সাধারণ চিকিৎসা যেখানে শেষ, সেখান থেকে কুরআনিক চিকিৎসা শুরু

আল্লাহ সর্বশক্তিমান।বান্দার সবচেয়ে আপন থেকে আপন হল আল্লাহ।  আল্লাহ তা’আলা যে বান্দার মঙ্গলের জন্য রোগ দেন এই কথাটাই আমরা মানতে নারজ বরং একটু অসুস্থ হলেই আমরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে দেই। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে একটি রাত অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ করে দেবেন। ”আধুনিক যুগে আরাম-আয়েশ ও রোগমুক্তির উপায়-উপকরণের প্রাচুর্য সত্ত্বেও আমরা রোগব্যাধিকে হার মানাতে পারছি না। নতুন রোগ আসছে আর বেড়ে চলেছে অস্থিরতা। আজকে বাঘ বাঘ চিকিৎসা বিজ্ঞানে উন্নত দেশ বৃটিশ, আমেরিকা ও ভারত করোনাই দিশেহারা।আর আজ আমরা চিকিৎসার জন্য ঐ দেশগুলোর দিকে বেশী ছুটে চলি।

,একজন মুসলমান হিসেবে আমরা যদি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান আল-কুরআন এর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনে বলেছেন, “আমি কোরআনে এমন বস্তু নাজিল করেছি, যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত। ” (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৮২)‘বান্দার মেজাজ বা ধারণার ওপর আল্লাহ তা’আলার ফয়সালা নির্ভর করে থাকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনে বলেছেন, “মৌমাছির পেট থেকে রং বেরংয়ের পানীয় নির্গত হয়, তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। (সুরা আন-নাহল, আয়াত ৬৯) কতগুলো লোক চিকিৎসা কার্যে, ওষুধের উপলক্ষে জীবিকা পাবে এবং আমার বান্দাদের প্রফুল্ল রাখবে এ উদ্দেশে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। ’ অর্থাৎ মানুষের উচিত, যিনি ওষুধ সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি যেন ভরসা করে, ওষুধের ওপর যেন কিছুমাত্র ভরসা না করে, কেননা বহুলোক ওষুধ সেবন করেও মারা যাচ্ছে। আল্লাহ তা’আলা যে জীবন বিধান দিয়েছেন তাই মানুষের সমগ্র জীবনের সর্বদিকের ওষুধ। রোগ নিরাময়ের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত চিকিৎসক, রোগ নির্ণয়, সঠিক ওষুধ এবং সঠিক সেবনবিধি। এ চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে রোগের চিকিৎসা। আল্লাহ তা’আলা রোগ সৃষ্টি করেছেন, তার জন্য ওষুধও সৃষ্টি করেছেন। (বুখারি) সবশেষে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি উক্তির মাধ্যমে লেখা শেষ করবো তা হলো, “তোমরা দু’টি শেফাদানকারী বস্তুকে নিজেদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে নাও, একটি মধু (আহার্যের মধ্যে) এবং অপরটি আল কুরআন (কিতাবসমূহের মধ্যে) (মিশকাত শরীফ)।

যাদুকৃত ব্যক্তির চিকিৎসা :
_________

যে সমস্ত বস্তু দ্বারা যাদু করা হয়েছে তা সম্ভব হলে বের করা এবং নষ্ট করে ফেলা।
.

শরীয়ত সম্মত ঝাড়-ফুঁক। মহামান্য শায়খ ইবনু বায (রহ.) বলেন, যাদু থেকে মুক্তির জন্য নিম্ন লিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়: সাতটি কাঁচা কুল (বরই) পাতা নিয়ে বেটে একটি পাত্রে রাখবে এবং তাতে পানি মিশ্রিত করবে। পানি এমন পরিমাণ হওয়া চাই যা দ্বারা গোসল করা সম্ভব হয়। এরপর উক্ত পানিতে কুরআনের এ আয়াতগুলো পড়ে ফুঁক দিবে: আয়াতাল কুরসী, সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা আরাফের (১১৭ থেকে ১২২) নং আয়াত, সূরা ইউনুসের (৭৯ থেকে ৮২) নং আয়াত এবং সূরা ত্বায়াহার (৬৫ থেকে ৭০) নং আয়াত। তারপর উক্ত পানি থেকে কিছু পানি রুগীকে পান করাবে এবং অবশিষ্ট দ্বারা তাকে গোসল করাবে। ইনশাআল্লাহ্ এদ্বারা যাদু কেটে যাবে।

বদ নযরের চিকিৎসা :
_________
.
■ প্রথমত: কোন ব্যক্তির নযর লেগেছে তা যদি জানা যায়, তবে তাকে ওযু করতে বলতে হবে। অতঃপর উক্ত ওযুর পানি দ্বারা বদনযরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে গোসল করাতে হবে। (সহীহ মুসলিম)
.
■ দ্বিতীয়ত: যদি তাকে জানা না যায়, তবে নিম্নলিখিত আয়াত ও দু’আ সমূহ পড়ে বদনযরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঝাড়-ফুঁক করবে,
.
● সূরা ফাতিহা,
● আয়াতুল কুরসী (সূরা বাক্বারার ২৫৫নং আয়াত)
● সূরা বাক্বারার শেষের দুটি আয়াত (২৮৫ ও ২৮৬ নং আয়াত),
● সূরা ইখলাছ,
● সূরা ফালাক,
● সূরা নাস,
● এই দু’আটি
.
بِسْمِ اللهِ أرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أوْ عَيْنٍ حاَسِدٍ اللهُ يَشْفِيْكَ بِسْمِ اللهِ أرْقِيْكَ
.
“আমি আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাকে ঝাড়-ফুঁক করছি- তোমাকে কষ্টদানকারী সকল বস্তু হতে, এবং প্রত্যেক ব্যক্তির অথবা হিংসুক ব্যক্তির নযরের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ্ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাকে ঝাড়-ফুঁক করছি।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
.
● এই দু’আটি,
.
أعُوذُ بِكَلِماَتِ اللهِ التاَّمَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطاَنٍ وَهاَمَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
.
“আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের মাধ্যমে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি সকল প্রকার শয়তান থেকে, বিষধর প্রাণীর অনিষ্ট থেকে এবং সকল প্রকার বদনযর থেকে।” (সহীহ বুখারী)

জিনে ধরার চিকিৎসা :
_________
.
● সূরা ফাতিহা,
● আয়াতাল কুরসী,
● সূরা বাক্বারার শেষের দুটি আয়াত,
● সূরা ইখলাছ,
● সূরা ফালাক,
● সূরা নাস ইত্যাদি পাঠ করে জিনে ধরা ব্যক্তিকে ফুঁ দিবে। এরূপ তিনবার বা ততোধিকবার করবে।

 কুমন্ত্রনার চিকিৎসা:
_________
.
● আঊযুবিল্লাহ্… পাঠের মাধ্যমে শয়তান এবং তার কুমন্ত্রনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।
● সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করবে।
● আল্লাহ্ তায়ালার যিকির করবে। কেননা তা হচ্ছে ওয়াস্ওয়াসা দুর করার সর্বাধিক উপকারী চিকিৎসা।
● মনের কুচিন্তা বা ওয়াস্ওয়াসার দিকে দৃষ্টিপাত না করে তার প্রতি কোন গুরুত্ব দিবে না। মনে যে সমস্ত কুচিন্তা বা ওয়াস্ওয়াসার উদ্রেক হয় সে সম্পর্কে মুসলিম ব্যক্তি জিজ্ঞাসিত হবে না।
.
নবী ﷺ বলেন, “মানুষের অন্তরে যে সমস্ত কুচিন্তা জাগ্রত হয় আল্লাহ্ তা আমার উম্মত থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষন তারা তা মুখে উচ্চারণ না করবে বা কর্মে বাস্তবায়ন না করবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
.
জখম বা ফোঁড়ার চিকিৎসা :
_________
.
ইমাম নবুবী বলেন, তর্জনী আঙ্গুলে থুথু লাগাবে তারপর তা দ্বারা মাটি স্পর্শ করবে এবং সেই মাটি জখম বা ফোঁড়ার স্থানে লাগাবে ও সে সময় এই দু’আ পাঠ করবে,
.
بِسْمِ الله، تُرْبَةُ أرْضِناَ بِرِيْقَةِ بَعْضِناَ، يُشْفَى سَقِيْمُناَ بإذْنِ رَبِّناَ
.
“আল্লাহর নামে, আমাদের যমীনের কিছু মাটি, আমাদের একজনের থুথুর দ্বারা আমাদের রবের অনুমতিতে আমাদের রুগীর আরোগ্য হবে।” (সহীহ বুখারী)
.
বিষধর প্রাণী বা সাপে কাটলে চিকিৎসা :
_________
.
বারবার সূরা ফাতিহা পড়ে রুগীকে ঝাড়-ফুঁক করবে। আরবের জনৈক ব্যক্তিকে সাপে কাটলে ছাহাবী আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) সূরা ফাতিহা দ্বারা তার চিকিৎসা করেছিলেন এবং নবী তা সমর্থন করেছিলেন। (সহীহ বুখারী)
.
 জ্বরের চিকিৎসা :
_________
.
রুগীর মাথায় পানি ঢালবেন। নবী ﷺ বলেন, “জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। একে তোমরা পানি দ্বারা ঠান্ডা কর।” (সহীহ বুখারী)
.
ব্যাথা-বেদনার চিকিৎসা :
_________
.
শরীরের যে স্থানে ব্যাথা অনুভূত হয় সেখানে হাত রেখে তিনবার “বিসমিল্লাহ্” বলবেন। তারপর এই দু‘আ পড়বেন সাতবার,
.
أعُوْذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ ماَ أجِدُ وَاُحاَذِرُ
.
“আল্লাহর ইজ্জত ও ক্ষমতার উসীলায় যে ব্যাথা আমি অনুভব করছি এবং যা ভয় করছি তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” (সহীহ মুসলিম)
.
বিপদ এবং দুঃশ্চিন্তা দূর করার উপায়:
_________
.
রাসূল ﷺ কখনও দুঃশ্চিন্তা বা পেরেশানী বা বিপদ অনুভব করলে এ দু‘আ পাঠ করতেন,
.
لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
.
উচ্চারণঃ ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীমু লাইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযীম, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস্ সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরযি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম।’ (সহীহ বুখারী)
.
لا إِلَهَ إِلّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
.
উচ্চারণঃ ‘লাইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায্যালেমীন। (তিরমিযী)
.
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
.
উচ্চারণঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল্ হাম্মি ওয়াল্ হুযনি ওয়া আঊযুবিকা মিনাল জুবনী ওয়াল বুখ্লি ওয়া আঊযুবিকা মিন গালাবাতিদ্ দায়নি ওয়া কাহর্রি রিজাল।” (সহীহ বুখারী)
.
সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে :
_________
.
এই আয়াতগুলো পাঠ করে মহিলার উপর ফুঁক দিবে,
.
● সূরা রা‘দের ৮নং আয়াত
● সূরা ফাতির ১১ নং আয়াত
● সূরা নাহাল ৮৭নং আয়াত এবং
● সূরা যিলযাল।
.
শায়খ ইবনু ঊছাইমীন (রহ.) বলেন, ‘গর্ভবতীর সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে কষ্টের সময় এসমস্ত আয়াত পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ্ অনেকের উপকার দান করেছেন। একজন মহিলা এ আয়াতগুলো পাঠ করে সন্তান প্রসবীনীর উপর ফুঁক দিবে। অথবা যে কোন লোক তা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিবে। তারপর সে পানি গর্ভবতীকে পান করাবে এবং তা দিয়ে তার পেট মালিশ করবে।’
.
যে কোন রোগের চিকিৎসায় :
_________
.
নবী ﷺ বলেন, কোন ব্যক্তি যদি এমন রুগীকে দেখতে যায়, যার মৃত্যু সমাগত হয়নি; তারপর তার নিকট নিম্ন লিখিত দু’আটি পাঠ করে, তবে আল্লাহ্ তাকে আরোগ্য দান করবেন। দু’আটি এই,
.
(أسْألُ اللهَ الْعَظيْمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أنْ يَشْفِيَكَ)
.
“আমি সুমহান আল্লাহর কাছে- সুবিশাল আরশের প্রভুর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি আপনাকে আরোগ্য দান করুন। (আবু দাঊদ ও তিরমিযী, হাদীছটির সনদ উত্তম)
.
মধু দ্বারা চিকিৎসা :
_________
.
আল্লাহ্ তায়ালা মধুর উপকারীতা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন,
.
يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
.
“মৌমাছির পেট থেকে বিভিন্ন রঙের সুস্বাদু পানীয় বের হয়। এতে রয়েছে মানুষের জন্য আরোগ্য। নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে চিন্তাশীল জাতির জন্য নির্দশন।” (সূরা নাহাল, আয়াত : ৬৯)
.
নবী ﷺ বলেন, তিনটি বস্তুর মধ্যে আরোগ্য রয়েছে:
.
● মধু পানে,
● শিঙ্গা লাগানোতে এবং
● লোহা পুড়িয়ে তা দিয়ে দাগ লাগানো দ্বারা। তবে আমার উম্মতকে দাগ লাগাতে নিষেধ করছি। (বুখারী ও মুসলিম)
.
যমযম পানি দ্বারা চিকিৎসা :
_________
.
নবী ﷺ আবু যর (রা.) কে বলেন, যখন কিনা তিনি যমযম পানি ছাড়া অন্য কোন খাদ্য পাননি: “নিশ্চয় এ পানি খাদ্য হিসেবে উপযুক্ত খাদ্য।” তিনি আরো বলেন, “যে উদ্দেশ্যে যমযম পানি পান করা হয় তা পূরণ হয়।” (সুনান ইবনু মাজাহ্)
.
কালো জিরা দ্বারা চিকিৎসা :
_________
.
নবী ﷺ বলেন, “তোমরা অবশ্যই এই কালো জিরা ব্যবহার করবে; কেননা মৃত্যু ছাড়া এতে সকল রোগের ঔষধ রয়েছে।” (সহীহ বুখারী)
.
.জ্যোতির্বিদ্যা, যাদু ও গণনা 
_________
.
যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যা, যাদু ও গণনা ইত্যাদির মাধ্যমে চিকিৎসা করে তার পরিচয় হল,
.
● সে রুগী এবং তার বাবা-মার নাম জিজ্ঞেস করবে।
● রুগীর কোন বস্তু যেমন: টুপি বা কাপড় বা চুল ইত্যাদি তলব করবে।
● নির্দিষ্ট কোন বৈশিষ্টে প্রাণী যবেহ করার কথা বলবে। বা মোমবাতি, আগরবাতী ইত্যাদি দান করার জন্য বলবে।
● তাবিজ-কবচ যেমন: নম্বরের মাধ্যমে বা বিচ্ছন্ন অক্ষরের মাধ্যমে ছক আঁকিয়ে প্রদান করবে।
● ঝাড়-ফুঁক করার সময় দুর্বোধ্য শব্দে গুণগুন করে মন্ত্র পাঠ করবে।
● রুগীকে এমন কিছু প্রদান করবে যা যমীনে বা কবরস্থানে বা নিজ গৃহে পুঁতে রাখতে বলবে।
● রুগীকে তার ব্যক্তিগত ব্যাপারে (অতিত, ভবিষ্যত) সম্পর্কে কিছু খবর প্রদান করবে।
● কিছু সুষ্পষ্ট পাপাচার তার মধ্যে দেখা যাবে। যেমন: দাড়ি মুন্ডন, মোচ লম্বা, টাখনুর নীচে কাপড়, জামাআতের সাথে ছালাত আদায়ে উদাসীনতা…. প্রভৃতি।
.
উল্লেখ্য যে, বালা মুছিবত থেকে রক্ষার জন্য বা রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের জন্য সব ধরণের তাবীজ-কবচ ব্যবহার করা শির্কের অন্তর্ভূক্ত। কেননা রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন,
.
مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ
.
“যে ব্যক্তি তাবিজ লটকাবে সে শির্ক করবে।” (সহীহ্ সনদে আহমাদ, হাকেম প্রভৃতি)
.
আল্লাহ্ সবাইকে সকল প্রকার যাদু-টোনা, বদনযর প্রভৃতি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আর সব ধরণের শির্ক ও তার উপকরণ থেকে দূরে থাকার তাওফীক দিন

وَالتِّينِ কসম ‘ডুমুরের। আল কুরআন সুরা আত তিন আয়াত ১ মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন ডুমুর ফলের কসম খেয়েছেন। আসুন আমরা সেই ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নেই। #মুখের #ব্রণ ও #কালো #দাগ: #উপশম #হয়। #সোরিয়াসিস,#পাণ্ডু ,#জন্ডিস,উপশম হয়। (#নাক, #মুখ #দিয়ে #রক্ত #পড়া,উপশম হয়। #ভস্মকাগ্নি :উপশম হয়। #অপুষ্টিজনিত #কৃশতা :উপশম হয়। #শোথে অপুষ্টি :উপশম হয়। #রক্তপিত্ত :উপশম হয়। রক্ত ও #শ্বেতপ্রদরে উপশম হয়। #পেটের #দোষ :উপশম হয়। #শ্বেতী রোগ :উপশম হয়। #চামড়ার #বিবর্ণতা : #দূষিত #ক্ষত :উপশম হয়। #অনিয়মিত #ঋতুস্রাব : উপশম হয়। #রক্তপিত্ত বা মুখ দিয়ে রক্ত ওঠা : উপশম হয়। #আমাশয় : উপশম হয়। #মাথা #ঘোরা :উপশম হয়। #ডায়াবেটিস :উপশম হয়। #হেঁচকি :উপশম হয়। #কোষ্ঠকাঠিন্য:উপশম হয়। #সাইনাস,উপশম হয়। #কুষ্ঠে প্রদাহ উপশম হয়। #বিষাক্ত #পোকা-মাকড়ের কামড় ও কুকুরে আঁচড় : জ্বালা-যন্ত্রণার উপশম হবে, বিষও থাকবে না। থেতলে যাওয়া ও আঘাত ফুলা ও ব্যথা দুই-ই :উপশম হয়। #ফোঁড়া :উপশম হয়। #মুখের #দুর্গন্ধ,উপশম হয়। #দাঁতের ও মুখে ক্ষত :উপশম হয়। #গ্রন্থিস্ফীতি :উপশম হয়। #রক্তার্শ ও রক্তস্রাব :উপশম হয়। #পিত্তবিকারজনিত রোগ :উপশম হয়। #চিকেন পক্স :উপশম হয়। #স্ত্রী রোগজনিত স্রাব :উপশম হয়। #বহুমূত্র :উপশম হয়। #বাতরোগ:উপশম হয়। #জ্বর নিবারক #কামোদ্দীপক, #রক্তপরিষ্কারক, #রক্তদোষনাশক, #ক্ষতনাশক, #কৃমিনাশক, #বলকারক: তুমি তো তাকেই সতর্ক করতে পারো যে উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে, তাকে মাগফেরাত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদানের সুসংবাদ দাও। আল কুরআন সুরা ইয়াসিন ১১

Share on Facebook

2 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *