ঈদের সালাতের বিধি-বিধান

ঈদের সালাত বা নামাযের যাবতীয় বিধি বিধান সম্পর্কে নিম্মে আলোচনা পেশ করা হল।

 ঈদের নামাজ (এছাড়াও সালাত আল-ঈদ (আরবি: صلاة العيد‎‎) এবং সালাত আল-ঈদায়িন (আরবি: صلاة العيدين‎‎ নামে পরিচিত) হচ্ছে একটি বিশেষ নামাজ, যা মুসলমানরা মূলত তাদের দুটি ধর্মীয় উৎসবের দিন আদায় করে। সাধারণত এটি বরাদ্দকৃত কোন খোলা জায়গা (মুসল্লা বা ঈদগাহ) অথবা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। মুসলমানদের যে দুটি উৎসবে বৃহৎ আকারে একত্রিত হয়ে এই নামাজ আদায় করা হয়, তা হলো:

ঈদুল ফিতর (আরবি: عيد الفطر‎‎), হিজরী সনের দশম মাস, শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে উদযাপন করা হয়।ঈদুল আযহা (আরবি: عيد الأضحى‎‎), হজ্জ তীর্থযাত্রার প্রধান দিন আরাফাতের দিনের পরবর্তী দিন হিজরী সনের দ্বাদশ মাস, জ্বিলহজ্জ মাসের দশম দিনে উদযাপন করা হয়।

গুরুত্ব 

ঈদের সালাত বা  নামাজের গুরুত্বের ব্যাপারে ইসলামী চিন্তাবিদগণ বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। হানাফী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ওয়াজিব, মালিকি ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসারে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং হাম্ববলী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ফরজ। কোনো কোনো ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে আইন এবং কোনো কোনো ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে কেফায়া। কিন্তু কারো কারো মতে ঈদের দুই রাকায়াত নামাজ নফল।

তবে বাস্তবে সকল দেশে মুসলিম সমাজে ঈদের নামাজ একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সহ বহু দেশে নামাজ তো পড়াই হয়, অধিকন্তু ঈদের দিনটি উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়।

করোনার এই সংকটময় সময়েও ঈদের নামাজ দিয়েই শুরু হয় ঈদের উদযাপন। ঈদের নামাজ ছাড়া ঈদ যেন কল্পনাই করা যায় না।

দেড় হাজার বছরে কখনও ঈদের নামাজ পরিত্যক্ত হবার ইতিহাস পাওয়া যায় না। ঈদের নামাজ ইসলামের অন্যতম এক শেয়ার। শেয়ার বলা হয় ধর্মের পরিচায়ক, প্রতীক ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গকে।

এমন এক সময় এই ঈদ এলো যখন সারা বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মৃত্যু মুখে নিপতিত হচ্ছে, আরও অসংখ্য মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে কঠিন সময় পার করছে। যত দুর্যোগই আসুক আমাদের জীবনে ইবাদত বন্দেগী আমাদের করেই যেতে হবে। শরিয়ত যেভাবে নির্দেশ করে সেভাবেই আমাদের প্রতিটি হুকুম পালন করতে হবে।

আমাদের দেশে বেশ কিছু দিন মসজিদ বন্ধ ছিল। এখন উন্মুক্ত করে দেয়া হলেও অনেকেই সতর্কতামূলক ঘরেই নামাজ পড়ছিলেন। এখন ঈদের সময় তারা কী করবেন?

বিশেষত যারা কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে আছেন এবং যারা করোনার ভয়ে ভীড় থেকে দূরে থাকতে চান তারা কিভাবে ঈদের নামাজ আদায় করবেন?

খুব সংক্ষেপে আমরা এ বিষয়ে শরিয়াতের নির্দেশনা তুলে ধরব। মূলত ঈদের নামাজ জুমার নামাজের মতই। জুমার জন্য যেসব শর্ত ঈদের জন্যও সেই একই শর্ত। জুমা সাপ্তাহিক ঈদ আর ঈদ হচ্ছে বাৎসরিক আয়োজন।

সাপ্তাহিক ঈদের মত হলেও বাৎসরিক আয়োজনে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। জুমার নামাজ ফরজ আর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। ( অন্য মাজহাবে সুন্নাত)

জুমার নামাজের পূর্বে দুটি খুতবা দিতে হয়। জুমার খুতবা ওয়াজিব। ঈদের নামাজের খুতবা ওয়াজিব নয়, সুন্নত। ঈদের খুতবা দিতে হয় নামাজের পর।

জুমার সঙ্গে ইদের নামাজের আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে, ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হয়। প্রথম রাকাতের শুরুতে আর পরের রাকাতে রুকুর আগে তিন তিনটি তাকবির দেয়ার নিয়ম। রাসূল সা. ইদের দিন সম্পর্কে বলেন, হাযা ইদুনা ইয়া আহলাল ইসলাম। হে মুসলিম উম্মাহ! এটা আমাদের ইদ। (বুখারী ১/১৩৪)

ঈদের শর্তগুলো কিছুটা সহজ রাখার কারণ ঈদের গুরুত্বহীনতা নয় বরং কড়াকড়ি করে ঈদের আনন্দ যেন মাটি না হয় সে উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তায়ালা ঈদকে সহজ করেছেন। ঈদের নামাজ ফরজ করলে স্বত:স্ফূর্ত জামাত আদায়ের আনন্দ থাকত না।

আল্লাহতায়ালা এ জন্যই ফেরেশতাদের সামনে মুমিনদের নিয়ে গর্ব করেন। ঈদের জামাতে যারা অংশগ্রহণ করে তাদের সব গুনাহ মাফ করে দেন।

রাসূল সা. ইরশাদ করেন, ‘আসমানে ঈদের দিনকে পুরস্কার দিবস নামকরণ করা হয়। ঈদের নামাজ শেষে ফেরেশতারা ঘোষণা করতে থাকে, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের পাপসমূহ মাফ করে দিয়েছেন, তোমরা পূত পবিত্র হয়ে গৃহে ফিরে যাও। (তাবারানি কাবির, সাদ ইবন আউস রা. থেকে বর্ণিত, তারগিব ২/১৫৯)

যারা মসজিদে যেতে পারছেন না বা সতর্কতামূলক যেতে চান না তাদের ঈদের নামাজ জামাতেই পড়তে হবে। জামাত ছাড়া একাকী পড়ার বিধান শাফেয়ী মাজহাবে আছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হানাফি মাজহাব অনুসরণ করেন।

হানাফি মাজহাবের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, জামাত ছাড়া একাকী ঈদের সালাত আদায় করা যায় না। (ইবন রুশদ, ১/১৫৯, মুহিতে বুরহানি ২/২২৯)

রাসূল সা. বা সাহাবায়ে কেরাম কখনও একাকী ঈদ আদায় করেননি। কোনো একটি বর্ণনায়ও একাকী ঈদের নামাজ আদায়ের কথা পাওয়া যায় না।

মসজিদ ছাড়া ঘরে ঈদের জামাত করা যাবে? হ্যাঁ অবশ্যই করা যাবে যদি শর্ত পাওয়া যায়। শর্ত হচ্ছে ইমাম ছাড়া কমপক্ষে তিন জন বয়স্ক পুরুষ থাকতে হবে। বড় ঘরের বৈঠক খানায় অথবা বাড়ির ছাদে বা উঠানে অথবা যে কোনো খোলা জায়গায় ইদের নামাজ আদায় করা যাবে।

হযরত আনাস রা. একবার ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি, তো তিনি বাড়ির সবাইকে একত্র করে তার গোলামকে ঈদের নামাজের ইমামতি করতে বললেন। (বুখারী শরীফ ১/১৩৪)

এসব শর্ত সবার জন্য পালন করা সহজ হবে না। সবার তো আর বড় বাড়ি নেই। বাড়ির সামনে খোলা জায়গাও নেই। সে ক্ষেত্রে ঈদের নামাজ নয়, বরং চার রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করার কথা বলেছেন হযরত ইবন মাসউদ রা.। [ইবন আবি শাইবা ৪/২৩৫]

আতা ইবন রাবাহ বলেছেন, কোনো কারণে ঈদের নামাজ পড়তে না পারলে দু’রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করবে। [বুখারী ১/ ১৩৪]

হানাফি মাজহাবে এ জন্য দু রাকাত ও চার রাকাত উভয়টির অনুমোদন রয়েছে। তবে চার রাকাত পড়া উত্তম লেখা হয়েছে ফতোয়ার কিতাবাদিতে। [মুহিত ২/২২৯, শামী, আলমগিরি, বাদায়ে, বাহর, মাজমাউল আনহুর, মুখতাসারুত তাহাভি]

ঈদের নামাজের বদলে চাশতের নামাজ পড়লেও আল্লাহ ইদের সওয়াব দিয়ে দিবেন ইনশাল্লাহ। যাদের ঈদের জামাতে শরিক হবার তৌফিক হয় তারা সবাই ঈদে শরিক হবেন। যাদের মসজিদে বা ঘরে জামাত করতে সমস্যা হয় তারা অবশ্যই মহল্লার মসজিদে ঈদের জামাত শেষ হবার পর ঘরে দুই রাকাত বা চার রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করে নিবেন।

অতিরিক্ত ছয় তাকবির দেয়া লাগবে না। নিয়ত করতে হবে নফল নামাজের। যে কোনো সুরা দিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। সাধারণ নফল নামাজের মতই এ নামাজ পড়তে হবে।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সবাইকে সুন্দরভাবে ঈদুল ফিতর উদযাপন করার তাওফিক দিন। দ্রুতই আমাদের দেশকে করোনামুক্ত করেন এবং সবধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেন।

ঈদের নামায পড়া ওয়াজিব

জুমার নামাযের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, ঈদের নামাযের জন্য ঠিক সেই শর্তগুলোই প্রযোজ্য। পার্থক্য শুধু এতোটুকুই যে, জুমার নামাযের খুৎবা ওয়াজিব এবং নামাযের আগে দিতে হয়, আর ঈদের নামাযের খুৎবা সুন্নত এবং নামাযের পরে দিতে হয়।
অতএব, কোন স্থানে জুমআ ও ঈদের নামায বিশুদ্ধ হবার জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। যথা-
১.শহর বা উপশহর হতে হবে। গ্রামে বা জনমানবহীন বিরাণভূমিতে জুমআ ও ঈদের নামায শুদ্ধ হবে না।
২. জামাত হতে হবে।
৩. সময় হতে হবে।
৪. সকলের জন্য আম অনুমতি থাকতে হবে।
৫. জুমার নামাযের খুৎবা ওয়াজিব, আর ঈদের নামাযের খুৎবা সুন্নত
[দ্রষ্টব্য-হেদায়া-১/১১৪-১১৬, শরহে নুকায়া-১/১২৩-১২৫, কাবীরী-৫৪-৫৫১]
গ্রাম বলতে এমন এলাকাকে বুঝায়, যেখানে রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিনিধি, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাব সহজলভ্য নয়। এমন সুবিধাবঞ্চিত এলাকাকে মূলত গ্রাম বলা হয়। তাই খাগড়াছড়ি, বান্দরবনের গহীন জঙ্গলে বসবাসকারীগণ গ্রামের বাসিন্দা। তাদের উপর জুমআ ও ঈদের নামায আবশ্যক নয়।
সুতরাং আমাদের বাংলাদেশের প্রচলিত গ্রাম যেখানে রাষ্ট্র প্রতিনিধিসহ আবশ্যকীয় সুবিধা বিদ্যমান, সেটাকে গ্রাম বলা যাবে না। বরং তা উপশহরের স্থলাভিষিক্ত হবে।
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «لَا جُمُعَةَ وَلَا تَشْرِيقَ إِلَّا فِي مِصْرٍ جَامِعٍ»
হযরত আলী রাদিদ্বয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, শহর ছাড়া জুমআ ও ঈদের নামায নেই। [মুসনাদে ইবনুল জা’দ, হাদীস নং-২৯৯০, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১১৫৪, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৫১৭৫, মারিফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হাদীস নং-৬৩৩০, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৬১৫, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫০৬৪]

ঈদের নামায আদায় পদ্ধতি
ঈদের নামায দু রাকাত, যাতে আযান ইকামত নেই। ঈদের নামাযের কিরাত প্রকাশ্যে পড়তে হয়।
১। ইমামের পেছনে কেবলামুখি হয়ে ঈদুল ফিতরের দু’রাকাত ওয়াজিব নামায ৬ তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি- এরূপ নিয়ত করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত তুলে তাহরিমা বাঁধবেন। তারপর সানা (সুবহানাকাল্লাহুম্মা…) পুরোটা পড়বে।
২। তারপর অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলবেন। প্রথম দুই তাকবিরে হাত তুলে ছেড়ে দেবেন এবং তৃতীয় তাকবিরে হাত বেঁধে ফেলবেন।
৩। তারপর আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ার পর ইমাম সুরা ফাতিহা পড়ে এর সঙ্গে অন্য একটি সুরা মেলাবেন।
৪। তারপর স্বাভাবিক নামাযের মতোই রুকু-সিজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।
৫। দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম কিরাত পড়া শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির দেবেন। প্রতি তাকবিরের সঙ্গে হাত উঠাবেন এবং ছেড়ে দেবেন। তারপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবেন।
৬। তারপর স্বাভাবিক নামাযের মতোই নামায শেষ করবেন।
৭। নামায শেষে ইমাম মিম্বারে উঠবেন। দুটি খুতবা দেবেন। এ সময় ইমামের খুতবা মনোযোগসহকারে শুনতে হবে। কোনো ধরনের কথা বলা বা অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া যাবে না।

ঈদের নামায ও প্রাসঙ্গিক মাসআলা 

ঈদের নামায স্বাভাবিক অবস্থায় মাঠে পড়ারই বিধান। ঈদের জামাত মাঠে আদায় করা সুন্নত। ওযর ছাড়া মাঠ বর্জন করা সুন্নাতের খেলাফ। তবে কোন ওযরের কারণে মসজিদে আদায় করতে কোন সমস্যা নেই।
যেহেতু সরকারী নির্দেশনা মোতাবিক মাঠে ঈদ আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই এলাকার মসজিদগুলোতে ঈদের নামায আদায় করবেন।
এছাড়া কোন খোলা স্থানে সকলকে জানিয়ে তথা সকলের প্রবেশাধিকার উম্মুক্ত রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত করলেও তা আদায় হয়ে যাবে। যদি ঈদের নামায শুদ্ধ হবার যাবতীয় শর্তের দিকে খেয়াল রাখা হয়। কারণ, একই শহরে একাধিক স্থানে ঈদের জামাত পড়া জায়েয আছে।
عن أبى سعيد الخدرى رضى الله عنه قال: كان النبى صلى الله عليه وسلم: يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المصلى (صحيح البخارى، كتاب العيدين، باب الخروج إلى المصلى بغير منبر-1\131، رقم-946، ف: 956)
والخروج إليها أى الجبانة لصلاة العيد سنة، وإن وسعهم المسجد الجامع، وهو الصحيح الخ (الدر المختار، كتاب الصلاة، باب صلاة العيدين، مطلب يطلق المستحب على السنة وبالعكس-3\49، تاتارخانية-2\611، رقم-3423)
وكذا فى حاشية الطحطاوى على الدر المختار-1\352، المعجم الأوسط-3\116، رقم-4040، البحر الرائق-2\278، الفتاوى الهندية-1\150، جديد-1\211)
ওজরের কারণে এক মসজিদে একাধিক ঈদের জামাত শুদ্ধ হবে।
ولو قدر بعد الفوات مع الإمام على إدراكها مع غيره فعل للاتفاق على جواز تعددها (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-535)
মিম্বরে খুতবা প্রদান করা সুন্নত। সুতরাং মিম্বর ছাড়া খুতবা দেয়া সুন্নাতের খেলাফ। তবে মিম্বর ছাড়া খুতবা দিলেও জুমআ ও ঈদের নামায আদায় হয়ে যাবে।
ومن السنة أن يكون الخطيب على منبر اقتداء برسول الله صلى الله عليه وسلم (البحر الرائق، كتاب الصلاة، باب الجمعة-2\259
ঈদের নামায ও প্রাসঙ্গিক  মাসআলা 

ঈদের নামায না পড়তে পারলে কিংবা নামায নষ্ট হয়ে গেলে তার কাযা করতে হবে না, যেহেতু ঈদের নামাযের জন্য জামাত শর্ত। তবে বেশকিছু লোকের ঈদের নামায ছুটে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তারা অন্য একজনকে ইমাম বানিয়ে নামায পড়তে পারবেন।
মাসয়ালা:
১ শাওয়ালের দ্বিপ্রহরের পূর্বে শরিয়তসম্মত কোনো কারণে ঈদের নামায না পড়তে পারলে শাওয়ালের ২ তারিখে পড়ার অনুমতি আছে। এরপর পড়া যাবে না। আর ঈদুল আদ্বহার নামায ১১ ও ১২ তারিখেও পড়ার অনুমতি আছে।

ঈদের দিনে পালনীয় কিছু সুন্নত

১. অন্যদিনের তুলনায় একটু আগেভাগে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। [বায়হাকী, হাদীস নং-৬১২৬]
২. মিসওয়াক করা। [তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/৫৩৮]
৩. গোসল করা। [ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩১৫]
৪. শরীয়তসম্মত সাজসজ্জা করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৪৮]
৫. সামর্থ অনুপাতে উত্তম পোশাক পরিধান করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৪৮, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং -৭৫৬০]
৬. সুগন্ধি ব্যবহার করা। [মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-৭৫৬০]
৭. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার আগে মিষ্টি জাতীয় যেমন খেজুর ইত্যাদি খাওয়া। তবে ঈদুল আযহাতে কিছু না খেয়ে ঈদের নামাযের পর খাওয়া, সম্ভব হলে কৃত কুরবানীর গোশত আহার করা উত্তম। [বুখারী, হাদীস নং-৯৫৩, তিরমিজী, হাদীস নং-৫৪২, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৬০৩]
৮. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া। [আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৫৭]
৯. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকায়ে ফিতর আদায় করা। [দারাকুতনী, হাদীস নং-১৬৯৪]
১০. ঈদের নামায ঈদগাহে আদায় করা, বিনা অপরাগতায় মসজিদে আদায় না করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৫৬, আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৫৮]
১১. যে রাস্তায় ঈদগাহে যাবে, সম্ভব হলে ফিরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৮৬]
১২. সম্ভব হলেপায়ে হেঁটে যাওয়া। [আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৪৩]
১৩. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার সময় নীচুস্বরে এই তাকবীর পড়তে থাকাঃ
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
তবে ঈদুল আযহায় যাবার সময় পথে এ তাকবীর আওয়াজ করে পড়তে থাকবে। [মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-১১০৫]

ঈদের নামাযের পূর্বে মহিলা হোক কিংবা পুরুষ, বাড়িতে কিংবা মসজিদে অথবা ঈদগাহে কোনও ধরণের নফল নামায পড়া মাকরূহ।

ঈদুল ফিতরের তাকবীর
—————-
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর। আল্লাহু আকবর। ওয়া লিল্লাহিল হামদ্‌।
অর্থঃ আল্লাহ্‌ মহান, আল্লাহ্‌ মহান, আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই, আল্লাহ্‌ মহান। আল্লাহ্‌ মহান। সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।
ঈদুল ফিতরের নামাযের নিয়ত:
———————-
নাওয়াইতু আন্‌ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতি ঈদিল্‌ ফিত্‌রি মা’আ সিত্তে তাক্‌বীরাতি ওয়াজিবান লিল্লাহি তা’য়ালা ইক্‌তাদাইতু বিহাযাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবর।
অর্থ: আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহ্‌র (সন্তুষ্টির) জন্য অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সথে ঈদুল ফিতরের দুই রাকআত ওয়াজিব নামায এই ইমামের পিছনে আদায়ের নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবর।
ঈদের খুতবার আহকাম :
—————————-
নামাযের পর ইমাম সাহেব খুতবা পড়বেন। জুমার খুতবা দেওয়ার পূর্বে ইমামের মিম্বরে বসা সূন্নাত আর ঈদের নামাজে খুতবার আগে না বসা সূন্নাত। ঈদের প্রথম খুতবার পূর্বে নয় বার আর দ্বিতীয় খুতবার পূর্বে সাতবার এবং মিম্বর থেকে নামার পূর্বে চৌদ্দবার আল্লাহু আকবার বলা সূন্নত।
মাসয়ালা:
———-
কেউ ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতে পেলে সালামের পর যখন ওই ব্যক্তি ছুটে যাওয়া রাকাতের (প্রথম রাকাত) জন্য দাঁড়াবে তখন প্রথমে সানা (সুবহানাকাল্লাহুম্মা), তারপর আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পড়ে ফাতেহা ও কেরাতের পর রুকুর পূর্বে তাকবির বলবে। ফাতেহার আগে নয়।
মাসয়ালা:
———–
ইমাম তাকবির ভুলে গেলে রুকুতে গিয়ে বলবে, রুকু ছেড়ে দাঁড়াবে না। তবে রুকু ছেড়ে দাঁড়িয়ে তাকবির বলে আবার রুকুতে গেলেও নামায নষ্ট হবে না। বেশি লোক হওয়ার কারণে সহু সিজদাও দিতে হবে না।
মাসয়ালা:
———-
কোনো লোক যদি ইমাম সাহেবকে তাকবির শেষ হওয়ার পরে পায় সে তাকবিরে তাহরিমা বেঁধে প্রথমে ওয়াজিব তিন তাকবির বলে নিবে। আর রুকুতে পেলে যদি দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, তাকবির বলেও ইমাম সাহেবকে রুকুতে পাবে তাহলে তাহরিমা বেঁধে দাঁড়িয়ে তাকবির বলে নেবে, তারপর রুকুতে যাবে। আর দাঁড়িয়ে তাকবির পড়তে গেলে ইমাম সাহেবকে রুকুতে না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাহরিমা বেঁধে রুকুতে চলে যাবে এবং রুকুর তাসবিহ না বলে প্রথমে তাকবির বলে নেবে, রুকুতে তাকবির বলার সময় হাত উঠাবে না এবং সময় পেলে রুকুর তাসবিহ পড়বে, না পেলে পড়বে না। আর তাকবির শেষ করার পূর্বেই যদি ইমাম রুকু থেকে মাথা তুলে ফেলেন তাহলে মুক্তাদিও তুলে ফেলবে। তাকবির বাকি থাকলে তা ক্ষমাযোগ্য।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। প্রতিবছর এ ময়দানে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কালের স্রোতে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানটি পরিণত হয়ে উঠেছে একটি ঐতিহাসিক স্থানে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এ ময়দানের বিশাল জামাত গৌরবান্বিত ও ঐতিহ্যবাহী করেছে কিশোরগঞ্জকে। বর্তমানে এখানে একসঙ্গে তিন লক্ষাধিক মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শুরুর আগে শর্টগানের ফাঁকা গুলির শব্দে সবাইকে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সঙ্কেত দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বে নরসুন্দা নদীর তীরে এর অবস্থান।

খুৎবা

ঈদের নামাজে ইমাম কর্তৃক খুৎবা পড়া সুন্নত এবং মুসুল্লিদের খুৎবা শোনা ওয়াজিব। জুমার নামাজের ন্যায় প্রথমে বিষয় ভিত্তিক খুৎবা এবং পরে সানি খুৎবা পাঠ করতে হয়। খুৎবার মাধ্যমে ঈদের নামাজের সমাপ্তি হয়। সাধারণতঃ খুৎবার পরে দুয়া করা হয়।

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *