বাংলাদেশ পুলিশ

বিপদের সাহস, শক্তি ও সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা

জনগণকে পুলিশ থেকে পৃথক করা যাবে না। আবার পুলিশকে জনগণ থেকে পৃথক করা যাবে না।জনগণ থেকে, জনগণের জন্য, জনগণ দ্বারা পরীক্ষিত ও মনোনিত, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এক বাহিনী, যার নাম পুলিশ বাহিনী। একটি দেশের পুলিশের ব্যবহার নির্ভর করে সে দেশের জনগণের আচার আচরন কেমন তার উপর।পরিশেষে বলতে চাই, অপরাধীর কোন পরিচয় নেই। তিনি শুধু অপরাধীই। আপরাধী আমি/আপনি যেই হইনা কেন তার বিচার হওয়া উচিত। বাংলাদেশ পুলিশ আমাদের শক্তি, বিপদের সাহস ও সকল সমস্যার সমাধানে পুলিশে ভূমিকা অতুলনীয়।

যারা পুলিশকে খারাপ বলে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন ?

  • কখনো কি ভেবেছিলেন এই ফোর্সকে স্বাধীন করে দেওয়ার।
  • যে সরকার ক্ষমতায় আসছে তারা পুলিশকে ব্যাবহার করেছে।
  • পুলিশে যারা চাকুরী করে তারা কারো না করো ভাই বোন।
  • আজকে একজন খারপের জন্য সব পুলিশকে দোসছেন কেন।
  • যারা বড় গলায় কথা বলে তাদের বলছি আপনারা

নিজ পরিবার নিজ গোত্র ও নিজ সমাজকে ঠিক করেন তাহলে আর পুলিশ এ্যকশান লাগবেনা ।

যাদের কাজে এক মুখে আরেক তারাই ন্যায়ের দাবিদার।Governing body : Ministry of Home Affairs সাংবিধানিক ভাবে এই ফোর্স রাষ্ট্রের যন্ত্র ।

মিশন

বাংলাদেশ পুলিশ আইন প্রয়োগ, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, অপরাধের ভয় কমাতে, জনগণের সুরক্ষা বাড়াতে এবং জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

ভিশন

বাংলাদেশকে আরও উন্নত ও নিরাপদ স্থান হিসাবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের আস্থা ও শ্রদ্ধা ভোগযোগ্য, দক্ষ ও নিবেদিত পেশাদারদের দ্বারা মানসম্পন্ন পরিষেবা সরবরাহ করা।

বাংলাদেশ সময়কাল [১৯৭১বর্তমান]

১৯৭১ সালের ১ডিসেম্বর স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরে পুলিশ বাহিনীকে একটি জাতীয় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা স্বীকৃতি দেওয়া হয়।  । বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে পুলিশ নামটি ব্যবহার করে আসছিল।

মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা [১৯৭১]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে, বাংলাভাষী পুলিশ আধিকার ও বাংলা স্বাধীন করার পক্ষে নাগরিকদের সাথে অংশ নিয়েছিল এবং বেশিরভাগ পর্যায়ের মারা গিয়েছিল এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩০৩০ রাইফেল নিয়ে লড়াই করেছিল। রাজারবাগে পুলিশ সদস্যদের বাঙালি সদস্যদের প্রতিরোধকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র সংগ্রামের প্রথম অধ্যায় হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

পাকিস্তান আমল [১৯৪৭১৯৭১]

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পরে, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী প্রথমে পূর্ব বাংলা পুলিশ এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান পুলিশ হিসাবে নামকরণ করা হয়; যাইহোক, এটি ব্রিটিশ শাসনের সময়কার মত একই পন্থায় কাজ করে চলেছে।

ব্রিটিশ আমল [১৭৫৭১৯৪৭]

শিল্প বিপ্লবের প্রথম পর্যায়ে, যখন আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের কারণে ইংল্যান্ড মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন একটি কার্যকর সংগঠিত পুলিশ সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্যার রবার্ট পিল ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ সংসদে একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন যা লন্ডনে একটি সংগঠিত সিভিল পুলিশ তৈরি করেছিল। সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে লন্ডন পুলিশের সাফল্য কেবল ইংল্যান্ডের মানুষই নয়, ইউরোপীয় এবং আমেরিকান দেশগুলির দ্বারাও প্রশংসিত হয়েছিল: নিউইয়র্ক শহর ১৮৩৩ সালে লন্ডনের মডেলটিকে প্রথম পৌর পুলিশ বাহিনী সংগঠিত করার সময় কিছু সংশোধন করে অনুলিপি করেছিল। ।

১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ভারতীয় অঞ্চল শাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৮২৯ সালের পিল আইনের আওতায় সংগঠিত লন্ডন পুলিশের সাফল্য ব্রিটিশ সরকারকে উপ-মহাদেশে পুলিশ ব্যবস্থাটিকে ব্রিটিশ কনস্টেবলের মতো একইভাবে সংস্কার করতে প্ররোচিত করে। এই পরিণতিতে, ১৮৪০ সালে একটি পুলিশ কমিশনার গঠন করা হয়েছিল এবং পুলিশ অ্যাক্ট কমিশন ((Act V of 1861) এর সুপারিশক্রমে ব্রিটিশ সংসদ কর্তৃক পাস হয়। এই আইনের অধীনে ব্রিটিশ ভারতের প্রতিটি প্রদেশে একটি পুলিশ বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল, এবং প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। একটি প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর প্রশাসনের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন একজন পুলিশ অফিসারকে মহাপরিদর্শক হিসাবে রচনা করা। একটি জেলার পুলিশ প্রশাসনকে পুলিশ সুপারের অধীনে রাখা হয়েছিল। এই আইনটি পুরো উপমহাদেশ জুড়ে এখনও কার্যকর রয়েছে, এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি উপমহাদেশের অন্যান্য দেশগুলিতেও পুলিশদের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে

৩৬০ আউলিয়ার দেশে সবাই সাধু শুধুমাত্র পুলিশ ছাড়া।

সাবেক সেনা সদস্য মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ । কিন্তু কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠি এর দায়ে ঢালাও ভাবে সমগ্র পুলিশ বাহিনী দোষারপ করছে শুধুমাএ পুলিশ এর ক্ষেএেই।

একটা বিষয় সকলেরই বোঝা উচিত, কারো ব্যক্তি কেন্দ্রীক অপরাধের দায় কোন বাহিনী বা সংগঠন নিতে পারেনা।

ঘরে বসে কী বোর্ডে ঝড় তুলে দেওয়া সবাই আজ দেশপ্রেমিক শুধুমাত্র পুলিশ ছাড়া।

দুর্নীতি মুক্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিতি পাচ্ছে না, শুধুমাত্র পুলিশ ঘুষ খায় বলে।

সর্বত্র আজ সুশাসন শুধুমাত্র পুলিশ বাহিনী ছাড়া।

পুলিশ চেটের বাল- লাস্ট শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টেনমেন্ট কলেজের দু’জন ভাই-বোন সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখন ২/৩ দিনে ওয়ালে শেয়ার হওয়া সব থেকে বেশি পোষ্ট। এই বাক্যটার মাঝে পুলিশ এর প্রতি তীব্র ঘৃণা রয়েছে সহজেই বোধগম্য। তার যথাযথ কারণ থাকলেও ঢালাও ভাবে সমগ্র একটা বাহিনীকে দোষারোপ করা হয় শুধুমাত্র পুলিশ এর ক্ষেত্রেই।

যে দেশে মানুষ ঘুষ দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে, সে দেশে আপনি মুখে নীতি কথা আর কী-বোর্ডে ঝড় তোলা ছাড়া কি-ই বা করতে পারবেন !!

আমি আপনি তিন লক্ষ টাকা দিয়ে বাইক, চল্লিশ লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনতে পারি কিন্তু চার হাজার টাকা খরচ করে লাইসেন্স করতে পারিনা।

একটা চেকপোস্ট এ গাড়ির কাগজ দেখতে চাইলে আগে বলেন,”ফোনে একটু কথা বলেন।”

আমার আপনার ফোন কলই যে দেশে লাইসেন্স হিসাবে কাজ করে সেখানে আমি/আপনি সাধু শুধুমাএ পুলিশ ছাড়া।

আমরা নিরাপদ সড়ক চাই কিন্তু ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে চাই না।

আইন থাকুক দেশে কিন্তু নিজে ট্রাফিক আইন মানতে চাই না।

আফটার অল ফেইসবুক কেন্দ্রীক সচেতন নাগরিক আমরা।

আমি আপনি সেই সচেতন সিটিজেন, যে নিজে একবার ঠেলে বাসে উঠতে পারলে সারা রাস্তায় বাসের ভিতর দাঁড়িয়ে চিৎকার করি, “ওই হ্লা দাঁড়িয়ে যাত্রী নেস ক্যা?”

আপনি সেই সুনাগরিক যে, নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে না নেমে বাড়ির সামনে নেমে একটু পরে আবার সেই আপনিই বলেন, “শালার ব্যাটা যেখানে সেখানে বাস থামাস ক্যা।”

পুলিশকে গালি দিতে দিতে স্ট্যাটাস দেওয়া ভদ্রলোকসুলভ সচেতন সিটিজেন বি.আর.টি এ তে যেয়ে লাইসেন্স ফর্ম নেওয়ার কক্ষ না খুঁজে দালাল খুঁজেন সবার আগে। পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া আপনার মৌলিক অধিকার গুলোর ভিতর একটা।

সব দেশেই যেখানে ধর্মকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমুল্যের দাম কমায়, সেখানে আপনি পুলিশ একটা মাদার ফাকার বলতে দাম বাড়িয়ে প্রমাণ করেন আপনি নির্ভেজাল ব্যবসায়ী।

ডাক্তারের কাছে গেলে সিরিয়ালটা আগে পাবার জন্য দুর্নীতি করেন, ব্যাংক ঋণ পাবার জন্য ঘুষ প্রদান করেন, চাকরী পাবার জন্য ঘুষ দেন, ভূমি অফিসে জাল দলিল করার জন্য ঘুষ দেন, সুদে ব্যবসা করেন, সাধারণ জনগণের টাকায় ছেলে মেয়ে নিয়ে বিদেশ ট্যুরে যান, রাস্তায় টেন্ডারের কাজ নিয়ে রডের বদলে বাঁশ দেন,নিজের গার্লফ্রেন্ড নিয়ে চিপায় যেয়ে ফেসবুকে ধার্মিক সাজেন, মাদক নিতে নিতে মাদক বিরোধী পোষ্ট দেন।

জাতির সাথে কিংবা রাষ্ট্রের সাথে বেইমানী করার কোন ইতিহাস নেই বাংলাদেশ পুলিশের। বরং মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বুলেট ছোড়া থেকে শুরু করে আজ অব্দি পর্যন্ত দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় সাধারণ/অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। বর্তমানে করোনা মহামারীতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ পুলিশ কখনও পথভ্রষ্ট হয়নি, বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা রাষ্ট্রের কাছে অনুগত ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে।পুলিশের কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ করে থাকেন কিংবা অপরাধের সাথে জড়িত থাকেন, তাহলে এই অপরাধের দায়ভার উক্ত ব্যক্তিকেই নিতে হবে, গোটা পুলিশকে নয়। বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখায় বাংলাদেশ পুলিশের অবদান অনস্বীকার্য। মানুষের জান-মাল এবং সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে।ব্যক্তির অপরাধের দায় গোটা বাহিনীর উপর দিবেন না। কার স্বার্থে বাংলাদেশ পুলিশকে ঢালাওভাবে বিষোদগার ?

Share on Facebook

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *