স্বামীর উচিৎ স্ত্রীর মনের কথা বুঝা ও অনুধাবন করা।
স্ত্রী দুঃখ পেলে সান্ত্বনা দেয়াঃ
আল্লাহর রাসুল (ﷺ) এর প্রিয় সহধর্মিণী সাফিয়াহ (رضي الله عنه) ইসলাম গ্রহনের পুর্বে ইহূদী ছিলেন। তো রাসুলুল্লাহ (ﷺ) একবার হযরত সাফিয়াহর (رضي الله عنه) গৃহে গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন । কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন- আয়শা এবং যায়নাব বলে, আমরা রাসুলুল্লাহর স্ত্রী এবং গৌরবের দিক হতে একই রক্তধারার অধিকারিণী। সুতরাং আমরাই শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। একথা শুনে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কেন বললে না যে, ‘আমি আল্লাহর নবী হযরত হারুণের বংশধর ও হযরত মুসার ভ্রাতুষ্পুত্রী এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমার স্বামী । অতএব তোমরা কোন দিক হতে আমার চাইতে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হতে পার? অতঃপর আল্লাহর রাসুল (ﷺ) তাঁর নিজ হাত দিয়ে সাফিয়াহর (رضي الله عنه) চোখ মুছে দিলেন।
বিয়ের পর একটি দম্পতির মাঝে অবশ্যই এই গুনটি বিরাজ করতে হবে। আপনার বেটার হাফ (সহধর্মীনি) সবসময় হাস্যজ্জ্বল থাকবে এমন ভাবাটা বোকামী। এসময় একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের কাছে টানতে হবে।
স্ত্রী সাথে মুসাফাহা করুনঃ
আপনার ভালোবাসার গভীরতা আপনার স্ত্রীর অন্তরে পৌছঁতে সাহায্য করবে। ভালোবাসা লুকোনোর বিষয় নয়, তা প্রকাশ করার মাধ্যম ইসলাম শিখিয়েছে আমাদের। লজ্জা ভুলে একে অপরের সম্মুখে ভালোবাসা প্রকাশ করা শুরু করুন। একে অপরের সাথে মিলিত হন, কাছে টানুন। নিশ্চই স্বামী স্ত্রীর পবিত্র মিলন সাদাকাহ হিসেবে আল্লাহ তা’য়লা কবুল করেন।
“আর তোমাদের প্রত্যেকে আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও হচ্ছে সদকাহ্। তারা (সাহাবীরা)জিজ্ঞাসা করেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কেউ যখন যৌন আকাঙ্খা সহকারে স্ত্রীর সাথে সম্ভোগ (মিলন) করে, তাতেও কি সওয়াব হবে? তিনি বলেন: তোমরা কি দেখ না, যখন সে হারাম পদ্ধতিতে তা করে, তখন সে গোনাহ্গার হয় কিনা! সুতরাং অনুরূপভাবে যখন সে ঐ কাজ বৈধভাবে করে তখন সে তার জন্য প্রতিফল ও সওয়াব পাবে।- (মুসলিম: ১০০৬) বর্তমান আমাদের সমাজে একদম নেই।
একে অপরের মুখে হাত তুলে খাইয়ে দিনঃ
আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেন, ‘তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্যেশ্যে যা ব্যয় করবে তার উত্তম প্রতিদান পাবে। এমনকি স্বীয় স্ত্রীর মুখে তুলে দেওয়া লোকমার বিনিময়েও’।
ভালোবাসা প্রদর্শনের উত্তম মাধ্যম হলো এই ক্ষুদ্র কাজটি। নিজ হাতের উপার্জন স্ত্রীর মুখে তুলে দেয়াও সওয়াবের কাজ।
স্ত্রীর হাতের কাজে সাহায্য করুনঃ
আসওয়াদ (রহ) বলেন, আমি আয়শা (رضي الله عنه)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে কী কাজ করতেন? তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতেন অর্থাৎ গৃহস্থালির কাজে পরিবার-পরিজনের সহযোগিতায় থাকতেন। যখন নামাজের সময় হতো নামাজে চলে যেতেন। স্ত্রীর ঘরের কাজে সাহায্য করা আল্লাহর রাসুল (ﷺ) এর সুন্নাহ।
নিশ্চই এই সুন্নাহর ব্যাপারে পুরুষদের সজাগ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সারাদিন গৃহস্থালি কাজ করতে করতে স্ত্রী যখন হাপিয়ে উঠে, বন্ধের দিন গুলোতে পুরুষদের উচিত তাদের কাজে সাহায্য করা। এতে ভালোবাসা বাড়বে, কমবে না।
স্ত্রীর সাথে গল্প :
আল্লাহর রাসুল (ﷺ) প্রায় সময় তাঁর স্ত্রীদের গল্প শোনাতেন। আয়শা (رضي الله عنه) কে তিনি উম্মে যারাহ এর বিখ্যাত গল্প শুনিয়ে বলেছিলেন যে, ‘হে আ’ইশা আমি তোমাকে আবু যারাহ এর মতো ভালোবাসি, যেভাবে সে উম্মে যারাহ কে ভালোবাসতো’। মাঝে মাঝে বিবিদের সাথে বসে বিভিন্ন ঘটনা, কাহিনী ও আন্যান্য আলোচনা করতেন। এক এক বিবি নতুন নতুন কিসসা শুনাতেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে নিজেও কিসসা শুনাতেন।
আম্মাজান হযরত আয়েশা (رضي الله عنه) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মধ্যে এমনভাবে হাসতেন, কথা বলতেন ও বসে থাকতেন, আমাদের মনেই হতো না যে তিনি একজন মহান পয়গাম্বর। (উসওয়ানে রাসূলে আকরাম)
বাসায় স্ত্রীর সাথে যে মুহূর্তগুলো কাটাবেন, ঠিক এসময়গুলো চেষ্টা করবেন প্রিয় মানুষের সাথে গল্প-গুজব করে কাটাতে। মাঝে মাঝে হাস্যরস এবং দুষ্টুমি করবেন। প্রতিদিন বাইরে যে কর্মব্যস্ত সময়ে কাটে তা প্রিয় সহধর্মিণীকে শেয়ার করতে পারেন, এতে আপনার উপর তার বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে জন্মাবে।
স্ত্রীকে নিয়ে তার প্রিয় জায়গায় ঘুরতে যানঃ
একবার ইথিওপিয়া থেকে কিছু লোক এসে মাসজিদ আন নববীতে তরবারি খেলা দেখাচ্ছিল। আয়শা (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ) কে বললেন তিনি খেলা দেখতে চান। রাসূল(ﷺ) আয়শাকে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে আড়াল করে সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন। আয়শা (رضي الله عنه) রাসূলুল্লাহর পিছনে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে লাগলেন। এত দীর্ঘ সময় তিনি খেলা দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারবার এক পা থেকে আরেক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন। তিনি আয়শা(رضي الله عنه) কে জিজ্ঞেস করলেন যে তাঁর দেখা শেষ হয়েছে কিনা। আয়শা (رضي الله عنه) বললেন তিনি আরো দেখতে চান। কোন আপত্তি না করে রাসূল (ﷺ) সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকলেন। দীর্ঘক্ষণ পর আয়শা(رضي الله عنه) নিজেই ক্লান্ত হয়ে বললেন যথেষ্ট হয়েছে। এরপর রাসূল(ﷺ) তাঁকে বাসায় নিয়ে আসলেন।
কি শ্রেষ্ঠ ভালোবাসাই না ছিলো আল্লাহর রাসুল (ﷺ) এবং তাঁর সহধর্মিণীদের মাঝে!
আপনিও একই সুন্নাহ অনুসরন করুন, ভালোবাসায় টুইটম্বুর অবস্থা হবে।
স্ত্রীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতাঃ
আ’য়শা (رضي الله عنه) তখন হালকা গড়নের ছিলেন। রাসূল (ﷺ) কোন এক সফর থেকে ফিরছিলেন। সাথে ছিলেন আ’য়শা। তিনি সাহাবীদেরকে বললেন সামনে এগিয়ে যেতে। তাঁরা চোখের আড়াল হলে রাসূল (ﷺ) আ’য়শাকে দৌড় প্রতিযোগীতায় আহ্বান করলেন। আয়েশা জিতে গেলেন সেইবার। এর কয়েক বছর পর পুনরায় দৌঁড় হলে হযরত আয়েশা (رضي الله عنه) হেরে যান। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আয়েশা! আজ আমি তোমাকে হারিয়ে দিয়েছি, তুমি আমার সঙ্গে পার নি। এটা প্রথম প্রতিযোগিতায় তুমি জিতে যাওয়ার বদলা।- (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং-২২১৪)
সহধর্মিণীকে প্রিয় নামে ডাকুনঃ
আয়শা (رضي الله عنه) কে প্রিয়নবী (ﷺ) আদর করে হুমায়রা বলে ডাকতেন। হুমায়রা অর্থ ‘লাল বর্ণের রমনী’। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর আদর মাখা ডাক শুনে আয়শা (رضي الله عنه) কাছে আসতেন তাকে জড়িয়ে ধরতেন, এরপর কবিতা পাঠ করে আল্লাহর রাসুলকে (ﷺ) শোনাতেন।
এমনও হয়েছে আল্লাহর রাসুল (ﷺ) একবার আয়শার (رضي الله عنه) দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে বলেন, ‘তোমার চক্ষুদ্বয় কত্ত সাদা’!
প্রিয় সহধর্মিণীকে এমন ভালো অর্থবোধক নামে ডাকতে পারেন, এতে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে এবং ভালোবাসার মানুষটি বাচ্চাদের মত আপনার বুকে শুয়ে যাবে।
প্রিয় মানুষের জন্য নিজেকে সাজানঃ
ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন,‘আমি যেমন আমার জন্য স্ত্রীর সাজগোজ কামনা করি, অনুরূপ তার জন্য আমার নিজের সাজগোজও পছন্দ করি।’
অর্থাৎ যাবতিয় সাজসজ্জা যেনো কেবল প্রিয় মানুষকে খুশি করার জন্যই করা হয়, এতে পস্পরের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে এবং একে অপরকে আরো অধিকভাবে কাছে টানতে পারবে।
এজন্য সাজ সজ্জা, অলংকার, নতুন পোষাক স্বামী স্ত্রী একে অপরকে গোপনে দেখান। এতে ভালোবাসা এবং কাছে টানার আগ্রহ বাড়বে।
সুগন্ধী ব্যবহার করাঃ
আয়শা (رضي الله عنه) এর কাছে যেসব সুগন্ধি থাকত, সেগুলো থেকে উত্তম সুগন্ধি হজরত আয়শা (رضي الله عنه) রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে লাগিয়ে দিতেন। সুগন্ধী আল্লাহর রাসুল (ﷺ) এর প্রিয় ছিলো।
তাই স্বামীদের উচিত তাদের স্ত্রীদের সম্মুখে সুগন্ধী ব্যবহার করা, এবং স্ত্রীদের উচিত তাদের স্বামীদের সম্মুখে নিজেকে রঙ দিয়ে সাজানো যা তাকে আকৃষ্ট করে।
বৈবাহিক সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষা করাঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে সর্ব-নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যে নিজের স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং যার সাথে তার স্ত্রী মিলিত হয়, অতঃপর সে এর গোপনীয়তা প্রকাশ করে বেড়ায়’।
সাংসারিক সমস্যা নিয়ে অন্যদের সাথে আলোচনা না করাই শ্রেয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে উপভোগ্য বিষয়গুলো গোপন করা।
এরকম করেই দেখুন স্ত্রী শুধু আপনাকে ভালোইবাসবে না তার আস্থার জায়গা করে নিবে, তখন মনে হবে এই পবিত্র নেয়ামত দিয়ে আল্লাহ আপনার সম্মান কয়েক গুন বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমিন।
অন্যান্য হক্বঃ
১.স্বামী তাঁর স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করবে।
২.পর্দা ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৩.স্ত্রীর ভরণপোষণ করবে।
৪.স্ত্রীর খুশিতে প্রয়োজনীয় ব্যয় করবে।
৫.স্ত্রীকে দ্বীনের শিক্ষা দিবে।
৬.তার সাথে ভাল আচরণ ও সদ্ব্যবহার করবে।
৭.স্ত্রী কষ্ট পায় এমন কর্কশ আচরণ থেকে বিরত থাকবে।
৮.তাদের স্বভাবের মধ্যে বক্রতা থাকলে তাদেরকে ভালমত বুঝিয়ে শুনিয়ে ঠিক করতে হবে।
৯.রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সে ব্যক্তি উত্তম যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। সুতরাং স্ত্রীর থেকেই ভাল স্বামীর সার্টিফিকেট নিতে হবে। স্ত্রী যদি তার স্বামীকে উত্তম বলে স্বীকৃতি না দেয় উত্তম স্বামী হওয়া যাবে না।
১০.স্ত্রী যদি শরীয়ত বহির্ভূত কাজ করতে আগ্রহী থাকে তাকে এসব থেকে ভালভাবে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনা।
১১.সর্বোপরি আদব, আখলাক শিক্ষা দেয়া।
১২.স্ত্রীকে নিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করা, সালাম দেয়া, মুচকী হেসে কথা বলা, জিকির করা, সুফী ও আউলিয়ায়ে কেরামের আধ্যাত্মিক আলোচনা করা, মহিলা সাহাবী ও বুজুর্গ মহিলা অলীগণের জীবন চরিত্র শিক্ষা দেয়া, গল্প করা।
১৩.শশুর-শাশুরী আর পিতামাতার সদ্ব্যবহার শিক্ষা দেয়া। তাকে এটা বুঝানো উচিত যে, পিতা-মাতার সেবা দ্বারা সন্তান জান্নাতে যেতে পারে। তাদের অসন্তুষ্টি ও নাফরমানী দ্বারা সন্তান জাহান্নামী হয় তাই স্ত্রীর ভুলের কারণে তার স্বামীকে যেন তার বাবা-মা বদদোয়া না দেন, তার প্রতি অসন্তুষ্ট না হন। বরং তাদের সেবার মাধ্যমে তারা যেন জান্নাত লাভ করতে পারে। আর সেটাও শিক্ষা দেয়া প্রত্যকে মানুষ তার ভাল-মন্দ কাজের প্রতিদান ফিরত পাবে। যদি সে অন্যের প্রতি বিন্দু পরিমাণ জুলুম করে থাকে তাহলে তা সে ফিরত পাবে আর ভাল করে থাকলে তাও তার নিকট ফিরে আসবে। এজন্য অন্তরকে পবিত্র রাখা আর ক্বলবে সব সময় আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রেম-মুহাব্বত ও জিকির জারি রাখা।
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *