আযান এর বিধি বিধান

আযান শব্দের মূল অর্থ দাড়ায় أَذِنَ শোন; যার মূল উদ্দেশ্য হল অবগত করানো। এই শব্দের আরেকটি বুৎপত্তিগত অর্থ হল ʾআজুন। (أُذُن), যার অর্থ হল “শোনা”। সালাতের আর কল্যাণের জন্য  উচ্চ আওয়াজে আহবান করাকে আযান বলে।

আযানের প্রচলন

নামাজের জন্য মানুষকে আহ্বান করার একমাত্র মাধ্যম হলো আজান। জামাআতে নামাজ পড়ার জন্য আজান দেয়া সুন্নাত। কেউ কেউ একে ওয়াজিব বা আবশ্যক বলেছেন। আজান ওহী না হলেও কতিপয় সাহাবায়েকেরামের স্বপ্নেপ্রাপ্ত বাক্য। যাই হোক নামাজের জন্য আজান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজানই মানুষকে দ্রুত নামাজের জন্য তৈরি হতে উদ্বুদ্ধ করে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে পবিত্র নগরী মক্কায় আজান ছাড়াই নামাজ পড়া হতো। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় হিজরত করে মসজিদ নির্মাণ করলেন তখন মুসলমানদের নামাজে অংশগ্রহণের জন্য একত্রিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট সংকেত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন এবং সাহাবাদের কাছে পরামর্শ চাইলেন।

সাহাবাদের পরামর্শসাহাবায়েকেরাম নামাজে অংশগ্রহণ একত্রিত হওয়ার জন্য সংকেত ঠিক করতে পরামর্শ সভায় বসলেন। পরামর্শ সভায় ৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন হয় যথা:

  • ঝাণ্ডা উড়ানো;
  • আগুন প্রজ্জ্বলন;
  • শিঙ্গা বাজানো;
  • ঢোল বাজানো।

পরমার্শ সভার ৪টি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করা হয়। কারণ ঝাণ্ডা উড়ালে সব মানুষ তা বাড়ি বা দূর থেকে দেখতে পাবে না। দ্বিতীয়ত আগুন প্রজ্বলন অগ্নি উপাসকদের কাজ। তৃতীয়ত শিঙ্গা বাজানো খ্রিস্টানদের কাজ আর চতুর্থত ঢোল বাজানো ইয়াহুদিদের কাজ। এ কারণে সেদিন সমাধান ছাড়াই পরামর্শ সভার মূলতবি করা হয়।

সাহাবায়েকেরামগণ এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে করতেই যার যার বাড়ি চলে গেলেন। ঐ রাতে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ স্বপ্নে দেখেন যে ‘এক ব্যক্তি শিঙ্গা নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ঐ ব্যক্তিকে শিঙ্গাটি বিক্রি করতে বললে। শিঙ্গাটি কেনার কারণ জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ বললেন, ‘আমি শিঙ্গাটি দিয়ে মানুষকে নামাজে আসার জন্য আহ্বান করব।’তখন শিঙ্গার মালিক ব্যক্তি বলল, ‘আমি কি এটি হতে উত্তম একটি জিনিসের সংবাদ দিব না?’-এ বলে তিনি আজানের বাক্যগুলো তাঁকে শিখিয়ে দিলেন।

সকালে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হয়ে স্বপ্নের কথাগুলো জানালেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমার স্বপ্ন সত্য। তুমি বেলালকে আজানের বাক্যগুলো শিখিয়ে দাও। আজ থেকে বেলাল আজান দেবে।’ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদের শেখানো বাক্যগুলো দিয়ে হজরত বেলাল আজান দিলে, তা শুনে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয় নবির দরবারে দৌড়ে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অবশ্যই আমি অবিকল এ বাক্যগুলোই স্বপ্নে দেখেছি।’ – উল্লেখ্য যে, ঐ রাতে একই স্বপ্ন সাহাবিদের মধ্য থেকে ১৪ জনই দেখেন যার মাধ্যমে নিয়মিত হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাজের জন্য আজান দিতেন।

ফজরের আজানের বাড়তি বাক্য ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ সম্পর্কে জানা যায় যে একদিন ফজরের সময় হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু আজান দিতে আসলেন, তখন তাকে বলা হলো, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমে আছেন। তখন হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেন-‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম। অর্থাৎ ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম।’ হজরত সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব বলেছেন, ‘পরে ফজরের আজানের সঙ্গে এ বাক্যটি শমিল করে দেয়া হয়।’

আর এভাবেই সর্বপ্রথম আজানের প্রচলন হয়। আজানের আওয়াজ শুনার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানরা মসজিদে জামাআতে নামাজ আদায়ে একত্রিত হয়। জামাআতে নামাজ আদায়ের জন্য আজান দেয়া সুন্নাত। আবার কেউ কেউ একে ওয়াজিব বলেছেন। তবে আজান দেয়া সুন্নাত বা ওয়াজিব যা-ই হোক না কেন, আজান ইসলামের প্রতীক। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি কারও বিপরীতে অভিযান পরিচালনা করতেন; ঐ সময় তাদের মধ্য থেকে যদি আজানের ধ্বনি আসত তবে তিনি তাদের সঙ্গে অভিযান বন্ধ করে দিতেন এবং বলতেন, ‘তারা মুসলিম।’

আযানের সময়

প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে হয়ে থাকে। আর আযান তখনই দেওয়া হয় যখন নামাযের সময় হয়। নীচে আযানের সময় দেওয়া হল:

হযরত বেলালের আযান

হযরত বেলাল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম আযান প্রদান করেন। তার আযানের ধ্বনি শুনে মদীনাবাসী একত্র হয়ে মসজিদ-এ-নববীতে আসেন সালাত (নামায) আদায় করার জন্য। তিনিই প্রথম হেরাম শরীফ-এর উপরে উঠে মক্কাবাসীকে আযান শোনান। আযানের প্রচলন প্রসঙ্গে আবু উমাইর বিন আনাস তার কোন আনসারী চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন : “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের বিষয় নিয়ে খুব চিন্তা করলেন, এ জন্য তিনি কীভাবে মানুষদের জমায়েত করবেন? তাকে বলা হলো : যখন সালাতের সময় হবে একটি পতাকা উত্তোলন করবেন, এ পতাকা দেখে একে অপরকে আহবান করবে। এ উত্তরে তিনি সন্তুষ্ট হলেন না। অতঃপর তার কাছে শিঙ্গা বাজানোর কথা বলা হলো। পূর্বের উল্লিখিত বোখারির বর্ণনায় যেরূপ রয়েছে। জিয়াদ বললেন : ইহুদিদের শিঙ্গা বাজানোর প্রস্তাবেও তিনি সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি বললেন, ‘এটা ইহুদীদের কর্ম।’ অতঃপর তাকে ঘণ্টার কথা বলা হলো। তিনি বললেন, ‘এটা নাসারাদের কর্ম।’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ চিন্তায় গভীরভাবে চিন্তিত হয়ে আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ বিন আবদে রাব্বিহি বাড়ি ফিরলেন, তাকে স্বপ্নে আযান দেখানো হলো। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গমন করলেন এবং তাকে আযান বিষয়ে স্বপ্ন সম্পর্কে সংবাদ দিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন : হে আল্লাহর রাসূল, অর্ধ ঘুম ও নিদ্রাবস্থায় ছিলাম, আমার কাছে এক আগমনকারী আসল অতঃপর আমাকে আযান দেখালো। তিনি বলেন : ওমরও তার পূর্বে এ স্বপ্ন দেখেছে, তিনি তা বিশ দিন গোপন রাখেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানান। তিনি বললেন : “তুমি আমাকে কেন সংবাদ দাওনি ?” বললেন : আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আমার আগে বলে ফেলেছে, তাই আমার বলতে লজ্জা বোধ হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : “হে বেলাল, দাঁড়াও, দেখ আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ কি বলে, তুমি তার অনুসরণ কর।” তিনি বললেন : অতঃপর বেলাল আযান দিল।

আযানের কথা বা বাক্যসমূহ

কাজাকিস্তানের মাতেই মসজিদে আযানের দৃশ্য .

আযানের বাণী সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

আবৃত্তি আরবি প্রতিবর্ণীকরণ অনুবাদ
২ বার* الله اكبر আল্লাহু আকবার আল্লাহ সর্বশক্তিমান
২ বার اشهد ان لا اله الا الله আশহাদু-আল লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই
২ বার اشهد ان محمد الرسول الله আশহাদু-আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (স) আল্লাহর প্রেরিত দূত
২ বার حي على الصلاة হাইয়া আলাস সালা নামাজের জন্য এসো
২ বার حي على الفلاح হাইয়া আলাল ফালা সাফল্যের জন্য এসো
২ বার الصلاة خير من النوم আস সলাতু খাইরুম মিনান নাউম ঘুম হতে নামাজ উত্তম** (কেবল ফযর নামাাজের পূর্বে উচ্চারণীয়)
২ বার الله اكبر আল্লাহু আকবার আল্লাহ্ মহান
১ বার** لا اله الا الله লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই

শিয়া সম্প্রদায়ের আযান[

শিয়া সম্প্রদায় আযানে এক পর্যায়ে তারতম্য করে থাকে। তারা حي على الفلاح (হাইয়া আলাল ফালা) এর পর যোগ করে حي على خير العمل (হাইয়া আলা খাইরিল য়ামাল)। এটি দুই বার উচ্চারণ করা হয়।

ফযরের নামাজের আযান[

ফযরের নামাজের আযানে একটু পরিবর্ধন আছে। আর তা হলো এই যে আযানের শেষভাগে “হাইয়া আলাল ফালাহ” দুই বার বলার পরে “আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম” বাক্যটি দুই বার বলতে হবে। এর পর যথারীতি “আল্লাহু আকবার”, “আল্লাহু আকবার”, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলে আযান শেষ করা হয়।

জুমার নামাজের আযান[

জুমার নামাজের আযান দুইবার দিতে হয়। প্রথমত নামাযের ওয়াক্ত হলে মুয়াযযিন প্রথমবার আযান দেবেন। আবার মূল খুৎবা শুরুর আগে, ইমাম তথা খতিব মিম্বরে আসীন হলে ঠিক তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ‌‌‌মুয়াযযিন দ্বিতীয়বার আযান দিবেন, একে বলা হয় সানী আযান। খুৎবা শেষে নামাজ শুরুর প্রাক্কালে ‌‌‌মুয়াযযিন যথারীতি ইকামত দিবেন।

ইকামাত

ইকামাত আযানের অরনুরূপ একটি রীতি। জামাতে নামাজ শুরুর প্রাক্কালে, যখন ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করার জন্য মুসুল্লিরা সমবেত, তখন মুয়াযযিন ইকামত উচ্চারণ করেন। অত:পর ইমাম “আল্লাহু আকবার” বলে নামায শুরু করেন।

মুয়াযযিন কর্তৃক আযানের রীতি

নামাযের সময় হওয়ার পরই কেবল মুয়াযযিন আযান প্রদান করবেন। ফরয নামাজের পূর্বে মুয়াযযিন অযু করে পবিত্রতা অর্জ্জন করবেন। অত:পর তিনি কিছু উঁচু স্থানে যেমন মাসজিদের মিনারে বা ছাদে উঠে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াবেন এবং মনে মনে আযানের নিয়ত করবেন । অত:পর বিসমিল্লাহ বলে, কানের লতি বরাবর হাত উঠিয়ে উচ্চস্বরে আযান শুরু করবেন। “হাইয়া আলাস সালা” বলার সময় তিনি ডানে এবং “হাইয়া আলাল ফালা” বলার সময় বামে মুখ ফেরাবেন। আযানের বাক্যগুলি ধীরে এবং স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হবে।

আযান প্রদান শেষে তিনি নিম্নস্বরে বা চুপে চুপে আযানের দু’য়া পাঠ করবেন। লাউড স্পিকার বা মাইকের প্রচলন শুরু হওয়ায় মুয়াযিন মাসজিদের অভ্যন্তরে সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে আযান প্রদান করে থাকেন। আযান প্রদানের সময় মুয়াযযিন দুটি বাকের মধ্যে বিরতে করবেন কিন্ত অস্বাভাবিক বিলম্ব করবেন না। বাক্য উচ্চারণে ওলট-পালট হলে তা সঠিক ধারায় পুনরায় উচ্চারণ করতে হবে।

আযানের দোয়া[

মুয়াযযিন যখন আযানের এক-একটি বাক্য বলা শেষ করবেন তখন শ্রোতা তার উত্তরে একই বাক্য পাঠ করবেন। আযানের দু’য়া নিম্নস্বরে বা চুপে চুপে পাঠ করতে হয়। আযান মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়। এ সময় কোনো কাজ করা বা কথা বলাও নিষেধ। এমনকি এসময় এমনকী কুরআন শরীফ পাঠ করা স্থগিত রাখতে হয়। আযান শেষে দোয়া করতে হয়। আযানের দোয়া হলো:

আরবিঃ اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدَاً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحْمُودَاً الَّذِي وَعَدْتَهُ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা রাব্বাহাযিহিদ দাওয়াতিত্তাম্মাহ ওয়া সালাতি ক্বায়িমা, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা অয়াল ফাদিলা ওয়াদ্দারাজাতার রাফিয়াহ, ওয়াব আসহু মাক্কামাম্মাহমুদানিল্লাযি ওয়া আত্তাহ, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিয়াদ।

(হাদীস শরীফ)

আজান শব্দের অর্থ হচ্ছে ডাকা, আহবান করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় জামাআতের সহিত নামাজ আদায় করার লক্ষ্যে মানুষকে মসজিদে একত্রিত করার জন্য আরবি নির্দিষ্ট শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে উচ্চকণ্ঠে ডাক দেয়া বা ঘোষণা করাকেই আজান বলা হয়। আর ইক্বামাত শব্দের অর্থ হচ্ছে দাঁড় করানো, প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ জামাআতে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে নামাজের পূর্ব মূহুর্তে আজানের শব্দ বা বাক্য দ্বারা নামাজ আরম্ভ হওয়ার ঘোষণাকেই ইক্বামাত বলা হয়। যাতে আজানের চেয়ে একটি বাক্য অতিরিক্ত রয়েছে। তা হলো- قد قامت الصَّلوة (ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ)। মৌখিকভাবে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে শ্রবণকারীদের জন্য আজানের উত্তর দেয়া সুন্নাত। আজান ও ইক্বামাতের উত্তর সমূহ তুলে ধরা হলো-

মুয়াজ্জিন- اَللهُ اَكْبَرْ (আল্লাহু আকবার) ৪ বার
শ্রবণকারী- اَللهُ اَكْبَرْ (আল্লাহু আকবার) ৪ বার
মুয়াজ্জিন- اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا الله (আশহাদু আল লাইলাহা ইল্লাল্লাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا الله (আশহাদু আললা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ২ বার
মুয়াজ্জিন- اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ) ২ বার
মুয়াজ্জিন- حَيَّ عَلَي الصَّلوةِ (হাইয়্যা আলাস সালাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ (লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ) ২ বার
মুয়াজ্জিন- حَيَّ عَلَي الفَلَاحِ (হাইয়্যা আলাল ফালাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ (লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ) ২ বার
[ফজরের আজানের সময়
মুয়াজ্জিন- اَلصّلَوةُ خَيْرٌمِّنَ النَّوْمِ (আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম) ২ বার
শ্রবণকারী- صَدَقْتَ وَ بَرَرْتَ (সাদাক্বতা ও বারারতা) ২ বার
ইক্বামাতের সময়
মুয়াজ্জিন- قَدْ قَامَتِ الصَّلَوة (ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- اَقَامَهَا اللهُ وَاَدَّمَهَا مَا دَامَتِ السَّمَوَتُ وَ الْاَرْضُ (আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদ্দামাহা মা দামাতিস সামাওয়াতু ওয়াল আরদু) ২ বার]
মুয়াজ্জিন- اَللهُ اَكْبَرْ আল্লাহু আকবার (২ বার)
শ্রবণকারী- اَللهُ اَكْبَرْ আল্লাহু আকবার (২ বার)
মুয়াজ্জিন- لَا اِلَهَ اِلَّا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ১ বার
শ্রবণকারী- لَا اِلَهَ اِلَّا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ১ বার

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আজানের জবাবে অনুরূপ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম শরীফ)

সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আজান ও ইক্বামাতে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  দোয়া হলো ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি আল্লাহ ব্যতীত এমন কারো ইবাদত করো না, যে তোমার ভালো-মন্দ কিছুই করতে পারে না।’ (সুরা ইউনুস : আয়াত ১০৬)

মানুষের প্রয়োজন পূরণে আল্লাহ তাআলার সমীপে দোয়া করতে হবে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর কাছে চাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। (সুরা মুমিন : আয়াত ৬০)

আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করার কিছু সময় ও স্থান রয়েছে। যে সময় ও স্থানে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সব চাওয়া পাওয়া কবুল করেন।

আজান ও ইক্বামতের মাঝে দোয়া, আজান চলাকালীন সময়ে এবং আজানের পর দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সে দোয়া ফিরিয়ে দেন না। এ সময় দোয়া কবুলের বিষয়টি অনেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান এবং ইক্বামতের মাঝের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, মিশকাত)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজ্জিনের মর্যাদা যে আমাদের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমিও তাই বল, মুয়াজ্জিন যা বলে। তারপর আজান শেষ হলে (আল্লাহর কাছে) চাও, যা চাইবে (তাই) প্রদান করা হবে। (আবু দাউদ, মিশকাত)

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে আজানের শব্দগুলো যে বলবে, সে জান্নাতে যাবে। (মুসলিম, আবু দাউদ, মিশকাত)

অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি আজান শুনে বলবে

উচ্চারণ
আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারিকা লাহু। ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আ’বদুহু ওয়া রাসুলুহ; রাদিতুবিল্লা-হি রাব্বাওঁ ওয়া ওয়া বিমুহাম্মাদির রাসুলাওঁ ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনা।

অর্থ
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত (ইবাদতের উপযুক্ত) কোনো উপাস্য নেই এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি আল্লাহকে রব হিসাবে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে রাসুল হিসাবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মেনে নিয়েছি।’

তাহলে তার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে। (মুসলিম আবু দাউদ, মিশকাত)

পরিশেষে…
দোয়া হলো আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠ ইবাদত। কারণ দোয়া প্রার্থনার সময় বান্দা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি ছোট হয়ে কাকুতি-মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ছোট হয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো চায়। যেখানে সাধারণ শিরকের কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

আর আজান ও ইক্বামতের সময় দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ সময় দোয়া করার ফজিলতও অনেক বেশি। তাই মানুষের প্রার্থনা কবুলে আজান ও ইক্বামতের সময়ের দোয়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আমল করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রয়োজন পূরণে ক্ষমা লাভে আজান ও ইক্বামতের সময়ে প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শিশুর কানে আজান দেবে কে?

১. হজরত হাসানের কানে নবীজির আজান :
শিশু জন্মের পর কানে আজান দেওয়া সুন্নত। তিরমিজি শরিফে হজরত আবু রাফে সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলকে (সা) দেখেছি, হজরত ফাতিমার গর্ভে হাসানের (রা) জন্ম হলে রাসুল (সা) নামাজের আজানের মতো হাসানের কানে আজান দিয়েছেন। হজরত হাসান ইবনে আলী সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা) বলেছেন, নবজাতক জন্ম নিলে ডানকানে আজান ও বামকানে ইকামত দেবে। ফলে মাতৃকা রোগ শিশুকে আক্রান্ত করতে পারবে না। বায়হাকি শরিফ

খ.শিশুর হৃদয় পবিত্র করবে :
জন্মের পর আল্লাহর পবিত্র নাম শিশুর হৃদয় পবিত্র করবে। বিশ্বাসের ডানা প্রসারিত হবে। শয়তানের প্ররোচণা থেকে নিরাপদ থাকবে। শয়তান শিশুর মন-মেজাজ পরিবর্তনের আগেই আল্লাহ নামে সে শান্ত হয়ে যায়। তরবিয়াতে আওলাদ ফিল ইসলাম।

আজান দেবে কে? :
ছেলে বা মেয়ে জন্মের পর ডানকানে আজান ও বামকানে ইকামত দিতে হবে। মৃদু ও সহনীয় আওয়াজে আজান ও ইকামত দেওয়া উত্তম। আজানের জন্য মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিন ডেকে আনতে হবে না, যে কেউ দিতে পারবে। এমনকি মহিলারাও। মহিলা নাপাক থাকলেও সমস্যা নেই। এমনকি প্রসূতি নিজেও দিতে পারবে। ছেলে হলে আজান দেওয়া আর মেয়ে হলে ইকামত দেওয়ার প্রচলন ভুল। আবার আজান শিশুর কানে না দিয়ে ঘরের বাইরে দেওয়া হয়, এটাও ভুল প্রথা।

মুয়াজ্জিন ফজরের আযান দিচ্ছিলেন সে সময় যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত ছিলেন

প্রশ্ন :
রমজান মাসে ফজরের আযানের আগ থেকে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করছিলাম। আযান চলাকালীন সময়েও আমি সহবাসরত ছিলাম। তবে আযান শেষ হওয়ার আগেই আমরা বিরত হয়েছি। আমার ধারণা ছিল যে, মুয়াজ্জিনের আযান শেষ করার পূর্ব পর্যন্ত সহবাস করা জায়েয। এখন আমার করণীয় কি?

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ।

এক:
যদি ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথে মুয়াজ্জিন আযান দেন, তাহলে ওয়াজিব হল ফজরের ওয়াক্ত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (মুফাত্তিরাত) থেকে বিরত থাকা। তাই মুয়াজ্জিন ‘আল্লাহু আক্‌বার’(আল্লাহ মহান) বলার সাথে সাথে খাদ্য, পানীয়, সহবাস ও সকল রোযা ভঙ্গকারী বিষয় (মুফাত্তিরাত) থেকে বিরত থাকা আবশ্যক হয়ে যায়।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন :

“যদি ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার সময় কারও মুখে খাবার থাকে, তবে সে যেন তা ফেলে দেয়।(খাবার) ফেলে দিলে – তার রোযা শুদ্ধ হবে, আর গিলে ফেললে – তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার সময় সে সহবাসরত অবস্থায় থাকে, তবে সে অবস্থা থেকে তাৎক্ষণিক সরে গেলে – তার রোযা শুদ্ধ হবে। আর যদি ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার সময় সে সহবাসরত অবস্থায় থাকে এবং ফজরের ওয়াক্ত হয়েছে জেনেও সহবাসে লিপ্ত থাকে, তবে তার রোযা ভঙ্গ হবে- এ ব্যাপারে ‘আলেমগণের মাঝে কোন দ্বিমত নেই। আর সে অনুসারে তার উপর কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে।”সমাপ্ত।[আল-মাজ্‌মু‘(৬ /৩২৯) ]

তিনি আরও বলেন:“আমরা উল্লেখ করেছি যে, ফজর উদিত হওয়ার সময় যদি কারো মুখে খাবার থাকে, তবে সে তা ফেলে দিবে ও তার রোযা সম্পন্ন করবে। আর যদি ফজর হয়েছে জেনেও সে তা গিলে ফেলে, তবে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই”।আল-মাজ্‌মু‘ (৬/৩৩৩)এর দলীল হচ্ছে ইবনে উমর ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম এর হাদিস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামবলেছেন:

( إنبلالايؤذنبليل , فكلواواشربواحتىيؤذنابنأممكتوم )رواهالبخاريومسلم , وفيالصحيحأحاديثبمعناه

“বিলাল (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) রাত থাকতে আযান দেন।তাই আপনারা খেতে থাকুন ও পান করতে থাকুন যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতূম (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) আযান দেন।”[হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিমসংকলনকরেছেন এবং সহীহ গ্রন্থে এই অর্থের আরও হাদিস রয়েছে] সমাপ্ত

এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, যদি আপনার এলাকার মুয়াজ্জিন ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পর আযান দেয়, তাহলে আযানের প্রথম তাকবীর শোনার সাথে সাথে আপনাকে সহবাস থেকে বিরত হয়ে যেতে হবে। আর যদি আপনি জেনে থাকেন যে, মুয়াজ্জিন ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগেই আযান দেয়অথবা এব্যাপারে আপনি সন্দিহান থাকেন যে, তিনি কি সুবহে সাদিক হওয়ার আগে আযান দেন, নাকি পরে আযান দেন- সেক্ষেত্রে আপনার উপর করণীয় কিছু নেই। কারণ আল্লাহ তা’আলা ফজর পরিস্ফুট হওয়া পর্যন্ত খাওয়া, পান করা ও সহবাস করা বৈধ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(فَالْآَنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ)

“অতএব এখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথেসহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা (সন্তান) লিখে রেখেছেন তা কামনা করতে পার। আর তোমরাপানাহার কর যতক্ষণ কালোসুতা (রাতের কালো রেখা) হতে ঊষার সাদা সুতা (সাদা রেখা) স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়।” [সূরা বাকারাহ, ২ : ১৮৭]

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ‘আলেমগণকে প্রশ্ন করা হয়েছিল:“কোন ব্যক্তি আগেই সেহেরী খেয়েছে। কিন্তু ফজরের আযান চলাকালীন সময়ে অথবা আযান দেওয়ার ১৫ মিনিট পর পানি পান করেছে-এর হুকুম কী?

তাঁরা উত্তরে বলেন: “প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিযদি জেনে থাকেন যে, সেই আযান সুবহে সাদিকপরিষ্কার হওয়ার আগে দেওয়া হয়েছিল তবে তার উপর কোন কাযা নেই।আর যদি তিনি জেনে থাকেন যে, সে আযানসুবহে সাদিকপরিষ্কার হওয়ার পরে দেওয়া হয়েছে তবে তার উপর উক্ত রোযা কাযা করা আবশ্যক।আর তিনি যদি না জানেন যে, তার পানাহার ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগে ঘটেছে, না পরে ঘটেছে সেক্ষেত্রেতাকে কোন রোযা কাযা করতে হবে না।কারণ এ ক্ষেত্রে মূল অবস্থা হচ্ছে- রাত বাকি থাকা। তবে একজন মু’মিনের উচিত তার সিয়ামের ব্যাপারে সাবধান থাকা এবং আযান শোনার সাথে সাথে রোযা ভঙ্গকারী সমস্ত বিষয় থেকে বিরত থাকা। তবে তিনি যদি জেনে থাকেন যে, এই আযান ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগে দেওয়া হয়েছে তাহলে ভিন্ন কথা।”সমাপ্ত

[ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ : (২/২৪০) ]

দুই:
যদি আপনি এই হুকুমের ব্যাপারে না জেনে থাকেন এবং মনে করে থাকেন যে, আযানের শেষ পর্যায়েরোযা ভঙ্গকারী বিষয়াদি (মুফাত্তিরাত) থেকে বিরত হওয়াঅনিবার্য হয়, তবে আপনার উপর কোন কাফ্‌ফারা বর্তাবে না।তবে সাবধানতাবশতঃ আপনাকে সে রোযাটির কাযা আদায় করতে হবে। সেই সাথে দ্বীনের যেসব বিষয় জানা আপনার জন্য ওয়াজিব ছিল, সে ব্যাপারে অবহেলার জন্য তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে ।

আজানের পূর্বে সালাতু সালাম পাঠ করা জায়েজঃ

আলকোরআন থেকেঃ

পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন,

ان الله ملائكته يصلون على النبى يا ايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما –

অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর ফেরেস্তাগন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি (সদা-সর্বদা) দরুদ পাঠ করে থাকেন। হে ঈমানদারগণ তোমরা ও সেই নবীর প্রতি বেশি বেশি শ্রদ্ধাসহকারে দুরুদ (সালাত ও সালাম) পাঠকর। (সূরাহ আহযাব, আয়াত নং- ৫৬)

দুরদ অর্থ হচ্ছে অনুগ্রহ, কল্যাণ প্রার্থনা করা।

আলহাদিস থেকেঃ 

Note: → 
কুরআন  হাদিসে দুরুদ শরীফ বেশি বেশি পড়ার কথা বলা হয়েছে। তাই যেসব সময় দুরুদ পড়া নিষিদ্ধ (নিচে সর্বজন স্বীকৃত ফতোয়ার কিতাব দ্বারা আলোচনা করা হয়েছেতা ব্যতীত সারাদিন দুরুদ পড়া জায়েজই নয় বরং সর্বোত্তম। 

দলীল নং- ০১:

Ubayy bin Ka‘b narrated: I said, “O Allah’s Messenger, I invoke blessings upon you very frequently. How much of my supplication should I devote to you?” He said, “As much as you like.” I said, “May it be a quarter?” He said, “As much as you like, but if you make an increase in that it would be better for you.” I said, “May it be a half?” He said, “As much as you like, but in case you make an increase in it that would be better for you.” I said, “May these be two thirds?” He said, “As much as you like but if you make an increase in it, it would be better.” I said, “May I devote the whole of my supplication to you (that I make in my prayer)?” Thereupon he said, “In that case you would be free from care and your sins would be forgiven.

শেষ অংশের অনুবাদঃ

দোজাহানের কান্ডারী রাহমাতুল্লিল আলামীনের প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উবাই ইবনে কা’আব (রাঃ) আল্লাহর হাবীবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ

اجعل لك صلواتى كلها قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا يكفي همك و يغفر لك ذنبك  –

অর্থাৎ (লম্বা হাদিস এর শেষ অংশ)….ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি কি আপনার প্রতি সব সময় দুরুদ পাঠ করতে পারি? তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেন তাহলে তো তোমার চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্য ইহাই যথেষ্ট হবে এবং তোমার সকল পাপ ও ক্ষমা করা হবে।

Reference

►Tirmidhi has graded it hasan (fair) and saheeh (sound) in his al-Jami‘-us-saheeh, b. of sifat-ul-qiyamah (description of Doomsday) ch.23, (4: 637 # 2457)

দলীল নং- ০২:

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول . ثم صلوا علي الخ  –

অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্নিত তিনি বলেন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নবুয়াতী জবানে ইরশাদ করেন- ‘যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে তখন তোমরা তাই বলো যা মুয়াজ্জিন বলবে। অতঃপর (যখন আযান শেষ হবে) তোমরা আমি নবীর প্রতি (দো’আ করার পূর্বে) দরুদ পাঠ করো, যে ব্যক্তি আমার উপর ১ বার দুরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তার জন্য ১০টি নেকী (কল্যাণ) দান করবেন।

References

►Muslim, as-Saheeh, b. of salat (prayer) ch.7 (1: 288-9 # 384)
►Abu Dawood, Sunan, b. of salāt (prayer) 1: 144 (# 523)
►Tirmidhi, al-Jami‘-us-saheeh, b. of manaqib (virtues and merits of the Prophet and his companions) ch.1 (5: 586-7 # 3614)
►Nasai Sunan, b. of adhān (the call to prayer) 2: 25-6
►Ahmad bin Hambal, Musnad (2:168)
►Ibn Khuzaymah, as-Saheeh, 1: 219 (# 418)
►Muhammad Khateeb Tabraizi, Mishkat-ul-Masabeeh, b. of salat (prayer) ch.5 (1: 215 # 657)
►Husayn bin Masood Baghawi, Sharh-us-sunnah, 2: 284-5 (# 421)
►Ala’-ud-Din ‘Ali, Kanz-ul-‘Ummal, 7: 700 (# 20998)

ফতোয়া থেকেঃ

দলীল নং- ০১:

জগত বিখ্যাত ফাতাওয়ার কিতাব ফাতাওয়ায়ে শামীর মধ্যে বর্নিত আছে

ومستحبة فى كل اوقات الامكان اى حيث لا مانع

অর্থাৎ নিষিদ্ধ স্থান ও সময় ব্যতীত অন্য যে কোন মুহুর্তে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্থাহাব।  এখন প্রশ্ন হবে কোন কোন স্থানে দরুদ ও সালাম পাঠ করা নিষেধ? তার জবাবে  আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রাহঃ) ঐ (শামী) কিতাবের একই পৃষ্ঠায় একটু অগ্রসর হয়ে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বর্ননা করেছেন

تكره الصلاة عليه صلى الله عليه و سلم فى سبعة مواضع .

অর্থাৎ সাত স্থানে আল্লাহর হাবীরের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা নিষেধ। তাছাড়া অন্য সবক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় পাঠ করা মুস্তাহাব। নিষিদ্ধ স্থান সমূহ নিম্মরূপঃ-

(১) স্বামী-স্ত্রীর মিলন কালে।
(২) প্রশ্রাব-পায়খানার সময়।
(৩) ব্যবসায়ী সামগ্রী প্রচারার্থে।
(৪) হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার সময়।
(৫) আশ্চার্যজনক কোন ঘটনা শ্রবনকালে।
(৬) জবেহ করার সময়।
(৭) এবং হাঁছি দেওয়ার সময়।

দলীল নং- ০২:

মক্কা শরীফের ফাতাওয়ার কিতাব ইয়ানাতুত তালেবীন যা লিখেছেন আল্লামা বিক্রী (রাহঃ) যিনি ছিলেন মক্কা শরীফের একজন প্রসিদ্ধ মুফতী। তিনি তার কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ

قال الشيخ الكبير البكرى انها تسن قبلهما اى الصلوة على النبى  صلى الله عليه و سلم قبل الاذان والاقامة . –

অর্থাৎ তিনি বলেন আযান এবং ইকামাত উভয়ের পূর্বেই দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।

দলীল নং- ০৩:

আল্লামা ইমাম কাজী আয়াজ (রাহঃ) রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করতে গিয়ে ইরশাদ করেছেনঃ

ومن مواطن الصلاة عليه  صلى الله عليه و سلم  عند ذكره و سماع اسمه او كتابته او عند الاذان

অর্থাৎ দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব ওয়াক্ত সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আলোচনা কালে, তাঁর নাম মোবারক শ্রবনকালে ও লিখার সময় এবং আযানের পূর্বে।  এখানে عند(ইন্দা) শব্দের অর্থ হলো পূর্বে।

দলীল নং- ০৪:

তাফসীরে রুহুল বয়ানের লিখক বিশ্ব বিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা ঈসমাইল হাক্কী (রাহঃ) সূরাহ আহযাবের ৫৬নং আয়াতের ব্যাখায় দরুদ ও সালাম পাঠের মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করতে গিয়ে তিনি বলেনঃ
عند الابتداء كل امر ذى بال
অর্থাৎ প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ ও ভাল কাজ শুরু করার পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।

**আযানের আগে সালাতু সালাম পড়া যে বৈধ, যে সব কিতাবে রয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো ৷ ।.১,দুররুল মুখতার:১/৭৮পৃ: কিতাবুত তাহারাত
৷২,ইমাম তিরমিযী: আস সুনান: ৪/১৯২পৃ:হাদীস:১৭২৬
৷৩,আবূ দাউদ বাবুল আযান,১/৭৭পৃ
৷৪,ফতোয়ায়ে শামী:১/৩৮৩পৃ: ৷
৫,জালাউল ইফহাম:২৫২পৃ: ৷
৬,আললামা মোললা আলীকারী:শরহে শিফা:২/১০৭পৃ:,বৈরুত৷
৭,ফতহুল বারী শরহে বুখারী:৮/৭১২পৃ: ৷
৮,তাফসীরে ইবনে কাসীর:৪/৫২৫পৃ৷
৯,নাসাঈ:১/২৪৮পৃ: ৷
১০,শিফা শরীফ:২/৪৩পৃ,বৈরুত ৷

# যারা সালাতু সালাম হারাম বলেন,
,তাদের কে বলবো আপনারা হারামের একটি দলীল দেখান তো?না জেনে হারাম বলা এটা আপনাদের স্বভাব ৷
আযানের পূর্বে সালাম:আযানের আগে ও পরে দরুদ শরীফ পড়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি? ।আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতে, আযানের আগে ও পরে সালাতুস সালাম বা দরুদ সালাম পাঠকরা খুবই উত্তম ও নেকির কাজ ।
পক্ষান্তরে অন্যান্য ফেরকার মতে তা বিদাত ও খারাপ কাজ। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কি এ বিষয়ে আলোচনা প্রদত্ত হল।
১ . প্রথমে আযানের পরে দুরুদ নিয়ে আলোচনা করি।

.ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦﺍﻟﻌﺎﺹ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪﺻﻠﻌﻢ ﺍﺫﺍ ﺍﺳﻤﻌﺘﻢ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥﻓﻘﻮﻟﻮﺍ ﻣﺜﻞ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﺛﻢ ﺻﻠﻮﺍﻋﻠﻲ ﺻﻠﻮﺓ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﻬﺎﻋﺸﺮﺍহযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমরইবনে আস রঃ হতে বর্ণিত,,
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,,
হে মুসলমানেরা যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন তার অনুরূপ শব্দ তোমরাও বলবে। অতঃপর যখন আযান শেষ হবে আমার উপর দরুদ পাঠ করবে।
সুতরাং যে আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে তাকে আল্লাহ ১০টি নেকী বা প্রতিদান দান করবেন।
[[ সহিহ মুসলিম, মেশকাত শরীফ,বাবুল আযান, পৃষ্ঠা ৬৩]]
হাদিসখানা প্রথমত মুসলিম শরীফের হাদিস, দ্বিতীয়ত স্পষ্ট আযানের পর দরুদের কথা উল্লেখ আছে।
একবার চিন্তা করুন মানুষ কত বড় নিমুক হারাম হলে আযানে দরুদকে অস্বীকার করে
??
ওহাবি মসজিদ গুলো দেখুন আযানের আগে তো দূরের কথা আযানের পরেও দরুদ পড়েনা।
এর দ্বারা বোঝা যায় ওহাবিদের নিকট প্রমাণ উদ্যেশ্য নয় মূলত আমার নবীর দরুদকে প্রতিরোধ করাই তাদের উদ্যেশ্য।
২. আযানের আগে দরুদ সালাম ।
প্রথমে ওহাবিদেরএকটা অভিযোগের জবাব দিই।তাদের অভিযোগ হল আযানের সাথে দরুদ পড়া মূলত আযানের শব্দ বৃদ্ধি করা।সুতরাং এটা হারাম।
তাদের জবাবে নিম্নুক্ত হাদিসই যথেষ্ট।
দলীল ১.
ﻋﻦ ﺑﻼﻝ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪﺻﻠﻌﻢ ﻻ ﺗﺜﻮﺑﻦ ﻓﻲ ﺷﻴﺊ ﻣﻦﺍﻻﺻﻠﻮﺍﺕ ﺍﻻ ﻓﻲ ﺻﻠﻮﺍﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮﻋﻦ ﺑﻼﻝ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪﺻﻠﻌﻢ ﻻ ﺗﺜﻮﺑﻦ ﻓﻲ ﺷﻴﺊ ﻣﻦﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺍﻻ ﻓﻲ ﺻﻠﻮﺍﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮহযরত বেলাল রঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন,,
একদা আমাকে রাসুল দঃ এরশাদ করেছেন কেবল ফযরের নামাজের পূর্বে তাছবিব বা সতর্কবাণী ঘোষণা কর।
[[ ঈবনে মাজাহ,তিরমীজি, মিশকাত শরীফখণ্ড ১, পৃষ্টা ৬৩.]]
এই হাদিস দ্বারা শুধু
ফজরের নামাজে তাসবিব
প্রমানিত হল
পরবর্তিতে মুতাআখখিরিন আলেমগন এটাকে সব আযানের আগে পড়া উত্তম বলেছেন।

এখন আপনাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন আপনারা যে কুরআন তেলাওয়াতের পর “ছদাকাল লাহুল আজিম”পড়েন
এটা আপনাদের দলিল মতে কোরানের আয়াতের বৃদ্ধি নয়
?
যদি তা না হয় তাহলে আযানে..!
দরুদ পড়লে তা কেন বৃদ্ধি হবে?b
দলীল ২
ﻭ ﻛﺬﺍﻟﻚ ﺗﺠﺐ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻓﻲ ﻛﻞﺩﻋﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻭﻟﻪ ﻭﺍﺧﺮﻩঅর্থঃ প্রত্যেক দোয়ার আগে ও পরে দরুদ শরিফ পাঠ করা হল ওয়াজিব।
[তাফসিরে রুহুল বয়ান খণ্ড,৭. পৃষ্ঠা ২২৭.]

আর আযানের আভিধানিক ও পারিভাষিকঅর্থ হল দোয়া।
সুতরাং আযানের আগে ও পরে দরুদ পড়া উত্তমকাজ।
দলীল ৩
বনি নাজজার গোত্রের জৈনক মহিলা ওনার বাড়ী মসজিদে নববীর
পাশে ছিল।

তিনি বর্ণনা করেন আল্লাহর শপথ হযরত বিলাল রঃ প্রত্যহ ফজরের আযানের পূর্বে এইদোয়াটা পড়তেনﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻧﻲ ﺍﺣﻤﺪﻙ ﻭﺍﺳﺘﻌﻴﻨﻚﻋﻠﻲ ﻗﺮﻳﺶ ﺍﻥ ﻳﻘﻴﻤﻮﺏ ﺩﻳﻨﻚ ঐ সাহাবী আরো বলেন,,
আমি কখনো দেখি নাই যে তিনি এই দোয়াটা ছাড়া কখনো আযান শুরু করেছেন।
[# আবু দাউদ শরীফ ১ম খণ্ড ,# বজলুল মাঝহুদ (আবু দাউদেরশরাহ) খণ্ড ১.পৃঃ ২৯৮.# বায়হাকি খণ্ড১ ,পৃষ্ঠা ৪২৫.]

সুতরাং প্রমাণ হল আযানের আগে দোয়া পাঠ করা জায়েয।
আর দরুদ হল এক প্রকার দোয়া।
দলীল ৪
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻌﻢ ﻣﻦ ﺳﻦﻓﻲ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﺳﻨﺔ ﺣﺴﻨﺔ ﻓﻠﻪ ﺍﺝﺍﺟﺮﻫﺎ ﻭﺍﻻﺟﺮ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺑﻬﺎঅর্থঃ
যে ব্যক্তি ইসলামে একটা সুন্দর ও উত্তম প্রথা আবিষ্কার করল বা চালু করল তার জন্য উত্তম প্রতিদান আছে এবং যারা তার উপর আমল করবে তাদের জন্যও উত্তম প্রতিদান আছে।[সহিহ
মুসলিম,মেশকাত শরীফ পৃষ্টা ৩৩.]

আলহামদুলিল্লাহ আযানের আগে দরুদ শরীফ কতইনা উত্তম প্রথা ।তাহলে আপনাদের আপত্তি কেন? জবাব দেন। জবাব হল আপনারা দরুদ শরীফের শত্রু।
তা নাহলে দরুদের কথা শুনলে আপনাদের অন্তরজ্বলে কেন
?
দলীল ৫
ﺍﻥﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣﻼﺀﻛﺘﻪ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻨﺒﻲﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻴﻪﻭﺳﻠﻤﻮﺍ ﺗﺴﻠﻴﻤﺎনিশ্চয়ই আল্লাহ ও
তার ফেরেস্তাগণ নবী দঃ এর ঊপর দরুদ পড়েন, হে ঈমানদারগণ তোমরাও তার উপর দরুদ ও সালাম পড়।(আল কোরআন)
অত্র আয়াতের তাফসীরে বলা হয় মাকরুহ সময় বাদে সর্বদা দরুদ পড়া জায়েয ।
তাহলে আযানের আগে নাজায়েয হবে কেন ?
দলীল ৬
কোন কিছু হারাম প্রমাণ করতে তার জন্য হারামের দলিল লাগে কেননা শরীয়তের বিধান হল-ﺍﺻﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺍﻻﺑﺎﺣﺔঅর্থাৎ প্রত্যেক বস্তুই মূলত বৈধ থাকে।
পরবর্তী ফরযের দলিল থাকলে ফরয হয়,সুন্নাতের দলিল থাকলে সুন্নাত হয়,আর হারামের দলিল থাকলে হারাম
হয়।আর কোন দলিলনা থাকলে বৈধ হয়।
এখন আপনারা একটা দলিল দেখান যেখানে আযানের আগে দরুদ হারাম বলা হয়েছে।
তাহলে আপনারা কিসের ভিত্তিতে হারাম বলেন?
আপনারা কি মানুষ না জানোয়ার?
রাসূল সঃ এর দরুদ পড়লে তো খারাপ লাগে শয়তানের তাহলে আপনাদের কেন খারাপ

আযানের আগে ও পরে সালাত-ছালাম (দরূদ শরীফ) পাঠ করা জায়েজ

কোরআন হাদিসের আলোকে
আযানের আগে পরে সালাতছালাম (দরূদ শরীফ) পাঠ করা জায়েজ

নিঃসন্দেহে পাচ ওয়াক্ত আযানের আগে ও পরে সালাত ও ছালাম (দরূদ শরীফ) পাঠ করা জায়েজ। এসব নিয়ম-নীতি পূর্বে হতে এতদ্বেশে প্রচলিত ছিল না। অনুরূপভাবে ইসলামরে বেশ কিছু নিয়ম-নীতিরও প্রচলন ছিল না। পরবর্তীকালে ওলামায়ে আহলে সুন্নাহ এবং আউলিয়া কেরামগণের মাধ্যমে এসব নিয়ম নীতির প্রচলন হয়েছে। মূলত ঐ সমস্ত নিয়ম-নীতি ৭৮১ হিজরী হতে ১১৫০ হিজরী পযর্ন্ত শরীয়ত সম্মত ও কোরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ছিল। আজ হতে দীর্ঘ ৮০০ বছর পূর্বেও আরবসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আযানের আগে দরূদ শরীফ পাঠের প্রচলন ছিল। ইরাক, মিশর তুরস্কসহ মধ্যে প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এই উত্তম প্রথা প্রচলন ছিল এবং আছে বর্তমানে তা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচলন আছে। ১১৫০ হিজরী হতে সৌদি আরবে ওয়াহাবী ফেরকার আর্বিভাবের পর হতে সেখানে সালাত ও ছালাম দরূদ শরীফ পাঠ করা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ যদি এটাকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফের হবে। দরূর শরীফ একটি অতি মহা মূল্যবান আমল। যার কারণে মুমিন বান্দার যাবতীয় ইবাদত কবুল হয়। নিষিদ্ধ সময় ছাড়া সব সময় দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েজ। এমনকি আল্লাহ তা‘য়ালার নৈকট্য লাভের সহজ মাধ্যম। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন-

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থ : হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ কর। এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা ঈমানদারদের উপর মহান আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে আদেশ। এছাড়াও ফতোয়ায়ে শামীতে উল্লেখ আছে- “মোস্তাহাব্বাতুল ফি আওকাতি ইল্লা মা কানা আয়া লা মাআনা” অর্থাৎ নিষিদ্ধ সময় ছাড়া সর্ববস্থায় দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েজ। এ ব্যাপারে হযরত মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর উক্তিটি হলো- তিনি বলেন আমি যদি আল্লাহর জিকির সংক্রান্ত আদেশ না পেতাম তাহলে আমি দয়াল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর দরূদ শরীফ কে সকল ইবাদত হিসেবে মনে করতাম। নিম্মে এ ব্যাপারে বিজ্ঞ পাঠক মহলের নিকট দলিল তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি।

দলিল
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আহমাদুকা ওয়াছতাইনুকা আলা কুরাইশি আইয়ু কীমু দ্বীনিকা” এবং বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এই দোয়া পাঠ করে তার পর আযান দিতেন। (আবু দাউদ শরীফ) এই দোয়া পাঠ করতে তিনি কোনো দিন ভুলতেন না। তাহলে প্রমাণিত হলো যে, আযানে আগে সালাতু ছালাম (দরূদ শরীফ) পাঠ করা হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর তরিকা। ইসলামের প্রথম মোয়াজ্জিন হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কর্তৃক পঠিত আযানের আগে দোয়া পাঠ করা যদি জায়েজ হয়। তাহলে সর্ব শ্রেষ্ঠ দোয়া দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে যারা প্রশ্ন করে এটা বোকামী নামান্ত মাত্র ।

দলিল -০২ : বিশ্ব বিখ্যাত ফক্বিহ হযরত শেখ কবির বিকরি রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু বলেন,আযানের আগে দরুদ শরীফ পাঠ করা সুন্নত। (ইয়ানাতুত তালেবীন পৃষ্ঠা :২৩৬)

দলিল কিতাবুল ফিকহ আলাল মাজহিবিল আরবায়া নামক কিতাবের প্রথম খন্ডের ৩২৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে যে, “আসালাতু আলাল্লানাবী কাবলাল আযান” শিরোনামের আলাদা একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। এতে আযানের আগে সালাতু সালাম (দরূদ শরীফ পাঠ করা হাদিস শরীফ এবং চার মাযহাব অনুযায়ী জায়েজ এবং উত্তম বলে প্রমাণ করেছেন)।

দলিল -০৪ : নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত অন্য যে কোন সময় সালাত ও ছালাম পাঠ করা মুস্তাহাব। যেমন সর্বজন স্বীকৃত সুবিখ্যাত শামী কিতাবের ১ম খন্ডে বর্ণিত আছে যে,

ومستحبة فى كل اوقات الامكان اى حيث لامانع

অর্থাৎ নিষিদ্ধ স্থান ও সময় ব্যতীত যে কোন সম্ভাব্য মুহুর্তে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত ও ছালাম পাঠ করা মুস্তাহাব। সুতরাং তাহা সর্বসম্মতি ক্রমে জায়েজ। আর আযানের আগে সালাতু সালাম দরূদ শরীফ পাঠ করা সুন্নত হওয়ার অসংখ্য দলিল প্রমাণ রয়েছে।

দলিল

قال الشيخ الكبير البكرى انها تسن قبلهما اى الصلواة على النبى صلى الله عليه وسلم قبل الاذان والاقامة-

অর্থাৎ : বিখ্যাত ফকিহ শেখ কবির বিকরী মক্কী (রহ:) বলেন যে, আযান ও ইকামতের পূর্বে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত ও ছালাম পাঠ করা মসনুন ও মুস্তাহাব। (ইয়ানাতুত তালেবীন ১ম খন্ড ২৩১ পৃষ্ঠা)

দলিল -০৬ : সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ মুফতি আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ প্রণীত “ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি শরয়ী হাইছিয়ত” পুস্তকে আযানের আগে সালাতু সালাম (দরূদ শরীফ ) পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্বাদা লিখিছেন।

দলিল -০৭ : দারুল উলুম দেওবন্দী তাফসির বিভাগের উস্তাদ ছাইয়েদ হাসান প্রনীত “ফাজায়েলে দরূদ ও সালাম” কিতাবের ৮৮ পৃষ্ঠায় লিখিছেন, আযানের আগে সালাতু সালাম দরূদ শরীফ পাঠ করা উত্তম বলেছেন।

দলিল -০৮ : সুবিখ্যাত সাহাবী হযরত উবাই বিন কা‘আব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
اجعل لك صلواتى كلها قال اذا يكفى همك ويغفر لك ذنبك-
হে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করাকে সর্বদার জন্য অপরিহার্য মনে করে নিলাম। তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তো আমার চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্য উহাই যথেষ্ঠ হবে এবং তোমার সকল পাপও ক্ষামা করা হবে। সুতরাং এতে প্রমাণিত হল যে, কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকলে সালাত ও ছালাম পাঠ করা উত্তম। আর আযানের পূর্ব মূহুর্ত নিষিদ্ধ সময় নহে। কাজেই ঐ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েজ।

♦আযানের আগে ও পরে দরুদ ও সালাম (সালাতু-সালাম) পড়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি?-১ম পর্ব

★১. মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা আহজাবের ৫৬ নং আয়াতে ইরশাদ করেনঃ

ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣﻼﺋﻜﺘﻪ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ . ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺁﻣﻨﻮﺍ ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻤﻮﺍ ﺗﺴﻠﻴﻤﺎ .

“নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেস্তাগন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর প্রতি (সদা-সর্বদা) দরুদ পাঠ করে থাকেন।হে ঈমানদারগণ তোমরা ও সেই নবীর প্রতি বেশি বেশি শ্রদ্ধাসহকারে দরুদ (সালাত ও সালাম) পাঠ কর।”

লক্ষ্য করুন: অত্র আয়াতে কারীমায় দরুদ ও সালাম পাঠ করাকে কোন নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়নি বিধায় নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত অন্য যে কোন মুহুর্তে নবীজীর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য বৈধ ও কর্তব্য।

রাসুলুল্লাহ ﷺ এঁর প্রিয় সাহাবী ইবনে
আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) সূরা আহজাবের ৫৬ নং আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ
ﺍﺛﻨﻮﺍ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﻰ ﺻﻼﺗﻜﻢ ﻭﻓﻰ ﻣﺴﺎﺟﺪﻛﻢ ﻭﻓﻰ ﻛﻞ ﻣﻮﻃﻦ .
“তোমরা হুজুর পাক ﷺ এঁর উপর তোমাদের নামাজ,মসজিদে এবং সর্বাবস্থায় দরুদ সালামের মাধ্যমে প্রশংসা কর! ”
[জালাউল আফহাম,১/৪২২ দারূল উরুবাত-কুয়েত]হানাফী মাজহাবের অন্যতম ফকীহ, ইমাম মোল্লা আলী কারী (রহঃ) বলেনঃﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﻢ ﻳﻮﻗﺖ ﺫﺍﻟﻚ ﻟﻴﺸﻤﻞ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻻﻭﻗﺎﺕ
“আল্লাহ তায়ালা এখানে কোন নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি।বরং সকল সময় (দরুদ পাঠকে) অন্তর্ভূক্ত করেছেন।”[শরহুশ শিফাঃ ২/১০৭,দারূল কুতুব ইলমিয়্যাহ – বৈরুত]হানাফী মাজহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রহঃ) বলেনঃ
ﺗﻜﺮﻩ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺓ ﻋﻠﻴﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻰ ﺳﺒﻌﺔ ﻣﻮﺍﺿﻊ : ﺍﻟﺠﻤﺎﻉ , ﻭﺣﺎﺟﺔ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ , ﻭﺷﻬﺮﺓ ﺍﻟﻤﺒﻴﻊ ﻭﺍﻟﻌﺸﺮﺓ , ﻭﺍﻟﺘﻌﺠﺐ ,ﻭﺍﻟﺬﺑﺢ , ﻭﺍﻟﻌﻄﺎﺱ .

সাত অবস্থায় নবী কারিম ﷺ এঁর উপর দরুদ ও সালাম পড়া মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।

*১. স্ত্রী সহবাসকালে
*২.পেশাব পায়খানার সময়
*৩. ব্যবসার মাল চালু করার সময়
*৪. হোছট খাওয়ার সময়
*৫. আশ্চর্যজনক সংবাদ শ্রবণের সময়
*৬. যবেহ করার সময়
*৭. হাঁচি দেওয়ার সময়
[ফতোয়ায়ে শামী,১/৩৮৩ পৃষ্টা]

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *