সম্রাজ্যবাদ ফ্রান্সের ইতিহাস

ফরাসি ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য

আবিষ্কারের যুগে স্পেনীয় এবং পর্তুগিজদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ফরাসিরাও উত্তর আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং ভারতীয় উপমহাদেশে উপনিবেশ স্থাপন করা শুরু করে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আধিপত্যের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। ১৮শ শতকে ও ১৯শ শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের সাথে ধারাবাহিকভাবে কতগুলি যুদ্ধে পরাজিত হবার পর ফ্রান্স তার ঔপনিবেশিক অভিলাষ সাময়িকভাবে বিসর্জন দিতে বাধ্য হয় এবং এর সাথে সাথে “প্রথম” ফরাসি ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে। ১৯শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে নতুন করে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য স্থাপন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও এই উপনিবেশগুলি ফ্রান্সের অনুগত ছিল।

কিন্তু যুদ্ধের পরে উপনিবেশবাদ-বিরোধী আন্দোলনগুলি ফরাসি কর্তৃত্বকে অস্বীকার করা শুরু করে। ফ্রান্স ১৯৫০-এর দশকে এবং ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে ভিয়েতনাম ও আলজেরিয়াতে ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য যুদ্ধ করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। ১৯৬০-এর দশকে শেষ দিকে বিভিন্ন মহাসাগরে অবস্থিত কয়েকটি দ্বীপপুঞ্জ বাদে ফ্রান্সের বেশির ভাগ উপনিবেশ স্বাধীনতা লাভ করে। অবশিষ্ট অঞ্চলগুলিকে ফ্রান্সের অংশ করে নেওয়া হয়।

আফ্রিকার ১৪ দেশ থেকে ঔপনিবেশিক আমলের কর নিচ্ছে ফ্রান্স

ফরাসি শোষণের বেড়াজাল থেকে এখনও মুক্ত নয় আফ্রিকা। দাসত্বের শৃঙ্খল পরিয়ে প্রাক্তন উপনিবেশের ১৪টি দরিদ্র দেশকে এখনও নানা প্রকার কর ও ভাড়া দিতে বাধ্য করছে ফ্রান্স।

বিশ্বে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পরিচয় শিল্পকলা, চলচ্চিত্র আর সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। সেই পরিচয়ের ছিটেফোঁটাও সাবেক ফরাসি  অবশ্য উপনিবেশগুলোর ভাগ্যে জোটেনি।

আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে প্রায় দুই শতাব্দীর ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকালে ফ্রান্স মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে, তৎকালীন ইন্দোচীন বলে পরিচিত দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায়।

উপনিবেশগুলোর মানুষের জীবনমান ও অগ্রসরতা নিয়ে উদ্বেগ না থাকলেও অবশ্য ফ্রান্স এখনও বহু দরিদ্র আফ্রিকান দেশকে কর ও ভাড়া দিতে বাধ্য করছে। এর মাঝে ১০টি দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে শিক্ষাহার পুরো বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে কম।

প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষাহারসহ হতভাগ্য দেশগুলোর মধ্যে ৮টি দেশের দিকে নজর দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এই ৮ দেশ হলো; বেনিন (৪০%), বুর্কিনা ফাসো (২৬%), চাদ (৩৪%), আইভরি কোস্ট (৪৯%), গায়ানা (২৯%), মালি (২৩%), নাইজার (২৯%) এবং সেনেগাল (৪২%)।

দেড়শো বছরের ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনে এটাই সবচেয়ে চমকপ্রদ ফলাফল!

শিক্ষা নিয়ে আরেক বঞ্চনার উদাহরণ নমুনা দেওয়া যেতে পারে। দেড়শো বছর পর ১৯৬০ সালে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র যখন ফ্রান্স থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা লাভ করে তখন পর্যন্ত সে দেশটির মাত্র একজন ব্যক্তি পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করতে পেরেছিলেন।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্বিত ফ্রান্স ন্যাক্কারজনক অবস্থা রেখে গেছে তার আফ্রিকান কলোনিগুলোয়। আর এই অনগ্রসরতার সুযোগ নিয়ে এখনও এই ইউরোপীয় প্রভু আফ্রিকাকে সাংস্কৃতিক নির্ভরতা আর আর্থিক শোষণের বেড়াজালে বন্দি রাখতে পারছে।

আইভরি কোস্টে বিদ্রোহীদের ঠেকাতে মোতায়েন করা কিছু সেনা সদস্য

এসব দেশে গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণহত্যা অধিকাংশ সময়েই ঔপনিবেশিক শক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধনে সংগঠিত হয়। ফ্রান্স এখনও এসব দেশে ঔপনিবেশিক আমলে নির্মিত সরকারি ভবন ও স্থাপনার ভাড়া আদায় করে। খবর সিজিএস গ্লোবের।

এই প্রেক্ষিতে এখন ধরে নেওয়া যাক, স্বাধীনতার পরেও যুক্তরাষ্ট্রকে হোয়াইট হাউজের ভাড়া যুক্তরাজ্যকে দিতে হচ্ছে। কিংবা প্রাক্তন সোভিয়েত আমলে তৈরি করা পূর্ব ইউরোপের আবাসিক ভবনগুলোর ভাড়া আদায় করছে রাশিয়া!

অবিশ্বাস্য এবং অবাস্তব এই শোষণ কিন্তু আফ্রিকার বাস্তবতা। প্রাকৃতিক সম্পদও অবাধে উত্তোলনের সুযোগ পায় ফরাসি কোম্পানিগুলো। নিয়ন্ত্রণ করে অনেক দেশের মুদ্রানীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ।

আরেকটি পরিসংখ্যান জেনে রাখা দরকার। ১৯৯০’এর দশকে যখন পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, তখন প্রত্যেকটি দেশেই শতভাগ শিক্ষার হার ছিল। একটি দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

শুধু শিক্ষাহার নয় সোভিয়েত শাসনামলের অবসান হওয়ার সময় এদেশগুলোতে ছিল হাজার হাজার সুপ্রশিক্ষিত চিকিৎসক আর প্রকৌশলী। সোভিয়েতরা তৈরি করেছিল মানসম্মত বহু বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, আবাসন এলাকা। একই কথা বলা যেতে পারে যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো স্থাপনের ক্ষেত্রে।

পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত আমলে তৈরি করা এক আবাসন কমপ্লেক্স

স্বাধীনতা লাভের দুই দশক পর আজও পূর্ব ইউরোপের অধিকাংশ বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসন, অন্যান্য অবকাঠামো সেই সোভিয়েত আমলেই তৈরি করা হয়।

সেই তুলনায় মুক্তবিশ্বের সংস্কৃতিমনা নক্ষত্র ফ্রান্সের অবদান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাই নয় কি?

আলজিরিয়ায় নিপীড়নের কথা স্বীকার করলো ফ্রান্স

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁন্সোয়া ওল্যাঁদ আলজিয়ার্সে সে দেশের সংসদে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি বলেন, ১৩২ বছর ধরে আলজেরিয়রা নির্মম এবং অন্যায় এক শাসনব্যবস্থার অধীনে জীবনযাপন করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয় ওল্যাঁদ এই সফরের সময় ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একজন্যে ক্ষমা চাইবেন বলে আশা করেছিল আলজেরীয়রা।

ফ্রান্সে ৩০ বছরের কমবয়েসী যেসব আলজেরীয়র বাস তারা ফ্রান্সকে শত্রু হিসাবে দেখে না, যেমনটা হয়ত দেখতেন তাদের আগের প্রজন্মের আলজেরীয়রা।

বরং এক সমীক্ষায় দেখা গেছে তাদের সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্ম উদাসীন- আজকের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যুগে তারা চায় সমানাধিকার।

তবে অতীত ইতিহাসকে দুদেশ কখনই পুরোপুরি স্বীকার করে নেয় নি।

সেই অর্থে আলজেরীয় সংসদে ওল্যাঁদের ভাষণ একটা সূচনা।

তিনি তাঁর ভাষণে বলেছেন – ‘১৩২ বছর আলজেরিয়া একটা নির্মম ও অন্যায় শাসনের অধীনে ছিল – যেটি হল ঔপনিবেশিকতা।’

কিন্তু একথা বললেও পূর্ণাঙ্গ ক্ষমা তিনি চান নি অথবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অপরাধের জন্য কোনোরকম অনুশোচনা দেখান নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আলজেরীয় জাতীয়তাবাদী অভ্যূত্থান ফরাসী বাহিনী যখন নির্দয় হাতে দমন করেছিল, তখন প্রাণ হারিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।

তিনি তার ভাষণে শুধু এটুকুই বলেছেন যে সহিংসতা, অবিচার, গণহত্যা ও নির্যাতন সম্পর্কে সত্য স্বীকার করে নেওয়া উচিত।

ফ্রান্সসহ বিশ্বের যেসব দেশ ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে এসব ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছে, এতে তাদের দীনতা, অজ্ঞতা ও অসহায়ত্বই প্রকাশ পায়। আর মুসলিমদের কাছে এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় যে, বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত-সুন্নাহ তথা সুন্দর ও অতুলনীয় আদর্শগুলো তুলে ধরা। যার প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী মানুষ জানতে পারবে বিশ্বমানবতার জন্য কেমন ছিলেন বিশ্বনবি।

পশ্চিমা বিশ্ব যান্ত্রিক উন্নতির দিকে এগিয়ে গেলেও সভ্যতার শিখরে পৌছতে ব্যর্থ হয়েছে। মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে বিপর্যস্ত ও পর্যুদস্ত হলেও ইসলাম বিদ্বেষীদের ঘৃণ্য আক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। এর একমাত্র কারণ, ইসলাম, কুরআন ও বিশ্বনবির সুমহান আদর্শ বুকে ধারণ করে মুসলমান। যে কুরআন ও নবির আদর্শ অন্ধকার জগত থেকে মুমিন মুসলমানকে দেখায় আলোর পথ।

মুসলিম উম্মাহকে বিপথগামী করতে, বিশ্বের বুকে তাদের মনোবলকে ভেঙে দিতেই যুগে যুগে ইসলাম বিদ্বেষীরা কখনো ইসলামের উপর আক্রমণ করেছে। আবার কখনো বিশ্বনবির ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশ করে চালিয়েছে ঘৃণ্য অপপ্রয়াস। এ থেকেই প্রমাণিত ইসলাম, কুরআন ও বিশ্বনবির আদর্শ চিরন্তন সত্য ও এর বিবরণ যর্থার্থ।

ফ্রান্সের জন্য আফসোস!
ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত দেশটি তাদের যথাযথ অবস্থান ধরে রাখতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড বরাবরই দেশটির মুসলিমদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে চলছে। কষ্ট দিচ্ছে মুসলিম উম্মাহকে। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে তাদের এ ব্যঙ্গ চিত্র দেশটির দেয়ালে দেয়ালে টানানো তাদের এই ধৃষ্টতা যেন ছাড়িয়ে গেছে আগের সব মুসলিম বিদ্বেষ।

অথচ বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কত উদার ও ক্ষমা প্রদর্শনকারী ছিলেন; তা মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকেই প্রমাণিত। ইসলাম বিদ্বেষীরা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জন্মভূমি থেকে যথেষ্ট কষ্ট দিয়ে হিজরত করতে বাধ্য করেছিলেন। অথচ মক্কা বিজয়ের পর বিশ্বনবি ক্ষমার এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন। যাতে সবাই ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেশটিতে মুসলিমদের ওপর দমন-নিপীড়নের ঘটনা উঠে আসছে। ফলে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বিশ্ব মুসলিম। বাংলাদেশের ইসলামি মতাদর্শে বিশ্বাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরাসহ বিশ্বজুড়ে উঠছে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড়। তাদের প্রতিবাদের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-

সম্প্রতি ডেনমার্কের এক নওমুসলিম এমপি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ (Joram van Klavere) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ফ্রান্সে বিশ্বনবিকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রকাশের বিষয়ে মুসলিম উম্মাহর প্রতি শান্তির আহ্বান তুলে ধরেন-ফ্রান্সে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশ করায় ডাচ নওমুসলিম এমপি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন-
‘বিশ্বনবি ইতিহাসের এমনই একজন মহামানব ছিলেন, যিনি একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান, শিক্ষক, সামরিক প্রশাসক এবং আল্লাহর প্রেরিত দূত তথা রাসুল ছিলেন। তিনি কোটি কোটি মুসলমানের নয়নমনি।

ফ্যান্সের বিতর্কিত ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম কার্টুন প্রকাশ করে শুধু বিশ্বনবিকেই অপমান করেনি বরং কোটি কোটি মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে, অপমান করেছে।

এমপি আব্দুল্লাহ (Joram van Klavere) আরও লেখেন, ‘আমি জানি, তিনি যদি এখন বেঁচে থাকতেন; তবে তিনি অপরাধীকে ক্ষমা করে দিতেন। তিনি তাঁর ক্ষমা করার অসাধারণ গুণ বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিতেন। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে সর্বেোচ্চ জ্ঞান দান করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যঙ্গ চিত্র আঁকা কার্টুনিস্টদের বিরুদ্ধে রাগের মাথায় কোনো ক্ষতিকর কার্যকলাপ না করে ধৈর্যধারণ করা উচিত। আর কার্টুনিস্টদের এ অপরাধমূলক কাজের দায়ভার মহান আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়ার কথাও উল্লেখ করেন ডেনমার্কের এ নওমুসলিম এমপি।

তিনি আহ্বান জানান, বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুমহান আদর্শ ও শিক্ষা মানুষের কাছে আরও বেশি বেশি তুলে ধরতে হবে। তাদের মাঝে বিশ্বনবির আদর্শ ও দাওয়াত ব্যাপকভাবে পৌছে দিতে হবে। আমি যদি অমুসলিম হতাম। যদি আল্লাহ আমাকে ইসলামের জন্য কবুল না করতেন। তাদের বলুন, কে ছিলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাদের দেখান, কি শিখিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁর সম্পর্কে জানতে তাদের দাওয়াত দিন। তিনি বিশ্বমানবতার জন্য আর্শীবাদস্বরূপ প্রেরিত হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘অবশেষে মনে রাখবেন, ইসলামের আলো দুনিয়ার প্রতিটি কোনা কোনায় পৌছে যাবে ইনশাআল্লাহ। বিশ্বের কোনো শক্তিই এটাকে থামাতে পারবে না। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আলোর মশাল দিয়েছেন। যা দিয়ে বিশ্বমানবতাকে আলোকিত করতে হবে। কিছু মানুষের মাঝে পার্থক্য থাকতে পারে!’

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *