দুই সমুদ্রের পানি একসাথে হয়না কেন

দজলা ও ফোরাত নদী সম্পর্কে কুরআন ও বিজ্ঞান কি বলে?

পৃথিবীতে এমন এক জায়গা আছে যেখানে দুটি সাগরের পানি একসাথে মিলিত হলেও তা একে অপরকে ভেদ বা মিশে যায় না। আমরা অনেকেই টাইগ্রিস (দাজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) দুই দরিয়া নদীর নাম ও পানির আচরণ সম্পর্কে শুনেছি। এই দৃশ্য শুধু বিশ্বের ভেতর দাজলা ও ফোরাত নদী যেখানে মিলিত হয়েছে সেখানে দেখা যায়। ওই খাড়ি এক শতাধিক মাইল দীর্ঘ একটি সাগর বিশেষ এবং শাতিল-আরব নামে অভিহিত। এ উপসাগরের অভ্যন্তরে যখন নদীর মিঠা পানির ঢেউ আসে তখন মিঠা পানিকে স্থল ভাগের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় যা দ্বারা সেচকার্য করা হয়।

পবিত্র কুরআনে আরবি ‘বাহর’ শব্দ দ্বারা বিপুল পরিমাণ পানি বা সাগরও বোঝায় তেমনি বড় বড় নদী কেউ বোঝায়। ইংরেজি ‘সি’ (sea) শব্দের অর্থই বহন করে। মিঠা পানি ও নোনা পানির এই দুই অন্তরালের মিঠা ও নোনা পানি না মেশার সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নিচের তিনটি আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে __

“তিনি দু দরিয়াকে প্রবাহিত করেছেন, একটির পানি মিষ্টি, সুপেয় এবং অপরটির পানি লোনা, খর। উভয়ের মধ্যে তিনি রেখে দিয়েছেন এক অন্তরায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান”। (সূরা আল ফুরকান, ২৫; ৫৩)
আল্লাহতালা বলেন…
“দুটি দরিয়া এক রূপ নয়-একটির পানি সুমিষ্ট, সুপেয় অপরটির পানি লোনা, খর। প্রত্যেকটি হতে (তাজা মাংস) মৎস্যাহার করো এবং তোমাদের ব্যবহার্য রত্নাবলী সংগ্রহ করো” (সূরা ফাতির, ৩৫;১২)

“তিনি প্রবাহিত করেন দুই দরিয়া যারা পরস্পর মিলিত হয়, কিন্তু তাদের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। উভয় দরিয়া হতে উৎপন্ন হয় মুক্ত ও প্রবাল।” (সূরা আর রহমান, ৫৫;১৯,২০ ও ২১)

এই তিন আয়াতের বর্ণনায় নোনা ও মিঠা পানির নামে সার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরো উল্লেখ করা হয়েছে পানি থেকে যা পাওয়া যায় অর্থাৎ মাছ, মুক্তা ও প্রবাল। মিঠা ও নোনা পানি রামেশ্বর ঘটনা শুধুমাত্র এই দুই নদীর (দজলা ও ফোরাত) ক্ষেত্রে নয়, অন্যত্রও এ ধরনের ঘটনা আছে।কুরআনে এ দুটি নদীর নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও সাধারণত বাস্তবতার সাথে মিল থাকাই মনে করা হয় যে, এ দুটি নদীর দিকেই ইশারা করে বলা হয়েছে।

কুরান যেখানে আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে এই দুই সমুদ্রের পানির অন্তরালের কথা বর্ণনা করেছেন সেখানে আজ আধুনিক বিজ্ঞান সম্প্রতি প্রমাণ করেছে যে নোনা ও মিঠাপানির ঘনত্বের কারণেই এক নদীর পানি অন্য নদীতে মিশে যায় না বা মিশতে পারে না। পবিত্র কুরআনে এ নদীর পানি সম্পর্কে যে তথ্য বা বিশিষ্টতা প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে তা সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। এটা মহান আল্লাহ তাআলার একটি চাক্ষুষ নিদর্শন যা কখনোই অস্বীকার করা যায় না।

Share on Facebook

3 comments

  1. Attractive section of content. I just stumbled upon your web site and in accession capital to assert that I acquire in fact
    enjoyed account your blog posts. Anyway I’ll be subscribing
    to your augment and even I achievement you access consistently
    quickly.

    Review my blog :: CBD for Sale

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *